প্রহসনের শিকার নেইমার

Printed Edition
রেফারির সাথে বাগি¦তণ্ডা নেইমারের	: ইন্টারনেট
রেফারির সাথে বাগি¦তণ্ডা নেইমারের : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের জন্য সব কিছু ঠিক থাকলে গতকাল ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। নিজেকে প্রমাণের জন্য শেষবারের মতো গত পরশু মাঠে নেমেছিলেন নেইমার জুনিয়র। কিন্তু এমন ম্যাচেই নেইমার শিকার হয়েছেন অদ্ভুত এক প্রহসনের। সান্তোস ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গঞ্জালো এসকোবারের পরিবর্তে রবিনহো জুনিয়রকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যোগাযোগের ত্রুটির কারণে চতুর্থ অফিসিয়াল ব্রুনো মোতা কোরেইয়া নেইমারের জার্সি নম্বর, অর্থাৎ ১০ নম্বর তুলে দেন। সান্তোসের সর্বশেষ পরাজয়ের ম্যাচে নেইমার আবার মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করলে একটি হলুদ কার্ড পান। অবশেষে তাকে মাঠ ছাড়তে হলো। এরপর রেফারির ওপর মেজাজ হারিয়ে স্নায়ুচাপের লক্ষণ দেখান নেইমার।

ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’ ম্যাচে কোরিটিবা ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে ০-৩ গোলে হেরেছে সান্তোস। ম্যাচে রেফারির ভুলের কারণে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বদলি করা হয় নেইমারকে। এ সময় চোটের চিকিৎসা নিতে সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে ছিলেন সান্তোসের রাজপুত্র। ঠিক তখনই চতুর্থ অফিশিয়াল বদলির বোর্ডে ১০ নম্বর দেখান। সেই অফিশিয়াল বদলির এই বোর্ড দেখিয়ে নেইমারের বদলি হিসেবে নামানোর ঘোষণা দেন রবিনহো জুনিয়রকে।

নেইমার বলেন, ‘আমি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম; কিন্তু রেফারি আমাকে মাঠ থেকে বের করে দিলেন।’ প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে, তিনি বদলির সিøপটি হাতে নিয়ে রেফারিদের দিকে বারবার ইশারা করে বোঝালেন, তারা ভুল করেছেন ও সেটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরলেন।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার জন্য অ্যানচেলোত্তির দলে ডাক পাওয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নেইমার মন্তব্য করেন, ‘আমার পায়ের মাংসপেশি? এটা সামান্যই ছিল।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সান্তোস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চতুর্থ কর্মকর্তা বদলির ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। টেলিভিশনের ফুটেজ ও কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত নোটেও সেটি পরিষ্কার দেখা গেছে। অথচ এই অবিশ্বাস্য ভুলটি আর সংশোধন করা হয়নি।’

শুধু বদলি নাটকই নয়, নেইমারের চোট নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ম্যাচ শেষে সান্তোস কোচ কুকা জানান, পায়ে আঘাত পাওয়ায় আগামী বুধবার সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচে নেইমারের খেলা অনিশ্চিত। কুকা আরো বলেন, ‘ও যে আঘাত পেয়েছে, সেটা পেশিতে নয়। তাই বুধবারের ম্যাচে ওকে পাওয়া কঠিনই মনে হচ্ছে। তবে এটা বড় কিছু নয়। চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়া বা না পাওয়া আমাদের ভাবনায় প্রভাব ফেলছে না, আমরা এখন নিজেদের নিয়েই ভাবছি।’