তিন সপ্তাহের বিচারিক প্রহসন : প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা ও ন্যায়বিচারের সঙ্কট

আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই তিন সপ্তাহের মধ্যে যদি প্রস্তুতি নিতে হতো, তবে আমরা নিশ্চিতভাবে দিশেহারা হয়ে পড়তাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে একসাথে এতগুলো মামলা মোকাবেলা করার মতো পর্যাপ্ত জনবল বা সম্পদ আমাদের ছিল না। ট্রাইব্যুনাল কখনো চাননি, আমরা একটি সুসংহত আইনি মোকাবেলা গড়ে তুলি। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এটি নিশ্চিত করা যাতে আমরা প্রসিকিউশনের সাজানো মামলার কোনো ত্রুটি খুঁজে না পাই। কিন্তু যেহেতু বিচার শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ সময়ের অনেক আগে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি (তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দীসহ) আমাদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল, এর ফলে আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে পেরেছিলাম।

এহসান এ সিদ্দিক
এহসান এ সিদ্দিক |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

প্রসিকিউশনের নথিপত্র হস্তান্তরের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য বিবাদী পক্ষকে মাত্র তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক তো বটেই, এমনকি জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ীও এ সময় একেবারে পর্যাপ্ত ছিল না। তা সত্ত্বেও, এই তিন সপ্তাহের সময়সীমা আর বাড়ানো হয়নি। যথাযথভাবে মামলা পরিচালনায় আমরা আদতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে ট্রাইব্যুনাল কখনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। এ সীমাবদ্ধতার মূলে ছিল ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’-এর ৯(৩) ধারা, যেখানে বলা হয়েছে :

‘বিচারকার্য শুরুর কমপক্ষে তিন সপ্তাহ পূর্বে চিফ প্রসিকিউটর বিচারকার্যে উপস্থাপিতব্য সাক্ষীগণের তালিকা, উক্ত সাক্ষীগণের রেকর্ডকৃত বিবৃতি বা উহার অনুলিপি এবং অভিযোগসমূহের সমর্থনে প্রসিকিউশন যেসব দলিলের ওপর নির্ভর করিবে সেসবের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করিবেন।’

আইনটিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ ছিল যে, প্রসিকিউশনকে সাক্ষীর তালিকা ও দলিলাদি ট্রাইব্যুনালের কাছে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর ‘ন্যূনতম’ তিন সপ্তাহ পূর্বে দাখিল করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল ওই দিনই প্রসিকিউশনের নথিপত্রের একটি প্রতিলিপি বিবাদি পক্ষকে বুঝিয়ে দিতেন। এই তিন সপ্তাহের সময়সীমা ছিল আইনানুযায়ী বিবাদি পক্ষের আইনজীবীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতিতে প্রদেয় সর্বনিম্ন সময়কাল। এর অর্থ দাঁড়ায়, মামলার প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর আগে বিবাদি পক্ষকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় বরাদ্দ করার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের ছিল। বিবাদি পক্ষের আইনজীবী হিসাবে আমরা বারবার এ যুক্তি উপস্থাপন করেছি যে, আমাদের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে আইনের কোথাও কোনো বিধিনিষেধ বা বাধা নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের সব আবেদন অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হয়েছে। একমাত্র রাষ্ট্রপক্ষ মনোনীত কৌঁসুলিরা ছাড়া অন্য সব আইনজীবীর কাছে এই ৩ সপ্তাহের সময়সীমা ছিল অগ্রহণযোগ্য; তারা (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা) এ অন্যায্য স্বল্প সময়ের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটিও করেননি। যারা পলাতক ছিলেন অথবা বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন, তাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে ট্রাইব্যুনাল এই আইনজীবীদের নিয়োগ প্রদান করতেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রাষ্ট্রনিযুক্ত এই প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের প্রাথমিক তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন কেবল আওয়ামী লীগের অনুসারী আইনজীবীরা। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলায় ট্রাইব্যুনাল থেকে নিয়োগ পাওয়া তার রাষ্ট্রপক্ষীয় প্রতিরক্ষা আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস শুকুর খান প্রস্তুতির জন্য তিন সপ্তাহের সময়েই তুষ্ট ছিলেন, তাই তিনি এই সময়সীমার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে কোনো আপত্তি তোলেননি বা শুনানি পেছানোর আবেদনও করেননি। মজার বিষয় হলো, এই আবদুস শুকুর খান সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের কাছে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন, তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

