বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ব্যঙ্গ-রম্যের চর্চা নতুন নয়। রাজনৈতিক কার্টুন, রম্যরচনা, স্যাটায়ার দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রের অংশ। গণতান্ত্রিক সমাজে হাস্যরসের জায়গা আছে। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করারও জায়গা আছে; কিন্তু প্রশ্ন হলো, ব্যঙ্গ কখন বিদ্রুপে পরিণত হয়? আর বিদ্রুপ কখন ঘৃণা তৈরির অস্ত্রে রূপ নেয়?
প্রথম আলো রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’ আবার প্রকাশ শুরু করেছে। নতুন করে প্রকাশ করা প্রথম সংখ্যা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির আড়ালে প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল।
ব্যঙ্গসাহিত্যের একটি শক্তি আছে। এটি হাসাতে পারে। ভাবাতে পারে। ক্ষমতার মুখোশ খুলে দিতে পারে। কিন্তু একই সাথে এটি চরিত্র হননের অস্ত্রও হতে পারে। ইতিহাস তাই বলে। ইউরোপীয় দার্শনিক উমবের্তো একো বলেছিলেন, সমাজে বিদ্রুপের ভাষা যখন মানবিক মর্যাদা ভাঙতে শুরু করে, তখন তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে। কারণ ভাষা শুধু প্রকাশের মাধ্যম নয়; ভাষা মানসিকতাও তৈরি করে।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এ প্রশ্ন আরো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র। সামাজিক উত্তেজনা গভীর। ধর্মীয় পরিচয়ও সংবেদনশীল বিষয়। এমন বাস্তবতায় একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার ভাষা ও উপস্থাপন কেবল বিনোদন হিসেবে দেখা যায় না। সেটি সমাজে প্রভাব ফেলে। জনমত গড়ে। কখনো কখনো বিদ্বেষও তৈরি করে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ‘রস+আলো’ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে এমন ভাষা ব্যবহার করছে, যা শালীনতার সীমা অতিক্রম করে। বিরোধী রাজনীতিকদের নিয়ে অবমাননাকর শব্দচয়ন, ব্যক্তিগত বিদ্রুপ কিংবা ধর্মীয় ইঙ্গিতপূর্ণ উপহাস- এসবকে অনেকে ‘ভায়োলেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ’ হিসেবে দেখছেন। কারণ সহিংসতা শুধু শারীরিক নয়। ভাষারও সহিংসতা আছে। শব্দ দিয়েও মানুষকে অপমান, বিচ্ছিন্ন ও সামাজিকভাবে হেয় করা যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হান্না আরেন্ট লিখেছিলেন, ঘৃণার রাজনীতি প্রথমে ভাষায় জন্ম নেয়, পরে তা আচরণে ছড়িয়ে পড়ে। সমাজে ‘অন্য’ তৈরির কাজটি শুরু হয় উপহাস ও অবমূল্যায়নে। আজকের বিশ্বে ‘হেট স্পিচ’ নিয়ে এত বিতর্কের মূল কারণও এটি।
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অগণন অশালীন শব্দ প্রয়োগ করা হয়। ব্যক্তিপর্যায়ে গালাগাল, ট্রল বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নতুন নয়; কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র যখন একই ধরনের ভাষাকে ‘স্যাটায়ার’ হিসেবে বৈধতা দেয়, তখন সমস্যা দেখা হয়। মূলধারার মিডিয়ার সামাজিক দায় আছে। সংবাদপত্র শুধু খবর ছাপে না; সমাজের ভাষা ও সংস্কৃতির মানও নির্ধারণ করে। এখানে বড় প্রশ্নটি উঠে আসে। একটি জাতীয় দৈনিকের দায়িত্ব কি সামাজিক বিভাজন বাড়ানো, নাকি তা কমানো?
