কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ডিএমপির সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার। ২০২৪ সালের ২১ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ডিবি হারুন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশকে ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তাকে জিতিয়ে আনেন। নির্বাচনের সময় সেটি ছিল ওপেন সিক্রেট। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বেকায়দায় পড়েন মোকাররম সর্দার। গ্রেফতারও হন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ঠিকই গারদ থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। ভোল পাল্টে সাজেন বিএনপির হর্তাকর্তা। পুনর্বাসনের মাধ্যমে সেই কঠিন পরিস্থিতি উতরে আবারো চেনা রাজত্বে ফিরছেন তিনি। এরই মধ্যে সামাজিক-প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন। এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের গুপি রায়ের হাট ইজারা নিয়ে। এখানেও ঘটিয়েছেন তেলেসমাতি কাণ্ড। বিগত ১৪৩২ বঙ্গাব্দে হাটটির যেখানে ইজারামূল্য ছিল তিন কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে মোকাররম সর্দার হাটটির ইজারা নিয়েছেন মাত্র এক কোটি ২৫ লাখ টাকায়। গত বছরের তুলনায় আড়াই কোটিরও বেশি কম টাকায় গরুর হাটটির ইজারা ভাগিয়ে নিয়েছেন মোকাররম সর্দার। গরুর হাটটি ইজারার ক্ষেত্রে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারালেও কেন এত কম মূল্যে মোকাররম সর্দারকে ইজারা দেয়া হয়েছে- এ নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। পৌনে চার কোটি টাকা থেকে সোয়া এক কোটি টাকায় ইজারা নেমে আসার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে জেলাজুড়ে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সপ্তাহের প্রতি বুধবার গুপি রায়ের হাটটি বসে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গরুর হাটটিতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমান। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই হাটটি জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাটে পরিণত হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে বিগত ১৪৩২ বঙ্গাব্দে হাটটির ইজারামূল্য দাঁড়ায় রেকর্ড তিন কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকায়। স্বভাবতই চলতি বছরে হাটটির ইজারা আরো বেশি হবে বলে সবাই ধারণা করেছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এ বছর হাটটি মাত্র এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়। ইজারা পান ডিবি প্রধান হারুনের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত মোকাররম সর্দার। এর ফলে বিগত বছরের তুলনায় আড়াই কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেকোনো ইজারার ক্ষেত্রে বিগত বছরের তুলনায় পরবর্তী বছরে সাধারণত ইজারার টাকার পরিমাণ বেশি হয়। কিন্তু গুপি রায়ের হাটের ইজারার ক্ষেত্রে হয়েছে এর উল্টো। এই হাটের প্রকৃত সম্ভাব্য আয় গোপন করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় চলতি বছরে কম মূল্যে এই হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। এমনকি তিনবার ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়ার বিধান থাকার পরও প্রথম বিজ্ঞপ্তিতেই ইজারাদার নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ইজারামূল্য ছিল মাত্র ২৫ লাখ টাকা। গত বছরেরটা ব্যতিক্রম ছিল। এত টাকায় ইজারা নিতে কেউ আগ্রহী হননি। এবার সর্বোচ্চ দরদাতাকে পাওয়ায় তাকেই ইজারা দেয়া হয়েছে। কেউ যদি সর্বোচ্চ দর দেয়, তাকে দিতেই হয়। সর্বোচ্চ দরদাতার সব যোগ্যতা ছিল, সেক্ষেত্রে তাকে বাদ দেয়ার কোনো অপশন ছিল না। যদি যোগ্যতা না থাকত, কোনো একটা কারণে তাকে বাদ দিতে পারতাম, তাহলে আমরা আবার টেন্ডার দিতে পারতাম।