প্রস্তুতির সময়সীমার ওপর আরোপিত এ সীমাবদ্ধতার ফলে আমাদের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে এক হাজারের বেশি পৃষ্ঠার দলিলভিত্তিক প্রমাণ, সাক্ষ্যবিবৃতি ও প্রদর্শনপত্র পর্যালোচনা করতে হয়েছে, অন্য দিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজনে নিজস্ব অনুসন্ধানও সম্পন্ন করতে হয়েছে। প্রস্তুতির জন্য তিন সপ্তাহের এ অপর্যাপ্ততার বিষয়টি অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার অনুধাবন করেছিল; ফলে ২০২৪ সালে আইন সংশোধন করে এ সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ সপ্তাহ করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, ২০২৫ সালে এ সময়সীমা পুনরায় কমিয়ে সেই তিন সপ্তাহে নিয়ে আসা হয়েছে।

যা হোক, প্রস্তুতির জন্য মাত্র তিন সপ্তাহ সময় দেয়া সত্ত্বেও, আমরা আসামিপক্ষে অত্যন্ত বলিষ্ঠ যুক্তি ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। এটি সম্ভব হয়েছিল মূলত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ভেতরে থাকা কিছু ব্যক্তির সহায়তার কারণে, যারা নিজেদের পেশাগত জীবনের বড় ঝুঁকি নিয়েও বিচার শুরু হওয়ার বেশ আগে প্রসিকিউশনের মামলার বিষয়ে আমাদের তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এই সহায়তাটুকু না পেলে, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের পক্ষে যথাযথভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, বিচার শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে আমাদের জানা হয়ে যেত যে, কারা প্রসিকিউশনের সাক্ষী হতে চলেছেন। তদন্ত সংস্থার ভেতরকার বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আমরা প্রায় প্রতিটি তদন্ত রিপোর্টের ডিজিটাল সংস্করণ হাতে পেয়েছিলাম; একই সাথে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রদানকৃত তাদের জবানবন্দীর প্রতিলিপিও আমাদের হস্তগত হয়েছিল। এ তথ্যগুলো ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর ধরন এবং প্রসিকিউশন যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মামলা সাজাতে চেয়েছিল, তা আগেভাগে অনুধাবন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। তদন্ত সংস্থার ভেতর থেকে পাওয়া সেই সহায়তা প্রসিকিউশনের সাজানো মামলাটি দুর্বল করে দিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিল। সাক্ষীদের জবানবন্দীগুলো অনেক আগে আমাদের হাতে এসে পৌঁছানোর ফলে আমরা ঘটনার বিভিন্ন ভাষ্যের মধ্যে তুলনা করতে পারতাম; যার ফলে অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করা এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল। আগাম এই তথ্যের ফলে সাক্ষীরা আদালতে আসার বহু আগে আমরা তাদের জন্য বিস্তারিত জেরা প্রস্তুত করতে পেরেছিলাম। তথ্যের এ প্রাক-প্রাপ্যতা আমাদের তদন্তকারী দলকে প্রস্তাবিত সাক্ষীদের বিশ্বস্ততা নিরূপণের সুযোগ করে দেয়। সেই সাথে ১৯৭১ সালের সুনির্দিষ্ট ঘটনাগুলোর নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল, তা সরেজমিন তদন্ত করার পর্যাপ্ত অবকাশ প্রদান করে। আমাদের তদন্তকারী দলে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিকরা, যারা ওই অঞ্চলের মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ ছিলেন। তারা সাক্ষীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পেছনের ইতিহাস নিয়ে নীরবে অনুসন্ধান চালাতেন। তারা স্থানীয়দের কাছে থেকে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এ ছাড়া ভূমি বিরোধ, রাজনৈতিক বৈরিতা কিংবা বংশগত বিবাদের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে এটি উদ্ঘাটনের চেষ্টা করতেন যে, ঠিক কোন প্ররোচনায় সাক্ষীরা আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