সমালোচকদের আরেকটি অভিযোগ, এ ব্যঙ্গের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে দ্বৈত মানদণ্ড আছে। ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে সতর্কতা, আর ইসলামপন্থী বা বিরোধী রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে কটাক্ষ- এমন ধারণা বহু পাঠকের মধ্যে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ সন্দেহ আরো গভীর হয়েছে।
বাংলাদেশের বড় অংশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। ফলে ইসলাম বা ইসলামপন্থী রাজনীতিকে অবমাননার ভাষায় উপস্থাপন করলে তা শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না; সামাজিক ক্ষোভেরও জন্ম দেয়। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের উচিত এ বাস্তবতা আমলে নেয়া। এর মানে এ নয় যে, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমালোচনা করা যাবে না। অবশ্যই যাবে। গণমাধ্যমের কাজ সমালোচনা করা; কিন্তু সমালোচনা ও অবমাননার মধ্যে পার্থক্য আছে। যুক্তি ও বিদ্বেষ এক জিনিস নয়। সাংবাদিকতা ও চরিত্রহননও এক নয়।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ নোয়াম চমস্কি বহুবার বলেছেন, মিডিয়া যখন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির ভাষা ধার করে, তখন সেটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন সংবাদ আর সংবাদ থাকে না; তা হয়ে ওঠে মতাদর্শিক প্রচারণা।
বাংলাদেশে প্রথম আলো দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত। পত্রিকাটির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আছে; কিন্তু একই সাথে এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও বহু পুরনো। বিশেষ করে ভারতনীতি, ইসলামপন্থী রাজনীতি এবং বিগত সরকারের প্রতি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। মোট কথা, পত্রিকাটির দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন আছে। যখন মূলধারার কোনো মিডিয়ার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে; তখন সেটি ওই দেশের মিডিয়া থাকে না।
ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও বিতর্ক আছে। সেই সময়ের কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনার সাথে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের যোগসাজশের ঘটনা এখন সবার জানা। ডেইলি স্টারের সম্পাদক নিজে তা স্বীকার করেছেন। কেন তারা এমন কাণ্ড করেছিলেন তা-ও এখন আর অজানা নয়। আজ বাস্তবতা হলো, পাঠক আগের মতো অন্ধভাবে কোনো সংবাদপত্রকে বিশ্বাস করেন না। ডিজিটাল যুগে মানুষ তুলনা করেন। বিশ্লেষণ করেন। পক্ষপাত খুঁজে বের করেন। ফলে একটি সংবাদপত্র যদি ধারাবাহিকভাবে বিদ্বেষ, উপহাস বা রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘৃণার ভাষা শেষ পর্যন্ত সমাজে প্রতিশোধের সংস্কৃতি তৈরি করে। ইতিহাস বলে, অবমাননার রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। সামাজিক ক্ষোভ জমতে জমতে একসময় তা বিস্ফোরিত হয়। তখন যুক্তির জায়গা দখল করে আবেগ। সভ্যতার জায়গা দখল করে মব মানসিকতা। কবি নজরুল লিখেছিলেন, ‘দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ’। সমাজেও একই সত্য কাজ করে। ভাষার দায় একদিন ফিরে আসে।
এ কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সাথে দায়িত্ববোধও জরুরি। ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন’ কোনো সীমাহীন অধিকার নয়। প্রতিটি সভ্য সমাজে এর নৈতিক সীমা আছে। ইউরোপেও আছে। আমেরিকাতেও আছে। বাকস্বাধীনতা যদি মানুষের মর্যাদা ধ্বংসের অস্ত্র হয়ে ওঠে, তখন তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী নয়, দুর্বল করে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আস্থা কমছে। বিভাজন বাড়ছে। এমন সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ব্যঙ্গ থাকতে পারে। সমালোচনা থাকতে পারে; কিন্তু তা যেন ঘৃণার বাজারে পরিণত না হয়। সংবাদপত্রের শক্তি শুধু শব্দে নয়; সেই শব্দের নৈতিকতায়।
সম্পাদক পরিষদ না ক্ষমতার পরিষদ?
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এখন আর শুধু সংবাদ নিয়ে বিতর্ক নেই। বিতর্ক আছে সম্পাদকদের ভূমিকা নিয়েও। বিশেষ করে সম্পাদক পরিষদ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ সংগঠনের নেতৃত্বের ঘন ঘন রাজনৈতিক বৈঠক, ক্ষমতাকেন্দ্রের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং আচমকা রাজনৈতিক অবস্থান বদল অনেককে বিস্মিত করেছে। প্রশ্নটা খুব সরল। যারা এক যুগ ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় প্রায় নীরব ছিলেন, তারা আজ হঠাৎ এত সরব কেন?
