বকশীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণে অনিয়ম

Printed Edition

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের তালিকায় বিএনপি নেতা, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার অসহায় মানুষের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বকশীগঞ্জ পৌরসভায় এক লাখ টাকা এবং উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, অসচ্ছল রোগী, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং অর্থকষ্টে থাকা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের এ সহায়তা পাওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নীলাখিয়া ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের তালিকায় স্থানীয় কৃষকদলের এক নেতার নাম রয়েছে। এ ছাড়া এক সুবিধাভোগীর মোবাইল নম্বরের স্থলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সের ব্যবহৃত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নীলাখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজুর রহমান বলেন, মোবাইল নম্বরের বিষয়টি মুদ্রণজনিত ভুল। নিয়ম মেনেই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভুলবশত তার নম্বর তালিকায় এসেছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা বরাদ্দের অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, অর্থ বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ প্রশাসনের কাছে আসেনি।