অল্প সময়ের মধ্যে যেসব প্রসিকিউশন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে আমাদের পৃথক নথি প্রস্তুত হয়ে যায়। অনুসন্ধানে প্রায়ই দেখা যেত, তাদের সম্পত্তির প্রলোভন দেখানো হয়েছে কিংবা তাদের সন্তানদের সরকারি চাকরির আশ্বাস দেয়া হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে অনেকে আবার অভিযুক্তের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনগুলো ট্রাইব্যুনালের দফতরে পৌঁছানোর আগে সেগুলো উদ্ধার করার ক্ষেত্রে আমাদের দলের সদস্যরা যে অকুতোভয় ভূমিকা রেখেছিলেন, তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল আমাদের তীক্ষ্ণ জেরার মাঝে; এ আগাম তথ্যপ্রাপ্তি আমাদের আইনি লড়াইকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছিল। তদন্ত সংস্থার ভেতরকার কিছু বিবেকবান ব্যক্তির সহায়তা আমরা পেয়েছিলাম, যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা সাজানোর এ প্রক্রিয়াকে নৈতিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। আইনত আমাদের যে মাত্র তিন সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিল, আগাম তথ্যের কারণে আমরা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সময় হাতে পেয়েছিলাম। আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই তিন সপ্তাহের মধ্যে যদি প্রস্তুতি নিতে হতো, তবে আমরা নিশ্চিতভাবে দিশেহারা হয়ে পড়তাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে একসাথে এতগুলো মামলা মোকাবেলা করার মতো পর্যাপ্ত জনবল বা সম্পদ আমাদের ছিল না। ট্রাইব্যুনাল কখনো চাননি, আমরা একটি সুসংহত আইনি মোকাবেলা গড়ে তুলি। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এটি নিশ্চিত করা যাতে আমরা প্রসিকিউশনের সাজানো মামলার কোনো ত্রুটি খুঁজে না পাই। কিন্তু যেহেতু বিচার শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ সময়ের অনেক আগে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি (তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া সাক্ষীদের জবানবন্দীসহ) আমাদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল, এর ফলে আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে পেরেছিলাম।

আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকারিতা খর্ব করতে ট্রাইব্যুনাল আরো একটি পথ বেছে নিয়েছিলেন, আর তা হলো আমাদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানানো। অথচ এটি ছিল মামলার প্রধানতম ভিত্তি; প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের যাবতীয় অভিযোগ ও আইনি যুক্তির জাল বুনেছিল মূলত এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দী দেয়ার ঠিক আগের দিন ট্রাইব্যুনাল আমাদের প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার জন্য মাত্র ১ ঘণ্টা সময় দিতেন। অথচ ততদিনে আমরা সেই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি ডিজিটাল সংস্করণ সংগ্রহ করে ফেলেছিলাম। একই সাথে মাসের পর মাস তা নিয়ে নিবিড়ভাবে অধ্যয়নও সম্পন্ন করেছিলাম। ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে থাকা মুদ্রিত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দেখতে আমাদের যে ১ ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল, সেই সময়ে আমরা কেবল পৃষ্ঠা নম্বরগুলো টুকে নিয়েছিলাম। এর উদ্দেশ্য ছিল যাতে তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরার সময় আমরা সেই সুনির্দিষ্ট পৃষ্ঠাগুলো দ্রুত উদ্ধৃত করতে পারি। ট্রাইব্যুনাল এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রায়ই আমাদের দেখে বিস্মিত হতেন; কারণ তারা কোনোভাবে মেলাতে পারতেন না যে, মাত্র ১ ঘণ্টার দেখাতে কিভাবে আমরা পুরো তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর এমন অভাবনীয় দখল অর্জন করলাম।

তদন্ত সংস্থার ভেতরে থাকা শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা আমাদের কিছুটা এগিয়ে দিলেও, প্রয়োজনের তুলনায় সময় ছিল নিতান্ত অপ্রতুল। আমাদের আইনজীবীরা অতিরিক্ত পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, যদি পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করা হতো, তবে প্রসিকিউশনের মামলাগুলো আমরা আরো সুচারুভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হতাম।

লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিবন্ধিত কৌঁসুলি