জাবিতে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

Printed Edition

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্তা, হুমকি ও মব সৃষ্টির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্র শিবির এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখা। এ দিকে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার ছাত্রসংগঠনগুলো পৃথক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা ক্যাম্পাসে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ইসলামী ছাত্রশিবির জাবি শাখার সভাপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও সেক্রেটারি মো: মাজহারুল ইসলামের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-অসঙ্গতি ও শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই কর্তব্যরত সাংবাদিকদের হেনস্থা বা ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সাথে তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ এক বিবৃতিতে জানায়, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ কোনোভাবেই ভয়ভীতি, হুমকি বা উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সংগঠনটি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মব তৈরির অপচেষ্টাকে গুরুতর ঘটনা উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত সোমবার রাতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: শামসুল আলমকে সভাপতি এবং জনসংযোগ অফিসের রিপোর্টার হাফিজুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়াও সদস্য হিসেবে আছেন অধ্যাপক ড. মো: শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল হালিম ও অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত রোববার আন্দোলনসংক্রান্ত একটি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারমুখী আচরণ এবং মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টির অপচেষ্টার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস) ও প্রেস ক্লাব এক যৌথ বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে সাংবাদিকদের ‘ক্যারিয়ার ধ্বংসের’ হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।