জাভেদ জারিফ
সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে (উপসাগরীয়) সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ঘোষণা করে, ‘ইরানের হামলা দেশটির প্রতি পরিষদভুক্ত দেশগুলোর আস্থায় বড় রকমের ঘাটতি তৈরি করেছে। আস্থা ফেরাতে ইরানকে উদ্যোগী হয়ে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’
আমাদের অঞ্চলে আস্থার পুনঃনির্মাণ একটি মহৎ ও অপরিহার্য লক্ষ্য এবং ইরান এ ব্যাপারে সবসময় উদ্যোগ নিয়েছে। তবু বর্তমান দুঃখজনক পরিস্থিতিতে সব পক্ষের নিজের দায় স্বীকার করা অপরিহার্য।
বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো স্পষ্টত ভুল হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে এবং একটি ভুল পদক্ষেপ। ধারণা করা হয়েছিল, ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মদদপ্রাপ্ত দু’টি পারমাণবিক শক্তির ব্যাপক আক্রমণ রোধ বা জোরালো জবাব দিতে অক্ষম। ওয়াশিংটন, তেল আবিব এবং কিছু আঞ্চলিক রাজধানীর নীতিনির্ধারকরা নিজেদের এমনটা বুঝিয়েছিলেন, অর্থনৈতিক চাপ, অন্তর্ঘাত, গোপন অভিযান, নেতৃত্ব নির্মূল এবং নির্বিচার যুদ্ধাপরাধমূলক দ্রুত অভিযানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়বে। তারা ভুল ভেবেছিলেন। ইরানের প্রতিক্রিয়া ছিল পরিমিত অথচ দৃঢ়। এটি ইরানের সামরিক স্থিতিস্থাপকতা কেবল প্রদর্শন করেনি; বরং এমন মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখানোর সক্ষমতাও দেখিয়েছে, যার প্রতিধ্বনি অঞ্চলের সীমা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ভুল হিসাবের পেছনে জিসিসির সদস্য আমাদের আরব প্রতিবেশীদের গুরুতর ভূমিকা ছিল। আর তাদের বিভ্রান্ত করার ক্ষেত্রে ইরানেরও কিছুটা ভূমিকা থেকে থাকতে পারে। পাঁচ দশক ধরে, তারা ধারাবাহিকভাবে ইতিহাসের ভুল দিকে অবস্থান করেছে- সাদ্দাম হোসেনের আগ্রাসন সমর্থন করেছে। এমনকি ইরানে একজন আরব নেতাকে হত্যার পর আত্মরক্ষার্থে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরাইলকে সাহায্য করেছে। তাদের মধ্যে কেউ আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহিত করেছিল। এমনকি ইরানি নৌবাহিনীকে নিশানা বানানোর পরামর্শও দিয়েছিল। বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয়, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বহু আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও যুদ্ধাপরাধে রসদ সরবরাহে সহায়ক হয়।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ করছিল তখনো তারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেয়। এ ঘটনা ইরানিদের সেই দুঃখজনক দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন এই মুসলিম ভাই-বোনেরাই সাদ্দাম হোসেনের পক্ষ নেয়, যখন তিনি ইরানি ও ইরাকি কুর্দি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেন। প্রতিবেশী আরবদের সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে পরিকল্পিতভাবে চালানো এসব অবৈধ হামলায় ইরানি জনগণ প্রচণ্ড মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়।

যখন দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট হয়ে গেল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখনো তারা প্রমাণ করেছেন- ইরানে মুসলিম ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে এ ধরনের যুদ্ধাপরাধে নিজেদের ভূমি, আকাশ এবং সামরিক স্থাপনার ব্যবহার নিষিদ্ধ, এমনকি সীমিত করতেও অনিচ্ছুক।
