আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

মা নেই যার

খোরশেদ আলম নয়ন

মা যে হলো মুক্তা-মনি হার

মা যে হলো সাত রাজারই ধন;

এই জীবনে দুঃখ এলে তাই

সবার আগে জানে মায়ের মন!

মা যে হলো বটবৃক্ষের ছায়া

মা যে হলো স্নিগ্ধ শীতল পাটি

এই জগতের সবই ভেজাল মেশা

শুধু মায়ের ভালোবাসাই খাঁটি!

মা নেই যার-

তার কী আছে কেউ

তার বুকে যে বিরাজ করে

সাত সাগরের ঢেউ।

মা হারালে এই ভুবনে

সব হয়ে যায় পর

সবার চেয়ে আপন সে যে

মায়েরই অন্তর।


শ্রমিক

জয়নব জোনাকি

শ্রমিক মানে কষ্ট ক্লেশে

ঝরায় দেহের ঘাম

দিনে রাতে খাটনি করে

পায়না শ্রমের দাম।

পুঁজিবাদীর হাতে তাদের

ভাগ্য নামের চাবি

খুব বেশি নয় শুধুই ওদের

পাওনা টুকুই দাবি।

খেটেখাওয়া মানুষগুলোর

ফোটাও মুখে হাসি

ভাইয়ের মতো বোনের মতো

একটু ভালোবাসি।

পরের বোঝা মাথায় টেনে

এভাবে দিন কাটে

যুদ্ধ করে চলছে জীবন

দুঃখ নামের ঘাটে।

শোধ করে দাও শ্রমের টাকা

না শুকাতেই পানি

কাজ ফুরালে মজুরি দাও

মহানবীর বাণী।


মা মানে

কাব্য কবির

মা মানে তো কষ্টে থেকেও মুখে মধুর হাসি

এই পৃথিবীর সবার থেকে মাকে ভালোবাসি

মা মানে তো বটবৃক্ষ, যেন গাছের ছায়া

মায়ের প্রতি আকাশ সমান আমার বুকের মায়া।

মা মানে তো হীরে, মানিক, সাতটি রাজার ধন

মাকে রেখে কোথাও গেলে কাঁদে আমার মন

মা মানে তো তারার হাসি, চাঁদের নরম আলো

দোয়া করি রবের কাছে মায়ে থাকুক ভালো।

মা মানে তো অসুখ হলে পাশে বসে থাকা

মোনাজাতে দুহাত তুলে সৃষ্টির রবকে ডাকা

মা মানে তো, কারো সাথে হয় না তুলনা

বড় হয়ে তোমরা কেহ মাকে ভুল না।


বৈশাখী ঝড়

মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী

বৈশাখী ঝড় ওঠে কালো মেঘে সন্ধ্যায়

পোলাপান জড়ো হয় তালপুকুর কান্দায়

আম পড়ে এলোমেলো ডালভাঙে দমকায়

দুই কানে তালা লাগে বিদ্যুৎ চমকায়।

তবু জানি ডর নেই নিজেকে সামলায়

দস্যি পোলাপান আম খোটে গামলায়

মেঘডাকে কড়কড় জয় করে ভয় তো

বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে করে ইনজয় তো।

বাতাসের গতি বাড়ে সাথে নামে বৃষ্টি

ক্ষীণ হয়ে আসে তখন দুচোখের দৃষ্টি

কনে গেলি পল্টু? আল্লাহর নাম নে

ডাক পাড়ে পিতা-মাতা উঠানের সামনে।


মা-ই শ্রেষ্ঠ

শাহানাজ শিউলী

মাগো তুমি বিশ্বজাহান

অমূল্য এক দান

তুমি আমার তপ্ত রোদের

শীতল ছায়ার প্রাণ।

মাগো তুমি চোখের পাতায়

প্রশান্তির এক ঘুম

তুমি আমার কপাল জোড়া

আদর মাখা চুম।

মাগো তুমি বুক পাঁজরে

গভীর নাড়ির টান

তোমার পায়ের তলায় আমার

শ্রেষ্ঠ বেহেশত দান।

মাগো তুমি মহাকাশের

মস্ত বড় বুক

তুমি আমার সাগরতলের

মুক্ত খোঁজার সুখ।


শিশু শ্রম

শারমিন নাহার ঝর্ণা

শিশুরা সব ফুলের মতো

দুলবে হেসে হেসে

খুব যতনে রাখব তাদের

আমরা ভালোবেসে।

এখন তাদের পড়ার সময়

শ্রমের সময় নয়

লেখাপড়া করে তারা

বিশ্ব করবে জয়।

শিশুদের শ্রম বন্ধ করুন

ওরা কচি পাতা

কচি পাতা ছিঁড়ব নাকো

ধরব স্নেহের ছাতা।


ঘুড়ি

রাসেদুল হাসান রাসেল

পূর্বকোণে

দূর আকাশে,

রঙিন ঘুড়ি

জোর বাতাসে-

উড়ে হাওয়ায় হাওয়ায়।

রঙিন ঘুড়ি

বড়ো দাদার,

একটি ঘুড়ি

হালকা সাদার-

দেখি আসা-যাওয়ায়।


খোকার কাণ্ড

কামরুজ্জামান দিশারি

এক প্রাণী দাঁড়িয়ে ঘুমায়

ভর দিয়ে চারপায়ে!

সুযোগ পেলেই চক্ষু বুজে

নেয় ঘুমিয়ে ঠায়ে।

দিচ্ছি বলে আজব প্রাণীর

নামটি হলো ঘোড়া

শুয়ে কমই ঘুমায় সে তো

কপালটা তার পোড়া।

ঘোড়ার মতোই চেষ্টা করে

খোকন হলো ব্যর্থ

বসে ঘুমের ভান করতেই

চোট পেল অনর্থ।

কাণ্ড দেখে মা হেসে কয়

করলি কী রে খোকা

প্রাণীর স্বভাব নয় মানুষের

তুই দেখি রে বোকা!


আমার মা

নাসির খলিল

চাই না আমি নতুন জামা জুতা

খেলনা গাড়ি ঘুড়ি লাটাই সুতা

শপথ করছি তোমার মাথা ছুঁয়ে

যাবো না মা কোথাও তোমায় থুয়ে।

কীসের তরে মাগো তুমি কাঁদো?

বলব না আর ভালো খাবার রাঁধো

মাগো তোমায় ভিষণ ভালোবাসি

দোহাই মাগো দাও না একটু হাসি।


হাঁসের ছানা

আনোয়ারুল ইসলাম

হাঁসের ছানা যেতে মানা

ভরা পুকুরে

কাকের ছানা মেলে ডানা

খাবে দুপুরে।