দোহার (ঢাকা) সংবাদদাতা
দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে ঢাকার দোহার উপজেলার জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে নিয়মিত পলেস্তারা, ইট ও সুরকি খসে পড়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে শিক্ষা অধিদফতরের অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। সময়ের সাথে ভবনের অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিস এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তবে বিকল্প ভবনের সঙ্কট থাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ওই ভবনের কক্ষগুলো ব্যবহার করছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের দু’টি ভবনের মধ্যে একটি ভবনে মাত্র দু’টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ফলে পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষ শিক্ষকদের জন্য এবং আরেকটি কক্ষ শিশুশ্রেণী ও পঞ্চম শ্রেণীর পাঠদানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুশ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সকালে এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা দুপুরে একই কক্ষে পাঠ গ্রহণ করছে। কক্ষসঙ্কটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগম অফিসকক্ষে কাজ করার সময় ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে রড বের হয়ে গেছে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাজমা বেগম বলেন, পরিত্যক্ত ভবনের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগম বলেন, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন না পাওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুস শিহাব জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা অধিদফতরে প্রয়োজনীয় তদবির করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে তাদের মুক্ত করা হোক।



