ব্যাংকিং খাতে তারল্য সহায়তা অব্যাহত

এক দিনে ৪,৫৪৮ কোটি টাকা প্রদান বাংলাদেশ ব্যাংকের

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশের ব্যাংকিংব্যবস্থায় তারল্য স্বাভাবিক রাখতে উন্মুক্ত বাজার কার্যক্রমের (ওএমও) মাধ্যমে প্রায় চার হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা নেট তারল্য সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যাংকগুলোতে প্রবাহিত করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন মেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা ও রেপো কার্যক্রমের মাধ্যমে মোট ৭ হাজার ৬৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) আওতায় একদিন মেয়াদি ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে এক হাজার ৪৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তারল্য সহায়তা হিসেবে ইসলামী ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির (আইবিএলএফ) আওতায় সাত দিন মেয়াদি ২৪৭ কোটি টাকা এবং ২৮ দিন মেয়াদি এক হাজার ৭০ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। এসব সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মুনাফা হার (ইপিআর) ছিল ৪ থেকে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

অন্য দিকে অ্যাশিউরড রেপো (এআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় একদিন মেয়াদে পাঁচ হাজার ৩৬৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, সাত দিন মেয়াদে ১৫০ কোটি টাকা এবং ২৮ দিন মেয়াদে ৬৭৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা সরবরাহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সুদের হার ছিল ১০ শতাংশ।

তবে একই সময়ে অতিরিক্ত তারল্য কমাতে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) আওতায় ব্যাংকগুলো থেকে এক হাজার ২৪৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা জমা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে সুদের হার ছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সবমিলিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম শেষে ব্যাংকিং খাতে নেট তারল্য সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৫৪৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে তারল্য চাপ মোকাবেলা এবং স্বল্পমেয়াদি সুদের হার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে উন্মুক্ত বাজার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উল্লেখ্য, ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদা পূরণ এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।