আমাদের কিছু আরব প্রতিবেশী ভুলবশত আশা করেছিল, ইরান অক্ষম হয়ে পড়বে। জবাব দিতে পারবে না অথবা এ আগ্রাসনে তাদের সংশ্লিষ্টতা দেখেও না দেখার ভান করবে; যে আগ্রাসন সুস্পষ্টভাবে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অস্তিত্বকে নিশানা করে। তাদের এ বিভ্রম নিতান্ত অলীক কল্পনা বলে প্রমাণিত হয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরিষদভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড থেকে চালানো আক্রমণের জবাব না দিয়ে ইরানের কোনো উপায় ছিল না। তবে ইরান পরিমিত ও সংযত জবাব দিয়েছে।
সামনে এগিয়ে যেতে হলে, আমাদের প্রতিবেশীদের অতীতের এমন বিকৃত ধারণা থেকে এবং নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে দেখানোর অমূলক ঘোষণা থেকে মুক্ত হতে হবে। আমাদের অঞ্চল এখন একটি ক্রান্তিকালের মুখোমুখি। এ সঙ্ঘাত আমদানি করা নিরাপত্তা কাঠামোর ভঙ্গুরতা এবং স্বদেশীয় শক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের অটুট দৃঢ়তা উন্মোচিত করেছে। বিগত জোটের ওপর আরো বেশি জোর দেয়ার পরিবর্তে, এ অঞ্চলের আমাদের ভাই-বোনদের জন্য শ্রেয় হবে একটু থেমে পুনর্মূল্যায়ন করা। এ ঘটনার সঠিক শিক্ষা আত্মনির্ভরশীলতা, আঞ্চলিক স্বকীয়তা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তাজালভিত্তিক ভবিষ্যতের দিকে নির্দেশ করে।
প্রথমত, ইরান ও তার আরব প্রতিবেশীরা এখানে থাকবে। ইরান প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা, বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ, হাইব্রিড যুদ্ধ এবং এমনকি নেতৃত্ব হারানোর মতো পরিস্থিতিও মোকাবেলা করেছে। এর জনগণ বৈচিত্র্যময় হওয়ার পরও বিদেশী হস্তক্ষেপে বারবার দেখিয়েছে যে, তারা ইরানি জাতীয় পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ। অস্তিত্বের সঙ্কট মোকাবেলার সামর্থ্য তেহরানের আছে। সেই সাথে ভৌগোলিক অবস্থান একে এমন সুবিধা দেয়, যা সীমা ছাড়িয়ে গেলে বিশ্ববাজারে বিধ্বংসী পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ইরানের দীর্ঘদিনের সংযম এ ভুল ধারণা তৈরি করেছিল যে, হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। অথচ ইরান অবৈধ ও অনৈতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কার্যত তা থেকে বঞ্চিত ছিল। আমাদের প্রতিবেশীরা এ থেকে বিপুলভাবে লাভবান হয়। ইরানি ভাইদের ওপর চাপানো বেআইনি দুর্দশার ওপর ভর করে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলে।
আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের শক্তিমত্তা আমদানি করা বা কৃত্রিম নয়। এটি গড়ে উঠেছে দেশীয় এবং অপরিবর্তনীয় কিছু উপাদানের ভিত্তিতে : একটি টেকসই ও অবিচ্ছিন্ন সভ্যতা-রাষ্ট্রের হাজার বছরব্যাপী ইতিহাস, সমৃদ্ধ ও সংহত সংস্কৃতি, একটি তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহিরাগত আধিপত্য প্রতিরোধের মাধ্যমে শাণিত হওয়া ও টিকে থাকার সহজাত প্রবৃত্তি। কোনো বিদেশী চাপ, তা যত প্রচণ্ড হোক, এ ভিত্তি পাল্টে দিতে পারে না। যেসব প্রতিবেশী এ বাস্তবতার বিরুদ্ধে বাজি ধরে চলেছে, তারা ভূগোল, ইতিহাস এবং জনসংখ্যাতত্ত্ব উপেক্ষা করতে শুধু নিজেদেরই দোষ দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের অনুসৃত ‘নিরাপত্তা ও উন্নয়ন মডেল’ মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এর সূত্রটি ছিল সহজ : সবচেয়ে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা সংগ্রহে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি- এমনকি ইসরাইলি গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র স্থাপন করে নিরাপত্তা কিনে নেয়া এবং সেই আমদানি করা নিরাপত্তার ছত্রছায়ায় বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ। এ মডেল প্রকৃত নিরাপত্তা কিংবা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা, কোনোটি দিতে পারেনি।
