টি-২০ সিরিজ জিতে বাংলাদেশের মান রক্ষা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৪ রানে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১-এ হারের পর বিধ্বস্ত তৌহিদ হৃদয় বাহিনী। শেষ পর্যন্ত টি-২০ সিরিজ জিতে মান রক্ষা করল টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দু’টি হারের পর তৃতীয় ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় বাংলাদেশ। এরপর টি-২০ সিরিজেও আবার সেই পরাজয় দিয়ে শুরু। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানের জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজের অঘোষিত ফাইনালে চার উইকেটে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে মান রক্ষা করল বাংলাদেশ।

বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে গতকাল টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে সাত উইকেটে ১৪৩ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ে। লক্ষ্য তাড়ায় নাটকীয়তায় ভরা শেষ ওভারে দুই বল হাতে রেখে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করে সিরিজ ২-১-এ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

১৪৪ রানকে তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানকে হারিয়ে বিপর্যয় শুরু বাংলাদেশের। রিচার্ড এনগ্রাভার দ্বিতীয় বলে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি পান সাইফ। ওভারে পঞ্চম বলটি পুল করতে গিয়ে ধরা পড়েন ব্লেসিং মুজারাবানির হাতে। সাইফের দ্রুত বিদায়ে নিজেদের একরকম গুটিয়ে রেখেছেন তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন। তাতে পাওয়ার প্লে’তে ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান এক উইকেটে ৩০ রান। নবম ওভারে দ্বিতীয় উইকেটের পতন বাংলাদেশের। রাজার বলে বিদায় নিলেন পারভেজ হোসেন। তাতে ভাঙে ৫৫ রানের জুটি। ক্রিজে তানজিদ হাসানের সাথী তৌহিদ হৃদয়। ১৫তম ওভারে ৪৬ বলে তিন ছয় ও এক চারে ফিফটি করেন তানজিদ। এরপর আবার জিম্বাবুয়ের ত্রাতা হয়ে এলেন সিকান্দর রাজা। ওই ওভারে ছয় ও চারে ১৫ রান এলেও বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক (২৪)।

১৯তম ওভারে এনগ্রাভার অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে ইয়াসিরের ক্যাচ উইকেটের পেছনে গেলে গ্লাভসে নেন মারুমানি। ৯ বলে এক চারে ১০ রান করেন ইয়াসির। ১৯ ওভারে বাংলাদেশের রান চার উইকেটে ১৩৯। ক্রিজে তানজিদ হাসানের সাথী হন মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ ওভারে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন পাঁচ রান। হাতে ছিল ছয় উইকেট। সেখানেই তালগোল পাকান মোসাদ্দেক ও সাইফুদ্দিন। ইভান্সের নিচু ফুলটসে বোল্ড হন মোসাদ্দেক। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান সাইফুদ্দিনও। হ্যাটট্রিক বল ব্যাটে খেলতে পারেননি মাহেদী। তবে একজন ফিল্ডার আগেই জায়গা থেকে নড়ে যাওয়ায় ডেড বলের ইশারা দেন আম্পায়ার। পরে আরেকটু নিচু ফুল টসে উইকেটের চেষ্টা করেন ইভান্স। ঠাণ্ডা মাথার শটে সীমানা খুঁজে নেন মাহেদী। পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ে দারুণ ভূমিকা ওপেনার তানজিদের। ৫৮ বলে এক চার ও চার ছয়ে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচসেরা হন এই ওপেনার।

এর আগে বুলাওয়েতে ইনিংসের প্রথম ওভারে বল হাতে দুই রান দিয়ে উইকেটও পেতে পারতেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ব্রায়ান বেনেট ক্যাচ তুললে তালগোল পাকিয়ে ছেড়ে দেন তানজিদ। পরের ওভারেই পাঁচ বলে চার রান করা মারুমানিকে সাজঘরের পথ দেখান শেখ মাহেদী। বেনেট ও মায়ার্সের জুটি যখন বিপদের কারণে হয়ে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই সফরকারীদের ব্রেকথ্রু এনে দেন সাইফ হাসান। চতুর্থ স্টাম্পের লাইনে করা ১১তম ওভারের সাইফের শেষ বলটি ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে। হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ৩৮ বলে ৪৭ রান করা স্বাগতিক ওপেনার বেনেট।

সিকান্দর রাজাকে ফেরান রিশাদ হোসেন। ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে বড় শট খেলার চেষ্টায় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সøগ সুইপ করে ধরা পড়েন ইয়াসির আলি চৌধুরীর হাতে। প্রথম তিন ওভারে সাদামাটা বোলিং করা আবদুল গাফফার সাইকলাইন নিজের শেষ ওভারে তৌহিদ হৃদয়ের তালুবন্দী করে নিলেন রায়ান বার্লের উইকেট। ১৮ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান চার উইকেটে ১২৯।

১৯তম ওভারে এসে ভালো বোলিং করলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। একটি ছক্কা হজমের পরও ৮ রান দিয়ে নিলেন উইকেট। ওভারের দ্বিতীয় বলে রিশাদ হোসেন একটুর জন্য ব্র্যড ইভান্সের ক্যাচ মিস করলেও দৌড়ে গিয়ে বল ফেরত পাঠালে ব্যাটার পৌঁছার আগেই উইকেট ভাঙেন পারভেজ হোসেন। সাইফুদ্দিনের পরের বলেই গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান নতুন ব্যাটার ক্লাইভ মাদান্ডে। ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করে রানআউটে কাটা পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন ডিওন মায়ার্স। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেটে ১৪৩ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। দু’টি উইকেট নেন সাইফুদ্দিন। একটি করে উইকেট শেখ মাহেদী, রিশাদ হোসেন ও সাকলাইনের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (বেনেট ৪৭, মারুমানি ৪, মায়ার্স ৭৩, রাজা ৩, বার্ল ৭, ইভান্স ১, মাদান্ডে ০, শুম্বা ৪*, মাপোসা ০*; মাহেদী ১/৩১, সাইফ উদ্দিন ২/৩৫, রিশাদ ১/২৮ ও সাকলাইন ১/৩১)

বাংলাদেশ : ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (সাইফ হাসান ৪, তানজিদ ৬৬*, পারভেজ ২৪, হৃদয় ২৪, ইয়াসির ১০, মোসাদ্দেক ১, সাইফ উদ্দিন ০, মাহেদী ৪*; এনগ্রাভা ২/২০, ইভান্স ২/২৬ ও রাজা ২/৩৮)।

ফল : বাংলাদেশে ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তানজিদ হাসান তামিম।

ম্যান অব দ্য সিরিজ : তানজিদ হাসান তামিম।

সিরিজ : বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী।