স্বাস্থ্য খাত : কাঠামোগত সঙ্কট ও নীতিগত রূপান্তর

মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া কোনো স্বাস্থ্যব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। বাংলাদেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম এবং তাদের বণ্টন অসম। অধিকাংশ চিকিৎসক শহরে অবস্থান করেন, ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হয়। যদি এই সমস্যা সমাধান না করা হয়, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য আরো বাড়বে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে

ডা: মনজুর মোরশেদ
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সীমিত সম্পদ, উচ্চ জনঘনত্ব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি করেছে। গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস এবং টিকাদান কর্মসূচির বিস্তৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। এই অর্জনগুলো নিঃসন্দেহে জাতীয় সাফল্যের প্রতীক। তবে এই সাফল্যের আড়ালে এমন কিছু গভীর সমস্যা রয়েছে, যা সমাধান না করলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি থমকে যেতে পারে।

বর্তমান তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের গড় আয়ু বাহাত্তর থেকে তিয়াত্তর বছর। শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ এবং মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০। টিকাদান কর্মসূচির আওতা প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি, যা একটি বড় অর্জন। কিন্তু এই অগ্রগতি কি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে পৌঁছেছে? বাস্তবতা হলো, শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্তি ও মানের মধ্যে এখনো ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগীর নিজস্ব ব্যয়ে চিকিৎসা গ্রহণ। মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সরাসরি রোগীকে বহন করতে হয়। এই পরিস্থিতি বহু পরিবারকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে দরিদ্র হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যসেবা এখানে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত হলেও বাস্তবে অনেকের জন্য আর্থিক বোঝা। এই অবস্থার পরিবর্তন ছাড়া একটি ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

মানবসম্পদের ঘাটতি স্বাস্থ্য খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। শুধু সংখ্যায় নয়, বণ্টনেও রয়েছে বড় বৈষম্য। শহরাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আধিক্য থাকলেও গ্রামীণ এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাই অনেক সময় অপ্রতুল। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী প্রায়ই দেরিতে চিকিৎসা পায়, যা রোগ জটিল করে তোলে এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্যসেবার সমতা ও ন্যায্যতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

অসংক্রামক রোগের বিস্তার বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সার এখন মোট মৃত্যুর প্রধান কারণ। জীবনধারাগত পরিবর্তন, নগরায়ন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, তামাক ব্যবহার এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এই রোগগুলোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব রোগের অনেকগুলোই প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যেমন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা এখনো যথেষ্ট বিস্তৃত নয়। ফলে রোগগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত না হয়ে দেরিতে ধরা পড়ে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো সেবার মান ও নিয়ন্ত্রণ। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার গুণগত মান একরকম নয়। বেসরকারি খাতে খরচ বেশি হলেও মানের নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না, আর সরকারি খাতে সেবার মান অনেক সময় চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি ছাড়া এই সমস্যা সমাধান করা কঠিন।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সীমিত বাজেটের কারণে অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। অথচ স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সুস্থ জনগোষ্ঠীই একটি উৎপাদনশীল অর্থনীতির ভিত্তি।

এ ছাড়া নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রাম থেকে শহরে মানুষের অভিবাসনের ফলে শহরের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, অতিরিক্ত ভিড় এবং মানের অবনতি দেখা যাচ্ছে। এই চাপ কমাতে হলে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা জরুরি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত রূপান্তরের যে ছয়টি মূল স্তম্ভ উল্লেখ্য, তা শুধু নীতিগত সুপারিশ নয়; বরং একটি টেকসই, ন্যায়ভিত্তিক এবং আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনের জন্য অপরিহার্য ভিত্তি। এখন প্রতিটি বিষয়ে আরো গভীর বিশ্লেষণ করা জরুরি, কেন এগুলো গুরুত্বপূর্ণ, বাস্তবায়ন না হলে কী পরিণতি হতে পারে এবং বাংলাদেশ কিভাবে কার্যকরভাবে এগোতে পারে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ‘প্রথম প্রবেশদ্বার’ হিসেবে এর ভূমিকা উপলব্ধি করতে হবে। একজন রোগী যখন প্রথমবার চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করেন, তখন যদি তার নিকটবর্তী ইউনিয়ন বা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই মানসম্মত সেবা পান, তাহলে রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সম্ভব হয়। এর ফলে জটিলতা কমে, হাসপাতালের ওপর চাপ কমে এবং চিকিৎসাব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। কিন্তু বাংলাদেশে বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ফলে রোগীরা সরাসরি শহরের বড় হাসপাতালে ছুটে যান, যা একটি অকার্যকর ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থা তৈরি করে।

যদি এই অবস্থা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে হাসপাতালগুলো আরো বেশি ভিড়াক্রান্ত হবে, চিকিৎসার মান কমবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরো বঞ্চিত হবে। সমাধান হিসেবে বাংলাদেশকে পরিবারভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থা চালু করতে হবে- যেখানে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করবেন। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় এই ‘পরিবার চিকিৎসক’ মডেল অত্যন্ত সফল। রোগীর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ইতিহাস একজন নির্দিষ্ট চিকিৎসকের কাছে থাকে, ফলে চিকিৎসা হয় ধারাবাহিক ও সমন্বিত।

দ্বিতীয়ত, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা বাস্তবায়ন না করলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি প্রধান উৎস হয়ে থাকবে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষকে চিকিৎসার খরচ নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। এটি শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট। যদি একটি পরিবারকে বড় অসুস্থতার কারণে জমি বিক্রি করতে হয় বা ঋণে ডুবে যেতে হয়, তাহলে সেই পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর প্রভাব বহন করে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। তবে এটি একদিনে সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকিভিত্তিক বীমা চালু করা যেতে পারে, তারপর ধীরে ধীরে মধ্যবিত্ত ও অন্যান্য শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। থাইল্যান্ড এই মডেলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে- তারা সীমিত সম্পদ নিয়েও প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পেরেছে।

স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা একটি মৌলিক প্রয়োজন। কেবল সেবা প্রাপ্যতা বাড়ালেই হবে না, সেই সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার মানে বৈচিত্র্য দেখা যায়- একই রোগের জন্য একেক জায়গায় একেক ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়, যা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদি মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হয়, তাহলে ভুল চিকিৎসা, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয়ের অপচয় বাড়তেই থাকবে।

এক্ষেত্রে একটি জাতীয় মাননিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন, তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশে এ ধরনের ‘স্বীকৃতি ব্যবস্থা’ অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, যা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রসার বাংলাদেশে একটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। বিশেষ করে শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমাতে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে একজন গ্রামীণ রোগী শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে পারেন, যা আগে কল্পনাতীত ছিল। ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড চালু হলে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ সহজ হবে, ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমবে এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

যদি এই ডিজিটাল রূপান্তর না ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবার অদক্ষতা বাড়বে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এস্ত্রোনিয়া একটি উদাহরণ- তারা সম্পূর্ণ ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া কোনো স্বাস্থ্যব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। বাংলাদেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম এবং তাদের বণ্টন অসম। অধিকাংশ চিকিৎসক শহরে অবস্থান করেন, ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হয়। যদি এই সমস্যা সমাধান না করা হয়, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য আরো বাড়বে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

সমাধান হিসেবে গ্রামীণ এলাকায় কাজ করার জন্য প্রণোদনা দিতে হবে- অর্থনৈতিক সুবিধা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, মেডিক্যাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন করতে হবে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের ‘গ্রামীণ প্রণোদনা কর্মসূচি’ সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিনিয়োগ। তামাক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা- এই তিনটি প্রধান ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। যদি এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা কমে যাবে।

এক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করতে হবে, লবণ ও চিনি কমানোর জন্য জাতীয় প্রচারণা চালাতে হবে এবং স্কুলপর্যায়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ফিনল্যান্ড এ ধরনের জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের মাধ্যমে হৃদরোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, এই ছয়টি নীতিগত অগ্রাধিকার কেবল আলাদা আলাদা উদ্যোগ নয়, এগুলো একটি সমন্বিত রূপান্তরের অংশ। যদি এগুলো বাস্তবায়িত হয়- তাহলে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, সমতাভিত্তিক ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। আর যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে বর্তমান অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়বে এবং বৈষম্য আরো গভীর হবে।

লেখক : হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, যুক্তরাষ্ট্র