র‌্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনা হচ্ছে, ব্যয় ১২২ কোটি টাকা

Printed Edition
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি

বিশেষ সংবাদদাতা

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আভিযানিক সমতা বৃদ্ধির ল্েয ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সাথে শেরে বাংলা নগরে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১২ তলায় অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ সভায় মোট সাতটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় দুই হাজার ৯৮৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এর মধ্যে তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২২ কোটি টাকার বেশি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন র‌্যাবের ‘র‌্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যানবাহন ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং

৬০টি এসি মাইক্রোবাস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পায়।

এদিকে, সিঙ্গাপুর থেকে তিন কার্গো এলএনজি ও ইন্দোনেশিয়া থেকে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন আমদানি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় দুই হাজার ৯৮৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এর বাইরে দু’টি পৃথক প্রস্তাবে বেসরকারি দু’টি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ট্যারিফ হার পুনর্নির্ধারণ এবং ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনে পাঁচটি প্যাকেজের পূর্ত কাজের একটি পৃথক ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ভেরিয়েশন প্রস্তাবে ব্যয় বাড়ছে ১০ কোটি ১৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে তিন (চলতি বছরের ২০, ২১ ও ২২তম) কার্গো এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড’ কার্গো তিনটি সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

বৈঠকে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি ‘পিটি ট্রিনিটি কেহইয়া এনার্জি’ এ তেল সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মতা বৃদ্ধি

অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মতা বাড়াতে সাব-স্টেশন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজের তিনটি পৃথক প্যাকেজের তিনটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনটি পৃথক প্যাকেজ কাজের তিনটি পৃথক প্রস্তাবে মোট ব্যয় হবে ২৮৬ কোটি দুই লাখ ১৫ হাজার টাকা।

দুই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ হার পুনর্নির্ধারণ

অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ‘নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড’ কর্তৃক নির্মিত দু’টি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ট্যারিফ হার পুনর্নির্ধারণের দু’টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (ইউনিট-২)’-এর পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ হার হচ্ছে গ্যাসের েেত্র প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ৫.৫৪১ টাকা এবং ডিজেলের েেত্র প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ২৩.৬৯৮ টাকা।

আর ‘ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’-এর পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ হার হচ্ছে গ্যাসের েেত্র প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ৪.৬৫০৩ টাকা এবং ডিজেলের েেত্র প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ২০.৬৯৬৭ টাকা। অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, এ ছাড়া বৈঠকে গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃক রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে তিন বেজমেন্টের একটি ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণে একটি প্যাকেজ কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ কাজটি পেয়েছে ‘কুশলী নির্মাতা লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।