শরিফুজ্জামান লোহাগড়া (নড়াইল)
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগরদের দুর্দশা এখন চরমে। খেয়ে না খেয়ে কাটছে এসব ব্যবসায়ী ও কারিগরদের দিন। স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষজন স্বর্ণের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগররা। আগের মতো আর অর্ডার আসছে না। কাজ কমে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন স্বর্ণশিল্পীরা। স্বর্ণ ব্যবসায় দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। বাধ্য হয়েই অনেকে পেশা বদল করছেন।
লোহাগড়া বাজারে স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি দেশে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গয়নার অর্ডার কমে গেছে। উৎসব-অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে এখন আর কেউ স্বর্ণের গয়না দেয়ার কথা ভাবে না। প্রতি ভরি স্বর্ণ (২১ ক্যারেট) বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ৩১ হাজার টাকায়। আর ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ৪২ হাজার টাকায়।
লোহাগড়া উপজেলা জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সজল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল পোদ্দার কালু বলেন, লোহাগড়া বাজারে প্রায় ৪৫টি সোনার দোকানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। আগে যেখানে বিয়ে-শাদিতে কমপক্ষে পাঁচ ভরির মধ্যে গয়না তৈরি করতো, এখন তা দুই থেকে আড়াই ভরিতে নেমে এসেছে।
লোহাগড়া বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে উপহার দেয়ার জন্য রেডিমেড আংটি, চেইন, কানের দুল স্বর্ণের দোকানগুলোয় বিক্রি হতো। সোনার দাম বাড়ার কারণে সেসবের বিক্রিও কমে গেছে। তাছাড়া সিটি গোল্ডের গয়নাতে এসেছে নতুনত্ব ও চমক। চোখধাঁধানো ডিজাইন অনেক ক্ষেত্রে স্বর্ণের গয়নাকে হার মানাচ্ছে।
কারিগর দেবাশীষ স্বর্ণকার, কাড়ালপাড়ার বকুল বিশ্বাস, দিঘলিয়ার প্রবীর রায়, বসুপটি গ্রামের পংকজ বিশ্বাস বলেন, কাজ কমে যাওয়ায় আয় রোজগার কমে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। এভাবে চলতে থাকলে এ পেশার মানুষজন পেশা বদল করতে বাধ্য হবে।



