ক্রীড়া প্রতিবেদক
৫ জুন সান মেরিনোর সাথে বাংলাদেশের ফিফা প্রীতিম্যাচ। একই সময়ে মালদ্বীপের টুর্নামেন্টেও অংশ নেবে বাংলাদেশ। তাই গতকাল সবার দৃষ্টি ছিল ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভার দিকে। কে হবেন হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের পরবর্তী কোচ। তবে ফর্টিস ডাউন টাউন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভায় চূড়ান্ত হয়নি জাতীয় দলের কোচ। এমনকি গোলরক্ষক কোচের নামও। কমিটির সভায় হেড কোচের ২০ জনের তালিকা থেকে এই সংখ্যা ১০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর এই ১০ জন থেকে একজনের নাম ঘোষণা করা হবে তিন দিন পর। সভা শেষে জানান বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু। সেই সাথে সিদ্ধান্ত সানমেরিনোর মতো মালদ্বীপেও বাংলাদেশ জাতীয় দল পাঠানো হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অনূর্ধ্ব-২৩ দল নয়। ফলে ২০০৭ সালের পর ফের এক সাথে বাংলাদেশের দু’টি জাতীয় দল এবার দেশের বাইরে যাচ্ছে।
ন্যাশনাল টিমস কমিটির অন্যতম সদস্য শাহাদাৎ হোসেন। যিনি ফর্টিস এফসির সাবেক সভাপতি। মিটিং শেষে পরিবেশ সচেতন এই ক্রীড়া পাগল ব্যক্তি বলেন, মালদ্বীপ বারবার অনুরোধ করেছিল আমরা যেন মূল জাতীয় দল পাঠাই। তাই আমরা একসাথে দুই জাতীয় দল পাঠাচ্ছি। একটি যাবে সানমেরিনোতে। অপরটি মালদ্বীপে। তবে হামজারা সানমেরিনোর বিপক্ষেই খেলবেন। তার মতে, আমরা অনেক হাই প্রোফাইল কোচের বায়োডাটা পেয়েছিল। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া ইত্যাদি দেশের। এখন এখান থেকে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। সে সাথে এখন অনেক ইউরোপিয়ান দেশ আমাদের সাথে ফিফা প্রীতিম্যাচ খেলতে চায়। তাই আমরা যদি সানমেরিনোর বিপক্ষে ভালো করতে পারি তাহলে আরো অফার পাবো।
হেড কোচ চূড়ান্ত হওয়ার পর বাকি কোচিং স্টাফরা মনোনীত হবেন। হেড কোচই বাকি কোচিং স্টাফ এবং গোলরক্ষক কোচ ফাইনাল করবেন। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে মূল সমস্যা দাঁড়িয়েছে বেতন। যে কারণে গতকাল চূড়ান্ত হয়নি কোচ। শুধু ১০ জনের তালিকার কথা ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্যদের জানানো হলো। এখন অনলাইনে এই ১০ জনের সাথে কথা বলা হবে। এরপর বেতন নিয়ে যার সাথেই দুইয়ে দুইয়ে মিলে চার হয়ে যাবে তাকেই দেয়া হবে বাংলাদেশ দলের পরবর্তী দায়িত্ব।
সানমেরিনোর মতো মালদ্বীপের জাতীয় দল পাঠানো প্রসঙ্গে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দেশে এখন প্রচুর খেলোয়াড়। সাইড লাইনেও ভালো খেলোয়াড়রা বসে থাকে। ঘরোয়া লিগও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। তাই একসাথে দুই জাতীয় দল গঠনে খেলোয়াড় সঙ্কট হবে না। সে সাথে জাতীয় দল চূড়ান্ত হলে এ বাদ পড়ল ও বাদ পড়ল এ নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয় তা দূর হবে।
উল্লেখ্য, আশির দশকে প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে একই সাথে লাল ও সবুজ দল খেলতো জাতীয় দলের ব্যানারে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও বাংলাদেশের দুই দল খেলেছিল একবার। তবে দেশের বাইরে ২০০৭ সালের পর এবার ফের দুই জাতীয় দল যাচ্ছে। ২০০৭ সালে একটি জাতীয় দল ভারতের নেহরু কাপে এবং অপরটি মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপে খেলতে গিয়েছিল।



