জাতীয় সেমিনারে উলামায়ে কেরাম

ঈমানের দাবি ও দ্বীনের স্বার্থে ঐক্য সমুন্নত রাখতে চায় জামায়াত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

নবীরা মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তারা সদা নিষ্পাপ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ঠিক তেমনি করে রাসুলুল্লাহ সা:-এর সাহাবিদের আদালত বা ন্যায়পরায়নতার নীতি ধারণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঈমানের দাবি ও দ্বীনের স্বার্থে জামায়াত উলামায়ে কেরামের ঐক্য সমুন্নত রাখতে চায়।

গতকাল রাজধানীর কাঁটাবন সেন্টারে উলামা বিভাগ ঢাকা মহানগরী আয়োজিত ‘ইসমতে আম্বিয়া ও আদালতে সাহাবা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সদস্য মুফতি ড. আবুল কালাম আজাদ বাশারের সভাপতিত্বে এবং ড. মুহাদ্দিস মাহমুদুল হাসান এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আজহারীর পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআনিক সায়েন্স অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. বি এম মফিজুর রহমান আল-আজহারী। আরো বক্তৃতা করেন, প্রখ্যাত মুহাদ্দেস মাওলানা ইসমাইল হোসেন, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ঢাকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী, প্রফেসর আ ন ম রশিদ আহমদ আল-মাদানী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার প্রফেসর ড. অলিউল্লাহ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গীর অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান, ড. মতিউল ইসলাম আল-মাদানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. ইউসুফ বিন হুসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাঈন, মুফতি আলী হাসান ওসামা, ড. মীম আতিকুল্লাহ, মাওলানা আ ন ম হেলাল উদ্দিন, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন মাওলানা ফখরুদ্দিন আহমেদ, মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী, মুফতি আহমাদ শরীফ, ড. জাকারিয়া নূর, প্রফেসর সাদেক মো: ইয়াকুব আল-আজহারী, মুফতি মহিউদ্দিন, শায়েখ জামাল উদ্দিন, মাওলানা আ ন ম মইনুদ্দিন সিরাজী, মাওলানা নাসির উদ্দিন হেলালি, মুফতি কামাল উদ্দিন, মুফতি গোলাম কবির আজহারী, মাওলানা জালাল উদ্দিন, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জাতীয় ঐক্যে আলেমদের কোনো বিকল্প নেই। যুগের পর যুগ জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনেক ত্যাগ ও কোরবানির পরিচয় দিয়েছে। যারা আলেমদের নিয়ে সভার নামে সাহাবিদের মানুষ জবাইয়ের হুংকার দেয়, আমরা তার প্রতিবাদ জানাই। শানে রিসালাতের নামে সম্মেলন করে আমাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ প্রচারণা চালানো হয়, অথচ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শানে রাসূলের সিরাতুন্নবী সা: অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আমাদের ভাইয়েরা জুলুমের শিকার হয়েছেন, কেউ কেউ পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি নবীরা আল্লাহর নির্দেশিত বিধানগুলো যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নবীরা সকল ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত, তারা আল্লাহর ওহির মাধ্যমে পরিচালিত ও আমানতদার। অন্য দিকে সাহাবিরা সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারিতার সাথে শতভাগ দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা: তাদেরকে ভালোবেসেছেন। আমরাও তাদেরকে ভালোবাসি, অনুসরণ করি।

তিনি আরো বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামী নয়, এ দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অথচ একটি মহল জামায়াতের কাপড় খুলে ফেলতে চায়। মনে রাখতে হবে, আমাদের অসংখ্য নেতারা বছরের পর বছর কারাবরণ করেছেন, অনেক ফাঁসির দড়ি হাঁসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন, গুম হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তবুও কারো কাছে সামান্য কোনো কিছুর বিনিময়ে আপস করেননি, আমরাও করব না ইনশাআল্লাহ। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এই জমিনে আল্লাহর দীন কায়েমের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আলেমদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামীর সংসদ ইসলামপন্থীদের হবে ইনশাআল্লাহ।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. বি এম মফিজুর রহমান আল-আজহারী বলেন, ইসমাহ বা নিষ্পাপত্ব হলো রাসূল ও নবীদের অপরিহার্য গুণাবলির অন্যতম আবশ্যিক শর্ত। যা নবুয়্যতের পদমর্যাদার একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়। যার মধ্যে সমস্ত পুণ্যগুণের সমাহার ঘটে। যা নবী-রাসূলদেরকে বড় বড় পাপ থেকে রক্ষা করে ও ইচ্ছাকৃত ছোট পাপ থেকে তাকে আড়ালে রাখে। অন্য দিকে, নবীদের শিক্ষা ও জীবনাদর্শ যাদের মাধ্যমে মানবতার কাছে নির্ভুল পন্থায় পৌঁছায়, তারা হচ্ছেন তাদের নিবেদিতপ্রাণ সাথীরা। আমাদের ক্ষেত্রে তারা হলেন, আসহাবু রাসূলুল্লাহ সা:। যাদের চারিত্রিক সততা ছিল প্রশ্নাতীত। নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ততা, ব্যক্তিত্ব, ন্যায়পরায়ণতা ও গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডে নবীদের পরই তাদের অবস্থান। মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। অথচ তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে যা ইসলামের মূল ভিত্তিতে আঘাত হানছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মুহাদ্দিস মাওলানা ইসমাইল হোসেন বলেন, মাওলানা মাওদুদী রহ. এর ওপর অনেকে সাহাবি বিদ্বেষী হিসেবে মিথ্যা অপবাদ দেয়। অথচ তার কোনো কিতাবে বা লেখনিতে সাহাবি বিদ্বেষমূলক একটা শব্দও নেই। তিনি বিশ্বজুড়ে ইসলামী রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজনীতিসহ আধুনিক ও সমসাময়িক বিষয়ের গভীর জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত।

ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, আমরা যুগের পর যুগ আলেমদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও অন্যায়ের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার সার্বিক প্রচেষ্টা করেছি। যার ফলশ্রুতিতে আজ বাংলাদেশে নতুন একটি সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। আলেমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামীর বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, ইসমাতে আম্বিয়া ও আদালতে সাহাবা শীর্ষক সেমিনার এই প্রথম। যা জাতির কাছে প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ, কেননা আজ বরেণ্য উলামায়ে কেরামের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের ওপর দেয়া সাহাবি বিদ্বেষী অপবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্যেশ্যপ্রণোদিত।