মাঘের শীতে বাঘ পালায় : এম আব্দুল হালীম বাচ্চু

Printed Edition
মাঘের শীতে বাঘ পালায় : এম আব্দুল হালীম বাচ্চু
মাঘের শীতে বাঘ পালায় : এম আব্দুল হালীম বাচ্চু

মাঘ মাস এলেই শীতের রাজত্ব শুরু হয়। হিমেল হাওয়া এমনভাবে বইতে থাকে, গাছের পাতারাও যেন কাঁপতে কাঁপতে বলে ওঠে- ‘আর পারছি না!’

এই মাঘেই ঘটল এক মজার ঘটনা।

খিদিরগ্রামের গভীর জঙ্গলের রাজা ছিল বাঘ মামা। সারা বছর সে গর্জে বেড়াত, সবাইকে ভয় দেখাত। খরগোশ দেখলেই ধমক দিত, বানর দেখলেই তাড়া করত, আর হরিণ তো বাঘের নাম শুনেই দৌড়! বাঘ মামা ভাবত, ‘আমি রাজা, আমাকে কে ঠেকায়?’

কিন্তু মাঘের শীত আসতেই বাঘ মামার অবস্থা খুব কাহিল পড়ে! ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে সে গর্জন দিতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল- ‘হাচ্ছুঁউউ!’ একটা বিশাল হাঁচি! লেজ কাঁপে, দাঁত কটরমটর করে বাজে, গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। বাঘ মামা বলল, ‘এমন শীত তো কোনো দিন দেখিনি! এই জঙ্গলে থাকলে তো আমার গর্জনই জমে বরফ হয়ে যাবে!’

সে তখন কাঁপতে কাঁপতে আগুন খুঁজতে বের হলো। কিন্তু জঙ্গলে আগুন জ্বালানোর কেউ নেই। হঠাৎ দেখল, খরগোশ, বানর আর কচ্ছপ গোল হয়ে বসে রোদ পোহাচ্ছে। বাঘ মামা গম্ভীর গলায় বলল, ‘এই! তোমরা এখানে কী করছ?’ খরগোশ মুচকি হেসে বলল, ‘রাজামশাই, আমরা রোদ পোহাচ্ছি। শীতে রোদ খুব দরকার।’ বাঘ মামা একটু লজ্জা পেয়ে বলল, ‘আচ্ছা- আমিও কি একটু বসতে পারি?’

সবাই অবাক! যে বাঘ সারাবছর ভয় দেখায়, সে আজ অনুমতি চাইছে! বানর হেসে বলল, ‘বসো রাজামশাই, শীতের সময় সবাই সমান।’

কচ্ছপ তখন বলল, ‘শুধু শক্তি থাকলেই রাজা হওয়া যায় না, বুদ্ধি আর নম্রতাও লাগে।’ বাঘ মামা কিছু বলল না। রোদ পোহাতে পোহাতে তার শরীর গরম হলো, মনটাও নরম হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা আর সহযোগিতা মাধ্যমেই শান্তি পাওয়া যায়।

কিছু দিন পর শীত আরো বাড়ল। বাঘ মামা আর জঙ্গলে থাকতে পারল না। সে কাদিয়ানি পাহাড়ের নিচে রোদেলা জায়গায় চলে গেল। যাওয়ার সময় সে বলল, ‘বন্ধুরা, আমি পালাচ্ছি না- শীত থেকে বাঁচতে যাচ্ছি। আর কথা দিচ্ছি, ফিরে এসে আর তোমাদের কাউকে ভয় দেখাব না।’ বানর হাত নেড়ে বলল, ‘ঠিক আছে রাজামশাই, ব্যবহারেই রাজা পরিচয় মেলে, তোমার ব্যবহারে আমরা খুব খুশি।’

মাঘ শেষে বসন্ত এলে বাঘ মামা ফিরে এলো। এবার আর গর্জন করল না- হাসিমুখে সবার খবরাখবর নিলো। সাথে সাথে জঙ্গলও হয়ে উঠল আনন্দ ও নিরাপদ জায়গা। শেয়াল সবাইকে বলল, ‘শক্তি দিয়ে সবাইকে ভয় দেখানো গেলেও সম্মান পাওয়া যায় ভালো ব্যবহার, নম্রতা আর বুদ্ধি দিয়ে, আর বিপদে পড়লে রাজাও অন্যের সাহায্য চাইতে শেখে। এমনটিই হওয়া উচিত তাই না?’ এ কথা শুনে উপস্থিত জঙ্গলের সবাই হাততালি দিয়ে শেয়ালের কথায় সমর্থন দিলো।