ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ইতিবাচক দিক হলোÑ এটি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সঙ্কটের পর জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অন্তত সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা অতীতের সঙ্ঘাতমুখী রাজনীতির তুলনায় আশাব্যঞ্জক। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংসদকে হতে হবে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের কেন্দ্র, যেখানে রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নগুলো দলীয় সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে বিবেচিত হবে

‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না’-জর্জ বার্নার্ড শ’র এই বিখ্যাত উক্তিটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে এক নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহুবার পথচ্যুত হয়েছে; কখনো একদলীয় শাসনের উত্থানে, কখনো সামরিক কর্তৃত্ববাদের ছায়ায়, আবার কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহঙ্কারে বিরোধী মতকে নিশ্চিহ্ন করার প্রবণতায়। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ঘিরে আজ যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, সেটি কেবল একটি নতুন সরকারের প্রতি রাজনৈতিক প্রত্যাশা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার পর একটি নতুন রাষ্ট্রিক চুক্তির আকাক্সক্ষা।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিএনপির নেতৃত্বে সরকার এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে সক্রিয় উপস্থিতি দেশের সংসদীয় রাজনীতিকে নতুন বিতর্ক, সংলাপ ও ভারসাম্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে; কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- এই সংসদ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক মাইলফলক হয়ে উঠবে, নাকি অতীতের মতোই ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে?

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাস মূলত তিনটি বড় রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে- বাকশালীয় একদলীয় প্রবণতা, এরশাদের সামরিক-আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদ এবং পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের দীর্ঘায়িত স্বৈরতান্ত্রিক শাসন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বহুদলীয় রাজনীতির সমাপ্তি ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে একক রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল। এর ফলে সংসদ কার্যত নির্বাহী বিভাগের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। জনগণের প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তে সংসদ হয়ে ওঠে ক্ষমতার বৈধতা দেয়ার যন্ত্র।

পরবর্তী সময়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো দুর্বল করে। নির্বাচন ছিল নিয়ন্ত্রিত, বিরোধী দল ছিল দমিত, আর রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার রক্ষক। এরশাদ আমলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব আজও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো বহন করছে।

তবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ও গভীর সঙ্কট সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসন। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরি হয়েছিল, তা সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিরোধী দলহীন বা নিয়ন্ত্রিত সংসদ, দলীয়কৃত নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়া, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং প্রশাসনের চরম দলীয়করণ- সবমিলিয়ে বাংলাদেশে একধরনের নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংসদ তখন আর বিতর্কের জায়গা ছিল না; বরং তা পরিণত হয়েছিল একতরফা আইন পাসের যান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে।

এই পটভূমিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আবির্ভাব নিঃসন্দেহে ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করেছে। প্রথম অধিবেশনেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রাণবন্ত বিতর্ক, সংলাপ এবং মতপার্থক্যের রাজনৈতিক প্রকাশ সংসদকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের কয়েকটি প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন- এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, তা সংসদীয় জবাবদিহিতাকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

বিএনপির অতীত শাসনামলেও সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে তুলনামূলকভাবে বহুদলীয় রাজনৈতিক সহাবস্থান, সংবাদমাধ্যমের কিছুটা স্বাধীনতা এবং বিরোধী মতের অস্তিত্ব টিকে ছিল। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের মতো রাজনৈতিক পদক্ষেপ বিএনপির ইতিবাচক অবদান হিসেবে ইতিহাসে বিবেচিত হবে। বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি যদি সেই গণতান্ত্রিক ধারাকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে, তবে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

আশার পাশাপাশি শঙ্কাও রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন সতর্ক করেছিলেন- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল থাকলে গণতন্ত্র দ্রুত অস্থিতিশীলতায় রূপ নেয়। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সেই ঝুঁকি এখনো প্রবল। সংসদে নতুন ও তরুণ সদস্যদের মধ্যে সংসদীয় আচরণ ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অভিজ্ঞতার ঘাটতি দৃশ্যমান। অনেকের মধ্যেই এখনো রাজনীতিকে জনসেবা নয়, ক্ষমতা ও প্রভাবের উৎস হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপের প্রবণতা। উপজেলা পরিষদে এমপিদের জন্য কার্যালয় স্থাপন কিংবা স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের চেতনার পরিপন্থী। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ‘এমপিরাজ’ যে ভয়াবহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হলে ত্রয়োদশ সংসদের গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাবও বড় সমস্যা। রবার্ট মিশেলস তার ‘Iron Law of Oligarchy’ তত্ত্বে বলেছিলেন, বড় রাজনৈতিক সংগঠন শেষ পর্যন্ত গুটিকয়েক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বাংলাদেশের দলীয় কাঠামো এখনো সেই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মনোনয়নবাণিজ্য, ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্ব এবং অর্থবল-প্রভাববলয়ের রাজনীতি সংসদের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হলে কয়েকটি মৌলিক সংস্কার জরুরি। প্রথমত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে, যাতে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ‘বিবেকভোট’ দেয়ার সুযোগ পান। জুলাই সনদে এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করে বিরোধী দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। তৃতীয়ত, সংসদ সদস্যদের সম্পদের বার্ষিক হিসাব ঘোষণা বাধ্যতামূলক করতে হবে। একটি ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন’ প্রণয়ন সময়ের দাবি।

একই সাথে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সংসদীয় গণতন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি। গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও সিডনি ভার্বার ‘Civic Culture’ তত্ত্ব অনুযায়ী কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি অপরিহার্য। বাংলাদেশের তরুণসমাজ এখন সেই রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই শক্তিকে দমন নয়, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সামনে তাই দ্বৈত বাস্তবতা- এক দিকে ঐতিহাসিক সম্ভাবনা, অন্য দিকে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহ উত্তরাধিকার। এই সংসদ যদি প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে সংলাপ, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে এগোয়, তবে এটি সত্যিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। যদি আবারো সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহঙ্কার, দলীয়করণ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ফিরে আসে, তাহলে জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের এই অর্জনও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

জঁ-জাক রুশো একবার বলেছিলেন, ‘মানুষ কেবল ভোট দেয়ার সময় স্বাধীন থাকে; এরপর তারা আবার শাসিত হয়।’ বাংলাদেশের জনগণ যেন আর সেই পরিণতির শিকার না হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কেবল নতুন শাসক তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; এটি হতে হবে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতার প্রতীক। এই সংসদের সফলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর শুভবুদ্ধি, গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা এবং সর্বোপরি জনগণের সচেতন ও অতন্দ্র ভূমিকার ওপর। ইতিহাস বাংলাদেশকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছে- এবার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে- গণ-অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার মধ্য দিয়ে নতুন সূচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি এবং দলীয়করণের সংস্কৃতি সেই সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে। নব্বইয়ের গণ-অভু্যুত্থানের পরও আমরা একটি স্থিতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছিলাম; বরং রাষ্ট্রযন্ত্র ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দলের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষয় হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সামনে তাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জনগণের সেই ভেঙে পড়া আস্থা পুনর্গঠন করা।

এই সংসদকে বুঝতে হবে, গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন নয়; এটি সংখ্যালঘু মতের নিরাপত্তা, বিরোধী মতের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্য রক্ষারও নাম। যদি সংসদ আবারো বিরোধী মতকে শত্রু মনে করে, যদি প্রশাসনকে দলীয় হাতিয়ারে পরিণত করা হয়, যদি বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন রাখা হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হবে। আর সেই হতাশা ভবিষ্যতে আরো বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ইতিবাচক দিক হলো- এটি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সঙ্কটের পর জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অন্তত সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা অতীতের সঙ্ঘাতমুখী রাজনীতির তুলনায় আশাব্যঞ্জক। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংসদকে হতে হবে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের কেন্দ্র, যেখানে রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নগুলো দলীয় সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশের মানুষ আর কাগুজে গণতন্ত্র চায় না; তারা কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ যদি সেই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তবে এটি শুধু একটি সংসদ হিসেবেই নয়; বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবেও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]