কিছু আরব রাজধানী একটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে। এ ঘটনা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তাদের কুখ্যাতি ছড়িয়েছে। তাদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অমার্জিত ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য সেই সুনামহানি আরো বাড়ায়। এখন ওয়াশিংটন ভাবছে, আমাদের প্রতিবেশীদের তাদের অর্থে অথচ ইসরাইলের পক্ষে শুরু হওয়া এ যুদ্ধের খরচ বহন করতে বাধ্য করবে। এমন খবর নিশ্চিত করে, এ ব্যবস্থার শিকড়ে কেবল ধূর্ততা বিদ্যমান।
যুদ্ধ থেমে গেলে এ ব্যর্থ নিরাপত্তা মডেলের ওপর আরো জোর দেয়া হবে সবচেয়ে বড় ভুল। জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এমন বহিরাগত পৃষ্ঠপোষকের সাথে বেঁধে রাখার বিষয়টি হবে চিরস্থায়ী পরাধীনতা ও নিয়মিত অপমানিত হওয়ার নামান্তর।
তৃতীয়ত, এ যুদ্ধ এমন রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা আমাদের প্রতিবেশীদের স্বীকার করা দরকার। মার্কিন ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি- যেখান থেকে ‘ইরানি সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করার’ আগ্রাসন চালানো হয়েছিল। রসদ সরবরাহ করা হয়েছিল। তাকে একটি নিরীহ ও নিরপেক্ষ নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা যায় না; বরং এটিকে ইরানের অস্তিত্বের সঙ্কট হিসেবে গণ্য করতে হবে- যেমনটি বিগত দু’টি যুদ্ধের সময় এবং এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী শত্রুতাতেও প্রমাণিত হয়েছে। এসব ঘাঁটি তাদের আশ্রয়দাতাদের রক্ষায় নয়; বরং স্থাপন করা হয়েছে আশ্রয়দাতাদের স্বার্থের বিনিময়ে হলেও ইরানের ক্ষতি করতে।
চতুর্থত, এ অঞ্চলে ইসরাইলের ক্রমবিকশিত উপস্থিতি কেবল সঙ্ঘাত ডেকে এনেছে। এটি নিরাপত্তাহীনতা ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার অবক্ষয় ছাড়া আর কিছু বয়ে আনবে না। ইসরাইল শুধু ভূমি দখল করে না; এটি লবি ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সুপরিকল্পিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে। এটি ভেতর থেকে সার্বভৌমত্ব অন্তঃসারশূন্য করে দেয়। একই সাথে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়াকে তার নিজ স্বার্থের সম্প্রসারণে পরিণত করে। ধারাটি বোঝাতে শুধু আইপ্যাক (এআইপিএসি- দ্য আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি) কিভাবে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলো দখল করেছে অথবা কিভাবে একই ধরনের সংস্থাগুলো ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে এ মডেলের অনুকরণ করেছে, তা খতিয়ে দেখাই যথেষ্ট। শুধু খেয়াল করুন, ইসরাইল দেশটি তার আমেরিকান পৃষ্ঠপোষকদের সাহায্য করার একটিও পদক্ষেপ না নেয়ায় এবং আমেরিকানদের রক্ত ও সম্পদের বিনিময়ে নিজের খেয়ালখুশি চাপিয়ে দেয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি কী পরিমাণ বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয়েছে।
