২০ বছর পর ফাইনালে আর্সেনাল

Printed Edition
ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা আর্সেনালের ফুটবলাররা	: ইন্টারনেট
ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা আর্সেনালের ফুটবলাররা : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমজমাট হলেও কোনো দলই গোলের তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারল না। স্নায়ুচাপ সামলে নিজেদের জাল আগলে রেখে সুযোগ তৈরি করার চেষ্টায় একবার সফল হলেন বুকায়ো সাকা। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবধান ধরে রেখে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল আর্সেনাল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মাদ্রিদের মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় দুই লেগ মিলে ২-১ এগ্রিগেটে ফাইনালে উঠল

মিকেল আর্তেতার দল। নিজেদের ইতিহাসে ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে এমিরেটসের দলটি। ২০ বছর আগের সেই ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে শিরোপা স্বপ্ন অধরাই ছিল আর্সেনালের।

এমিরেটস স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল আর্সেনালই। প্রথমার্ধে বল পজিশন ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য দেখাল স্বাগতিক দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পাল্টে যায় চিত্র। তবে পুরো ম্যাচে ৫১ শতাংশ বল পজিশনে রেখে গোলের জন্য নেয়া ১৪ শটের ৫টি লক্ষ্যে রেখে একবার জালের দেখা পায় গানাররা। আর অ্যাথলেটিকো ৯ শটের দু’টি লক্ষ্যে থাকলেও পরাস্ত করতে পারেনি গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে। ফলে এবারো হতাশাই সঙ্গী হলো দিয়েগো সিমিওনের শীর্ষদের।

চলতি মৌসুমে লিগ পর্ব থেকে শুরু করে একটি ম্যাচও হারেনি মিকেল আর্তেতার দল। এমনকি নিজেদের মাঠে খেলা তিন ম্যাচের কোনোটিতে গোলও হজম করেনি। তাই গোলপোস্ট অক্ষত রেখে গত পরশু অন্তত একটি গোল করার দিকেই যেন বেশি মনোযোগী ছিল আর্সেনাল। আর দুই দলের লিগ পর্বের দেখায় গত অক্টোবরে অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে আত্মবিশ্বাসেও এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। সেই ম্যাচের কথা মাথায় রেখেই রক্ষণ ও মাঝমাঠকেন্দ্রিক লড়াইয়ে তাল মিলিয়ে লড়েছে দুই দলই। এর মাঝেই প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে ডি-বক্সে ডান দিকে বল ধরে সময় নিয়ে অন্যপাশে ক্রস বাড়ান ভিক্তর ইয়োকেরেস। সেখানে অরক্ষিত থাকা লিয়ান্দ্রো ট্রোজাড দেখে শুনে শট নেন; কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি আটকে দেন স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক জান ওব্লাক; কিন্তু দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। দ্রুত গতিতে ছুটে এসে টোকায় আলগা বল জালে পাঠান ইংলিশ ফরোয়ার্ড সাকা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আক্রমণে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে অ্যাথলেটিকো। ম্যাচের ৫১ মিনিটে সতীর্থের লম্বা থ্রু পাস পেয়ে ডি-বক্সে প্রথম টোকায় গোলরক্ষককে কাটিয়ে সামনে ফাঁকা জাল পেলেও শট নিতে দেরি করেন জুলিয়ানো সিমিওনে। মুহূর্তের ওই সুযোগেই আর্সেনালকে বাঁচান গাব্রিয়েল মাগালহাস। কিছুক্ষণ পর গ্রিজম্যানের শট গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকালে এবারো হতাশ হতে হয় সফরকারীদের। ৬৬ মিনিটে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করে আর্সেনাল। দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে ছুটে যাওয়া ইয়োকেরেসকে খুঁজে নেন পিয়েরো ইনকাপিয়ে; কিন্তু সুইডিশ ফরোয়ার্ডের প্রথম ছোঁয়ার শট ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে চলে যায়।

সময় ফুরিয়ে আসছিল, তাতে হতাশা বাড়ছিল অ্যাথলেটিকো শিবিরে। ম্যাচের বাকি সময়ে দুই দল চেষ্টা করে গেলেও আর কোনো গোল হয়নি। শেষ দিকে অঝোর ধারায় শুরু হওয়া বৃষ্টির মধ্যে জয়োৎসব আর্সেনালের। ২০০৬ সালে ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে যাওয়া আর্সেনাল এবার দ্বিতীয়বারের মতো আগামী ৩০ মে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের মিশনে খেলবে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে।