নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সমুদ্রে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে জারি করা সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সাথে সাথে গভীর সাগরে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ আহরণে নামবেন দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, বরগুনার পাথরঘাটা এবং চট্টগ্রামের উপকূলজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি।
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী, বড়বাইশদিয়া, মৌডুবী, চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ এলাকার কয়েক হাজার জেলে ইতোমধ্যে ট্রলার প্রস্তুত করেছেন। দীর্ঘ ৫৮ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলে ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার সুফলে সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে এবং ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। মৌডুবীর জেলে হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে এতদিন সাগরে যাইনি। খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল পেলেও বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন ভালো মাছ পেলে ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে।
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বরগুনার পাথরঘাটার জেলে পল্লীতেও বইছে উৎসবের আমেজ। প্রায় ৪০ হাজার জেলে ট্রলার মেরামত, জাল প্রস্তুত, বরফ ও জ্বালানি সংগ্রহসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে ইতোমধ্যে শত শত ট্রলার অবস্থান নিয়েছে। এফবি নাসিমা-২ ট্রলারের মাঝি খলিলুর রহমান জানান, ১০ থেকে ১৫ দিনের সমুদ্রযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় বাজার ও বরফ ট্রলারে তোলা শেষ। তারা আশা করছেন প্রচুর মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারবেন। তবে জেলেদের একটি অংশ অবৈধ ট্রলিং ট্রলারের কারণে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা সমুদ্রে নজরদারি জোরদার এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম উপকূলেও জেলেদের মধ্যে সাজ সাজ অবস্থা দেখা গেছে। বাঁশখালী, আনোয়ারা ও নগরীর ফিশারিঘাট এলাকায় হাজার হাজার জেলে ও ট্রলার মালিক শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে পাঁচ হাজার ৬৭৬টি মাছধরা ট্রলার এবং ৫৩ হাজারের বেশি জেলে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ হাজার সমুদ্রগামী জেলে মাছ ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। বাঁশখালীর ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি এয়ার আলী বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সঙ্কটের কারণে মাছ আহরণের ব্যয় অনেক বেড়েছে। তারপরও শত শত ট্রলার মধ্যরাত থেকেই সাগরে যাত্রা করবে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, নৌপুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে খাদ্য সহায়তাও বিতরণ করা হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) জহিরুন্নবী এবং পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, নিষেধাজ্ঞার ফলে সমুদ্রে মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এবার জেলেরা আগের তুলনায় বেশি ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে এখন উপকূলজুড়ে একটাই প্রত্যাশা, ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ নিয়ে নিরাপদে ঘাটে ফিরবেন জেলেরা, আর চাঙ্গা হবে উপকূলীয় অর্থনীতি।



