পশুর চামড়া নিয়ে বেকায়দায় চট্টগ্রামের আড়তদাররা

প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৩৭ টাকার বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না

Printed Edition

এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

গত কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর চামড়ার সরকার নির্ধারিত দাম না পেয়ে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা। এবারের ঈদুল আজহাতেও চামড়া নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

গত ২৮ মে ঈদুল আজহার আগে সরকার লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, খাসির চামড়া ২৪ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ টাকা নির্ধারণ করে দেয়; কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৩৫ থেকে ৩৭ টাকার বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে এবার আরো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে মোট সাত লাখ ৪০ হাজার ২১২টি পশু কোরবানি হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম মহানগরী ও ১৫টি উপজেলা মিলিয়ে লবণযুক্ত করে সংরক্ষণের তথ্য মিলেছে মাত্র চার লাখ ১১ হাজার ৪৪০টি চামড়ার। বাকি চামড়ার কোনো হদিস নেই। নগরীতে মোট এক লাখ ৮০ হাজার ২৫০টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর চামড়া এক লাখ ৫৫ হাজার ৯০০টি, মহিষের ছয় হাজার ৬৫০টি এবং ছাগলের চামড়া রয়েছে ১৭ হাজার ৭০০টি। ১৫টি উপজেলায় মোট দুই লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর চামড়া এক লাখ ৮০ হাজার ৭৯০টি, মহিষের পাঁচ হাজার ৩০০টি এবং ছাগলের চামড়া ৩৬ হাজার ১০০টি।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মো: মসলেম উদ্দিন জানান, লবণযুক্ত চামড়া বিক্রি ও দাম নিয়ে এবার তীব্র দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আড়তদাররা। কোরবানি ঈদের ১৬ দিন পর গতকাল ঢাকা থেকে ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা চামড়া কিনতে চট্টগ্রামে এসেছেন; কিন্তু তারা প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৩৫-৩৭ টাকার বেশি দিতে রাজি নন। তাই বাধ্য হয়েই বিশাল লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি শুরু করতে হচ্ছে আড়তদারদের। এর আগে দু-একজন ট্যানারি মালিক এলেও তারা সরকারি দরের অর্ধেক দাম হেঁকে গেছেন।

সমিতির সভাপতি আরো জানান, লবণ, শ্রমিকের মজুরি ও কাঁচা চামড়া কেনাসহ প্রতিটি গরু-মহিষের চামড়া সংরক্ষণ করতে গড়ে ৪০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এর ওপর ঢাকা পর্যন্ত চামড়া পৌঁছানোর পরিবহন খরচও আড়তদারদেরই বহন করতে হয়। অথচ সংগৃহীত চামড়ার মান যাচাইয়ের নামে প্রতি ১০০টি চামড়ার মধ্যে ২০ থেকে ২৫টি চামড়া বাতিল করে দিচ্ছেন ঢাকার ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকার প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য চাপ দিলেও কোরবানির পর বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কার্যকর কোনো মনিটরিং করা হয় না। ফলে প্রতি বছরই আড়তদারদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ট্যানারি মালিকেরা সরকার থেকে নানা ধরনের সুবিধা ও ঋণ পেলেও মাঠপর্যায়ের আড়তদাররা কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। ফলে লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই ফতুর হয়ে যাচ্ছেন।

এ অবস্থায় আড়তদার সমিতির সভাপতি চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে প্রতি বছর আড়তদার বা চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা এবং সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারিভাবে প্রণোদনা প্রদান ও সঠিক মূল্যে চামড়া বিক্রির পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের এই সম্ভাবনাময় শিল্পটি আবারো প্রাণ ফিরে পাবে।