নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭তম বিসিএস পরীা-২০০৫ এর মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সুপারিশক্রমে ৬৭৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে ২৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীায় তিন হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই মৌখিক পরীার ফল বাতিল করে। ওই বছরের জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীা নেয়া হয়। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় সেই মৌখিক পরীার ফল প্রকাশ হয়। তাতে উত্তীর্ণ তিন হাজার ২২৯ জনকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গতকালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের যোগদানের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এর ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন না।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৭তম বিসিএস পরীা-২০০৫ এর মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ৫ নভেম্বরের চিঠির সুপারিশক্রমে ৬৭৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুসারে (২২,০০০-৫৩,০৬০/- টাকা বেতনক্রমে) নিয়োগ দেয়া হলো।
নিয়োগের শর্তে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিণ গ্রহণ করতে হবে। এ বুনিয়াদি প্রশিণ শেষে তাকে তার চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার যেভাবে স্থির করবে সেভাবে পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিণ গ্রহণ করতে হবে। দুই বছর শিানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিানবিসকাল অনূর্ধ্ব দু’বছর বৃদ্ধি করতে পারবে।
শর্তে বলা হয়, শিানবিসকালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাথে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। উল্লিখিত প্রশিণ সাফল্যের সাথে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীায় উত্তীর্ণ এবং শিাকাল সন্তোষজনকভাবে অতিক্রান্ত হলে তাকে চাকরিতে স্থায়ী করা হবে। প্রশিণের জন্য কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি দেয়া কর্তৃপরে কাছে একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করে তাকে প্রশিণে যেতে হবে।
এতে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ মর্মে একটি বন্ড সম্পাদন করতে হবে যে, যদি তিনি শিানবিসকালে অথবা শিানবিসকাল উত্তীর্ণ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন, তবে প্রশিণকালে তাকে প্রদত্ত বেতন-ভাতা, প্রশিণ উপলে উত্তোলিত অগ্রিম/ভ্রমণভাতা/অন্যান্য ভাতাদি এবং তার প্রশিণের জন্য ব্যয়িত সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে তিনি বাধ্য থাকবেন।
শর্তে আরো বলা হয়, চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার েেত্র তার ইস্তফা সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ার আগে যদি তিনি তার কর্তব্যকাজে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তার কাছে সরকারের প্রাপ্য সমুদয় অর্থ বিধান অনুসারে আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ নিয়োগের েেত্র নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে তাদের ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল সেই তারিখ হতে ভূতাপেকিভাবে নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে।
২৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীায় ফল বাতিল হওয়ায় বাদ পড়া এক হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এ রায় দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত তিনটি আপিল আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ এই রায় দিয়েছিলেন।
তথ্যমতে, প্রথম মৌখিক পরীার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা রিট আবেদন করেন। কিন্তু ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট প্রথম মৌখিক পরীার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীদের ২৫ জন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। অন্য দিকে ২০৫ জন আবেদনকারীর আরেক রিট আবেদনে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীা অবৈধ ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে সরকার তিনটি লিভ টু আপিল করে। আইনপ্রক্রিয়ার নানা ধাপ শেষে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিলেন।
গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রশাসন ব্যাচের ৯০ জন, নিরীা ও হিসাব ক্যাডারের পাঁচজন, আনসার ক্যাডার থেকে একজন, শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারের একজন, সমবায় ক্যাডারের পাঁচজন, খাদ্য ক্যাডারের দু’জন, পররাষ্ট্রবিষয়ক ক্যাডারের দু’জন, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারের আটজন, তথ্য ক্যাডারের দু’জন, ডাক ক্যাডারের একজন, পুলিশ ক্যাডারের ৭০ জন, রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক ক্যাডারের দু’জন, কর ক্যাডারের চারজন, বাণিজ্য ক্যাডারের একজন, কৃষি ক্যাডারের ৫৪ জন, মৎস্য ক্যাডারের পাঁচজন, সাধারণ শিা ক্যাডারের বাংলা বিভাগের ২০ জন, ইংরেজি বিভাগের ১০ জন, অর্থনীতি বিভাগের ২৭ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন, ইতিহাস বিভাগের সাতজন, দর্শন বিভাগের চারজন, আরবি ও ইসলামী শিা বিভাগের ১৬ জন, ভূগোল বিভাগের পাঁচজন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের তিনজন, গণিত বিভাগের ২৫ জন, পদার্থবিদ্যা বিভাগের ১৬ জন, রসায়ন বিভাগের ২১ জন, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ২৫ জন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পাঁচজন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৬ জন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ৯ জন ও সংস্কৃত বিভাগের দু’জন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১৬২ জন নিয়োগ পেয়েছেন।