যেসব আরব রাষ্ট্র তেল আবিবের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তাড়াহুড়ো করেছে অথবা এর আচরণ অনুকরণ করতে চায়, তারা স্বল্পমেয়াদি বাহ্যিক চাকচিক্যের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি স্ব-শাসন বিসর্জন দিয়েছে। এ অঞ্চলের জনগণ দেখছে, তাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমেই দূরের কোথাও থেকে নির্দেশিত হচ্ছে; কিন্তু এটা দেখার চেয়েও ভালো কিছু তাদের প্রাপ্য।
যে দেশটি এপইস্টোইন ফাইলসহ নানা উপায়ে খোদ তার পৃষ্ঠপোষককে সক্রিয়ভাবে ব্ল্যাকমেল করছে, তার কাছে এটা আশা করা যায় না যে, তার অকার্যকর লৌহ-গম্বুজের (আয়রন ডোম) ওপর ভরসা করে যারা নিজেদের নিরাপত্তা কিনতে চায়, তাদের সাথে সে এর চেয়ে ভালো আচরণ করবে।
পঞ্চমত, সবচেয়ে গঠনমূলকভাবে, ইরানের অতীতের উদ্যোগগুলো- যেমন হরমুজ শান্তি উদ্যোগ, মুসলিম পশ্চিম এশীয় সংলাপ সমিতি বা মধ্যপ্রাচ্য পারমাণবিক গবেষণা ও উন্নয়ন নেটওয়ার্ক ইত্যাদি- অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক সহযোগিতা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রকৃত আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন নিñিদ্র নিরাপত্তা দেবে, এ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে এসব উদ্যোগকে উপেক্ষা করা বা এমনকি খারিজ করে দেয়া ছিল ঐতিহাসিক ভুল।
আগামীর পথ হলো অতীতের ভুল সংশোধন এবং অভিন্ন স্বার্থের ভূমিতে প্রোথিত একটি প্রকৃত স্থানীয় নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
পশ্চিম এশিয়া বিপুল সম্পদ, জ্বালানি উৎস, প্রাচীন সংস্কৃতি, অভিন্ন ধর্ম এবং বহু শতাব্দীর পরস্পর জড়িত ইতিহাসের শরিকানায় সমৃদ্ধ। এ সম্পদ কাজে লাগিয়ে এমন একটি নতুন আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উচিত, যা কোনো বাহ্যিক তত্ত্বাবধান ছাড়া পানির অভাব ও জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মতো সাধারণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবে। এটি এক কৌশলগত অপরিহার্যতা।
এ যুদ্ধ আরামদায়ক বিভ্রমের যুগের অবসান ঘটিয়েছে। স্পষ্ট হয়েছে, নিরাপত্তা কেনা যায় না বা বাইরে থেকে আনা যায় না। ইরানকে নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকিতে ফেলার বিনিময়েও তা অর্জন সম্ভব নয়। যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা উপেক্ষা করা যাবে না, ইরানের অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেয়াও সম্ভব হবে না। বিদেশীরা এখানে শুধু সুবিধা নিতে এসেছে। যখন লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে, তখন চলে যাবে; কিন্তু আমাদের রোজ কিয়ামতের আগমুহূর্ত পর্যন্ত একসাথে বাস করতে হবে।
ইরান দেখিয়ে দিয়েছে, তাকে সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তিগুলোর যুদ্ধযন্ত্র দিয়ে বশীভূত করা যাবে না; বরং সে এ অঞ্চলের মুসলিম ভাই-বোনদের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে আগ্রহী। আসল প্রশ্ন হলো, পশ্চিম এশিয়ার বাকি দেশগুলোর সেই চিরন্তন সত্যের সাথে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার মতো প্রজ্ঞা থাকবে কি না। আসুন, আমরা সবাই মুহূর্তটি কাজে লাগিয়ে এমন এক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি, যা হবে সম্মান, মর্যাদা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে সংজ্ঞায়িত।
লেখক : ইরানের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইরান পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম স্থপতি
(গত ৬ মে আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধ)
অনুবাদ : মুজতাহিদ ফারুকী



