নয়া দিগন্ত ডেস্ক
নিট-ইউজি (এনইইটি-ইউজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন আরো বিস্তৃত হয়েছে। সংসদে অচলাবস্থা, বিরোধী দলের বিক্ষোভ, সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং সরকারের সাথে টানাপোড়েন- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।
বুধবারও আন্দোলনের প্রভাব পড়ে ভারতের সংসদে। প্রশ্নফাঁস, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হয়। সরকার শিক্ষা সংস্কার এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটির অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম ও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করতে হবে।
এ দিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক বুধবারও অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার নিশ্চয়তা এবং আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সাথে অর্থবহ আলোচনার উদ্যোগ না নেয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। সরকারের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
তবে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কায় সিজেপি নেতৃত্ব তাকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, দেশের স্বার্থে ওয়াংচুকের সুস্থ থাকা জরুরি। তিনি অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থামবে না; দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে দিল্লি পুলিশ একাধিক মামলা দায়ের করে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তাদের ওপর অযৌক্তিক বল প্রয়োগ করা হয়েছে। অন্য দিকে পুলিশ দাবি করে, বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করে কংগ্রেস। নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পুলিশ তাদের আটক করলে রাহুল গান্ধী নাক দিয়ে রক্তপাতের দৃশ্যেও দেখা যায়। পরে তাকে ও অন্য নেতাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কংগ্রেস শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনইইটি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না এলে দিল্লির বাইরে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।



