এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)
উৎসবমুখর ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের নির্বাচনী ময়দান। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সকাল-সন্ধ্যা মাঠে সক্রিয় সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চলছে প্রতিশ্রুতি আর সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দেশের সর্বনিম্ন ভোটারসংখ্যার এই আসনটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবার বাড়তি আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও রাজনৈতিক গুরুত্বে ভরপুর এই আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেলেও প্রার্থীদের ভেতরে ভেতরে বাড়ছে স্নায়ুচাপ।
একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝালকাঠি-১ আসনে আলোচিত নেতা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের দলবদলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের নেতৃত্বে দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা আবারো জোরালো হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘ঝালকাঠি-১ বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। ধানের শীষ ছাড়া এখানে বিকল্প কিছু নেই। ইনশা আল্লাহ আগামী ১২ তারিখ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আমরা এই আসনটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দেবো।’
অন্য দিকে ইসলামী ও সমমনা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন সময় এসেছে ইনসাফভিত্তিক ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েমের। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে রায় দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
তবে নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমেই জমে উঠলেও সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী। হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী অভিযোগ করে বলেন, ‘সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে হাতপাখার বিজয় নিশ্চিত; কিন্তু ইতোমধ্যে আমাদের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’
একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানান ‘হাঁস’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজী। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিবেশ তুলনামূলক সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকলেও সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। শেষ পর্যন্ত কতটা সমান সুযোগ বজায় থাকে, তা নিয়ে আমি শঙ্কিত।’
এ ছাড়া নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন (ট্রাক), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: সাব্বির আহমেদ, জাতীয় পার্টির মো: কামরুজ্জামান খান এবং জেএসডির মো: সোহরাব হোসেন। তারাও নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার সাধারণ ভোটাররা জানান, তারা এমন একজন সংসদ সদস্য চান, যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন। এখন অপেক্ষা শুধু ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনের জন্য। ব্যালট যুদ্ধে কে হাসবেন শেষ হাসি, কার গলায় উঠবে জয়ের মালা- সেটিই দেখার পালা।



