পদ্মার বুকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বদলে যেতে পারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতি

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
Printed Edition
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প : নয়া দিগন্ত
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প : নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের অগ্রগতির খবরে আশান্বিত হয়ে উঠছেন এ অঞ্চলের মানুষ। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুর ও পাবনার ঈশ্বরদী পয়েন্টে বহুল আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা এ অঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। তাদের আশা, এ প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও জীবনযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এতে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সাথে নদীতে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা বালুচরে পরিণত হয়। সেই সাথে গড়াই নদীসহ পদ্মার বিভিন্ন শাখা নদীর নাব্যতা কমে যায়। তাদের বিশ্বাস, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকায় আবারো পানির প্রবাহ বাড়বে এবং কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি ফিরে আসবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে শুধু কৃষিই নয়, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পদ্মার ওপর নির্মিত বিশাল অবকাঠামো এবং সম্ভাব্য চার লেনের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করবে। পাশাপাশি এটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে, যা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানিপ্রবাহ বাড়লে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে লবণাক্ততার প্রভাবও কমে আসবে। এতে কৃষি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশক থেকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি ওঠে। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে গেলে বিষয়টি আরো গুরুত্ব পায়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বহু বছরের দাবি বাস্তবায়িত হলে পদ্মা ব্যারাজ শুধু একটি প্রকল্পই হবে না, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন প্রতীক হয়ে উঠবে।