বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৮৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠন একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন। দেশের বিভিন্ন নারী অধিকার, মানবাধিকার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, উন্নয়নকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা এবং অনলাইন-অফলাইন হয়রানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন এমনকি ঘরোয়া পরিবেশেও নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। বিচারহীনতা, সামাজিক দায়হীনতা এবং প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এই পরিস্থিতিকে আরো ভয়ঙ্কর করে তুলছে বলে বিবৃতিতে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি এই সহিংসতা কেবল অপরাধ নয়, বরং এটি মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার চরম সঙ্কট। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে নারীবান্ধব সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেয়া হয়।
এই নাগরিক উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ এখনো যুক্ত হচ্ছেন। আয়োজকরা দেশের সব মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারকামী ব্যক্তি ও সংগঠনকে এই যৌথ বিবৃতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি।



