স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেপ্টেম্বর অক্টোবরে শুরু : মির্জা ফখরুল

উপজেলায় এমপিদের অফিসের জন্য বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে জামালপুর-৩ আসনের সদস্য মো: মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাজেটের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

তিনি জানান, নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত ব্যয় নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করবে।

উপজেলায় এমপিদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’, বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা : সংসদ সদস্যদের (এমপি) অফিসের জন্য উপজেলা প্রতি ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। জাতীয় সংসদে লিখিত অপর এক প্রশ্নে তিনি এ তথ্য জানান। গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সার মন্ত্রীর কাছে লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, দেশের সব সংসদ সদস্যদের দাফতরিক যোগাযোগের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে পৃথকভাবে কার্যালয় নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? থাকলে কবে নাগাদ করা হবে ?

জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ সব ঊর্ধ্বতন কর্মচারীদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সংসদ সদস্যদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় বসার জায়গা করে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এনসিপির আতিকুর রহমান। এরপর গত ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানিয়েছিলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা পরিষদে ‘বসার জায়গা’ করে দিচ্ছে সরকার। এই তথ্য জেনে ওইদিনই এমপিদেও শুল্কমুক্ত গাড়ি না নিয়ে উপজেলায় অফিস চেয়েছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম শিল্পখাতের বর্তমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় : বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের চাহিদার মধ্যে একটি স্পষ্ট স্কিল গ্যাপ বিদ্যমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

গতকাল জাতীয় সংসদে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: গোলাম রছুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। লিখিত প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, এটি সত্য কি না যে, পরিবর্তনশীল শিল্প খাতের (যেমন আইটি, আধুনিক কৃষি ও ম্যানুফ্যাকচারিং) চাহিদার সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়হীনতার কারণে উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্বের শিকার হচ্ছে।

জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম শিল্পখাতের বর্তমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে উচ্চশিক্ষিত অনেক যুবক প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে উপযুক্ত চাকরি পেতে বিলম্বিত হয় বা বেকার থাকে। তবে বেকারত্বের পেছনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বিনিয়োগের ঘাটতি, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো অন্যান্য কারণও দায়ী।

সংসদ সদস্য মো: গোলাম রছুলের অপর এক প্রশ্ন-‘বর্তমানে দেশের শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুব সমাজের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির মূল কারণগুলো এবং এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকারের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা কী-এমন প্রশ্নর জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বলেন, বেকার যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের আওতায় দেশের সব জেলার বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণদান, প্রশিক্ষণোত্তর আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বীকরণ, যুবঋণ প্রদান, দারিদ্রমোচন ইত্যাদি কর্মসূচি চালু রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশের বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিম্নবর্ণিত প্রকল্প-কর্মসূচি প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ১. দেশের সব মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ২. দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের মোবাইল সার্ভিসিং ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ৩. দেশের সব মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের কেয়ারগিভিং ও বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সব জেলার বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।