মহিলা প্রার্থী চূড়ান্তে সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিএনপির বোর্ড

Printed Edition
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড : বাসস
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড : বাসস

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনে দলের কারা সংসদ সদস্য হবেন তার চূড়ান্ত বাছাই শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। মনোনয়ন ইচ্ছুক প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে দলটির মনোনয়ন বোর্ড। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু হয়। আজ শনিবার সাক্ষাৎকারপর্ব সম্পন্ন হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, যারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে সেটা জমা দিয়েছেন তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের মনোনয়ন বোর্ড অর্থাৎ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বোর্ডের সদস্যরা হচ্ছেন দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যগণ। শুক্রবার প্রথম দিন রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। প্রথম দিন চার শতাধিক প্রার্থী এই সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন বলে জানান রিজভী।

আজ শনিবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার।

গত বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, আর সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩০ এপ্রিল। এরপর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলাম জোট ১৩টি, স্বতন্ত্ররা মিলে পাবে একটি আসন।

গতকাল বেলা দেড়টা থেকে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে নারী আসনে মনোনয়ন ইচ্ছুক প্রার্থী ও তার সমর্থকদের সমবেত হতে দেখা গেছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা শুধুমাত্র প্রার্থীদের অফিসে প্রবেশ করতে দিয়েছেন।

নারী আসনে প্রার্থী হতে যোগ্যতার বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, এক ভয়াবহ দুঃসময় পার করে আমরা আজ গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি এবং গণতন্ত্রকে সচল ও শক্তিশালী করার জন্য এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে মহিলারা যে অবদান রেখেছেন বিগত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনে নিঃসন্দেহে তাদের সেই অবদানকে মূল্যায়ন করা হবে। অনেক মহিলা নেত্রীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তাদের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে, তাদের সন্তানদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে এবং রাজনৈতিক আদর্শের কারণে এই পৈশাচিক বিভীষিকা তো ১৬-১৭ বছর ধরেই চলেছে। দল এসব বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। পাশাপাশি সংসদে কথা বলা এবং আইন প্রণয়নের ব্যাপারে যে জ্ঞান থাকা দরকার, যে শিক্ষা থাকা দরকার এই বিষয়গুলোও এখানে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি। সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের যে মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত করবেন কারা মহিলা সংসদ সদস্য হতে পারেন। আমার বিশ্বাস দল যথাযথ মূল্যায়ন করবে।