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে গত দেড় দশক ছিল তীব্র চাপে। সাংবাদিকদের নামে বাছবিচারহীনভাবে মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় গণমাধ্যমকর্মীরা গ্রেফতার হয়েছেন। সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে। সাংবাদিকরা মাত্রাছাড়া নির্যাতিত হয়েছেন। মতপ্রকাশের অধিকার সঙ্কুচিত হয়েছে। কিন্তু তখন দেশের প্রভাবশালী সম্পাদকদের বড় একটি অংশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনকভাবে নীরব।
যখন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যখন দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, তখন কি উচ্চকণ্ঠ হয়েছিল সম্পাদক পরিষদ? যখন প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমান নিগৃহীত হন, যখন দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ কারাবন্দী হন, তখন কি জোরালো কোনো প্রতিবাদ শোনা গিয়েছিল? উত্তরটি সবাই জানেন। আরো অনেক সাংবাদিক বছরের পর বছর মামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতির মধ্যে ছিলেন। কারো বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করা হয়। কারো বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আনা হয়। কারো বিরুদ্ধে বানোয়াট ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়; কিন্তু তখন সম্পাদক পরিষদ ছিল অদ্ভুতভাবে নীরব। ওই নীরবতাই আজ প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি নৈতিক অবস্থান। সেটি দল দেখে বদলালে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। গণমাধ্যম যদি শুধু ক্ষমতাবানদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলে, তাহলে জনগণ তাকে আর স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে না।
প্রশ্ন উঠেছে সম্পাদক পরিষদে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান নেই কেন? এই সম্পাদকরা ওয়ান-ইলেভেনের পক্ষে দাঁড়াননি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে মতামত উৎপাদন করেননি। তারা বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের পক্ষে কথা বলেছেন।
এটি সবার জানা, সম্পাদক পরিষদের কিছু প্রভাবশালী সম্পাদক দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট হাসিনার ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছেন। শুধু কাছাকাছি নয়, তারা অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বয়ান তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন। বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারণা, চরিত্রহননমূলক ভাষা এবং একপক্ষীয় বিশ্লেষণের অভিযোগ বহু পুরনো।
বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ঘিরে ২০১৪ সাল থেকে যেভাবে সংবাদ, সম্পাদকীয় ও টকশো পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক আছে। অনেকের মতে, সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতার বদলে সেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বেশি কাজ করেছে; কিন্তু রাজনীতির বাতাস বদলাতে দৃশ্যপটেও পরিবর্তন এসেছে। যারা একসময় ক্ষমতার সমালোচকদের দূরে রেখেছিলেন, তারাই এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কথিত শুভাকাক্সক্ষী হয়ে উঠেছেন। আর বিস্ময়ের বিষয় হলো- বিএনপিও তাদের সাদরে গ্রহণ করছে।
এখানেই জনমনে অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। প্রশ্ন ওঠার কারণ- তাহলে কি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটি অংশ সবসময় ক্ষমতার সাথে থাকে? নীতি নয়, সুবিধাই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে? গণমাধ্যম বিশ্লেষক এডওয়ার্ড এস হারম্যান বলেছিলেন, মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সঙ্কট তখন তৈরি হয়, যখন তা ক্ষমতার সমালোচক না হয়ে তার অংশে পরিণত হয়। তখন সাংবাদিকতা আর জনস্বার্থের জায়গায় দাঁড়ায় না; দাঁড়ায় প্রভাবের রাজনীতিতে।
বাংলাদেশেও সেই আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে কেউ অবস্থান লুকাতে পারেন না। মানুষ মনে রাখেন কে কখন নীরব ছিলেন। কে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি। কে সুবিধামতো অবস্থান বদলেছেন।
একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। কোনো সম্পাদক বা সাংবাদিকের রাজনৈতিক মত থাকতে পারে। সেটি অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন সেই মতাদর্শ সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতাও গ্রাস করে, যখন নির্যাতিত সাংবাদিকের পক্ষে কথা বলা হয় দল দেখে। যখন বাকস্বাধীনতার প্রশ্নেও দ্বৈত মানদণ্ড দেখা যায়। আজ বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সঙ্কট বিশ্বাসযোগ্যতার। পাঠক-শ্রোতা এখন শুধু খবর পড়েন বা শোনেন না; খবরের পেছনের উদ্দেশ্যও বোঝার চেষ্টা করেন। ফলে সম্পাদকদের অতীত ভূমিকা, নীরবতা এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এখন জন-আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে সম্পাদক পরিষদের উচিত আত্মসমালোচনা করা। সাংবাদিকতার ইতিহাসে নীরবতারও দায় থাকে। সেই দায় কখনো কখনো উচ্চকণ্ঠ সমর্থনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে বৈকি।
লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন



