মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, ফ্রান্স থেকে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন মাইগ্রেশন ও অ্যাসাইলাম প্যাক্ট বৃহস্পতিবার থেকে ফ্রান্সে কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আলোচনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এবং ইউরোপে ক্রমবর্ধমান অভিবাসন সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে গৃহীত এই প্যাক্টকে ইউরোপীয় অভিবাসন নীতির সবচেয়ে বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে নতুন বিধান আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার সঙ্কুচিত করতে পারে এবং সীমান্তে আটকে রাখার প্রবণতা বাড়াতে পারে।
ফ্রান্সভিত্তিক ইউরোপে অভিবাসীদের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ইনফো-মাইগ্রেন্টস সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন প্যাক্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে সীমান্তে আশ্রয় আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে। এখন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করে আশ্রয় আবেদনকারী প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ‘ফিল্টারিং’ বা প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফ্রান্সে এই ব্যবস্থা মূলত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে চালু হবে। বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলের রোয়াসি শার্ল দ্য গল, অর্লি এবং বুভে বিমানবন্দরকে এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফিল্টারিং প্রক্রিয়ার সময় একজন আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে বলে গণ্য করা হবে না। তাকে সীমান্তসংলগ্ন নির্ধারিত এলাকা বা ট্রানজিট জোনে অবস্থান করতে হবে। সর্বোচ্চ সাত দিনের এই পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর পরিচয়, নাগরিকত্ব, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করবে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, এর মাধ্যমে দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে যে, কোনো আবেদন সাধারণ আশ্রয় প্রক্রিয়ায় যাবে এবং কোনটি সীমান্ত পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা হবে।
যাচাই শেষে একজন আবেদনকারীকে দুই ধরনের প্রক্রিয়ার একটিতে পাঠানো হতে পারে। যদি তার আবেদন সাধারণ আশ্রয় পদ্ধতির আওতায় বিবেচিত হয়, তাহলে তিনি ফ্রান্সে প্রবেশের অনুমতি পাবেন এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয় আবেদন করবেন। কিন্তু যদি কর্তৃপক্ষ মনে করে যে আবেদনটি সীমান্ত পর্যায়েই মূল্যায়ন করা উচিত, তাহলে তাকে সীমান্ত আশ্রয় প্রক্রিয়ার আওতায় রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ একটি বিশেষ কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যেই তার আবেদন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ফরাসি আশ্রয় সংস্থা অফপ্রা জানিয়েছে, আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার শুধু সরাসরি নয়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও নেয়া হবে। বিশেষ করে রোয়াসি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি ডিজিটাল সাক্ষাৎকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে থাকা আবেদনকারীদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।



