নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে হয়রানি, আনসার সদস্য দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

Printed Edition

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে।

গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। পরে বিষয়টি সহপাঠী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জানালে তারা অভিযুক্ত আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম ও তার স্বামী জোবায়ের রাহমানকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, একই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসের সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছিলেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর প্রতি অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য এবং তার মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম ও তার স্বামী জোবায়ের রাহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একই বাসায় থাকার কারণে কথা কাটাকাটি হলেও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

বাসার মালিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের কেয়ারটেকার মাসুদ রানা জানান, এর আগেও কয়েকবার উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাদের বাসা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজমুল হাসান বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। আনসার প্লাটুন কমান্ডার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।