ক্রীড়া প্রতিবেদক
লম্বা সময় ধরে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নির্বাচন হয় না। সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় দায়িত্ব পালন করেছেন ১৫ বছর ধরে। বেশ কয়েকবার নির্বাচনের উদ্যোগ নিলেও অজানা কারণে নির্বাচন হয়নি। অবশেষে নির্বাচন আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। এই নির্বাচনে তামিম ইকবাল কি প্রার্থী হবেন? বিশেষ করে তার সভাপতি প্রার্থী হওয়ার আলোচনাটা বেশ জোরালো।
তামিম ইকবালের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি খোলাসা করেননি তার জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ মোহাম্মদ মিঠুন, ‘আপনাদের এখন নির্দিষ্ট করে কোনো নাম বলতে পারব না। আমাদের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। আমাদের ক্রিকেটারদের স্বার্থে যে কাজ করবে তাকেই আমরা নেতা হিসাবে মনোনয়ন দেবো। সেটা হোক তামিম ইকবাল কিংবা অন্য কেউ।’
তিনি যোগ করেন, ‘অনেকে ব্যক্তি স্বার্থে এবং অনেকে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে। লিডার এমন হওয়া উচিত যে সবাইকে নিয়ে কাজ করবে। এই রকম ব্যক্তি আমরা খুঁজছি। যিনি আমাদের সবার কথা চিন্তা করবেন। শুধু প্রিমিয়ার, প্রথম শ্রেণীর লিগ নয়, জেলা লিগ নিয়েও ভাববেন। কেন জেলা লিগ হচ্ছে না এসবে নজর দেবেন। প্রতিটি জেলায় খেলা বন্ধ, এখানে কোয়াবের দায় আছে। জেলায় যদি কোয়াবের একটা শক্ত ইউনিট থাকত সে কিন্তু জেলা কমিশনার, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে পারত। খেলা চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী হতো।’
মিঠুন যোগ করেন, ‘নির্বাচন উন্মুক্ত, এখানে যে কেউ দাঁড়াতে পারবে। ভোটাধিকার সবার আছে। যাকে যোগ্য ও সঠিক মনে করবে তাকেই ভোট দিবে। তামিম ইকবাল সভার কোনো অংশেই ছিল না। শেষ সভায়ও আসেনি।’
এত দিন কোয়াবের কোনও স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোয়াব মিরপুর স্টেডিয়ামে স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে। গত মার্চে গঠিত কোয়াবের একটি জরুরি সভায় আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি ৮টি বিভাগের ৮ জন বর্তমান ক্রিকেটার এবং ৫ জন সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে নিয়ে কয়েক ধাপে বৈঠক করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। গত পরশু বৈঠক শেষে কোয়াবের অ্যাডহক কমিটির প্রধান সেলিম শাহেদ বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনে আমরা তিন সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া এবং আম্পায়ার্স বিভাগের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু। তার সঙ্গে কমিশনে থাকবেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং বিসিবির এমআইএস বিভাগের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন নাসু।’
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘আগে কখনো কোয়াবে বর্তমান ক্রিকেটাররা সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। এবার আমরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছি। আমরা চাই না, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে কোয়াবের কার্যক্রম চলুক বা বন্ধ হয়ে থাকুক।’


