পার্থেনিয়ামের আগ্রাসন

‘পার্থেনিয়াম নির্মূলে শুধু এক দিনের অভিযান যথেষ্ট নয়। ফুল ফোটার আগেই শিকড়সহ গাছ তুলে নিরাপদ উপায়ে ধ্বংস করতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

যশোর-চুকনগর সড়কের দুই পাশে মাইলের পর মাইলজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে পার্থেনিয়াম নামের এক আগ্রাসী বিষাক্ত আগাছা। দেখতে ছোট ছোট সাদা ফুলে ভরা নিরীহ উদ্ভিদের মতো হলেও এটি জনস্বাস্থ্য, কৃষি, গবাদিপশু ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সড়কের দুই ধারে এতটাই ঘন হয়ে গাছগুলো জন্মেছে যে কোথাও কোথাও দু’টি ভ্যান, মোটরসাইকেল বা ছোট যানবাহন একে-অপরকে অতিক্রম করার সময় যাত্রীদের শরীর ওই গাছের সাথে লেগে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে গাছগুলো বেড়ে উঠলেও সংশ্লিষ্ট কোনো দফতরের দৃশ্যমান নির্মূল কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আগাছাটি আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একসময় যে জমিতে দেশীয় ঘাস ও অন্যান্য উদ্ভিদ জন্মাত, এখন সেখানে দখল নিয়েছে পার্থেনিয়াম। রাস্তার পাশে, খালি জমি, কৃষিজমির আইল, খালপাড় এমনকি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও এ আগাছার বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থেনিয়ামের সবচেয়ে বড় ক্ষতি এর পরাগ ও পাতায় থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ‘পার্থেনিন’। এর সংস্পর্শে এলে ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি, একজিমা, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। কৃষক, পথচারী, সড়ক সংস্কারকর্মী ও মাঠপর্যায়ে কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

শুধু মানুষের স্বাস্থ্য নয়, কৃষিক্ষেত্রেও পার্থেনিয়াম বড় হুমকি। এ আগাছা এমন রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা আশপাশের ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। ফলে ধান, পাট, ভুট্টা, সরিষা, ডালসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। গবাদিপশু ভুলবশত এ গাছ খেলে বিষক্রিয়া, হজমের সমস্যা ও দুধের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থেনিয়াম নির্মূলে শুধু এক দিনের অভিযান যথেষ্ট নয়। ফুল ফোটার আগেই শিকড়সহ গাছ তুলে নিরাপদ উপায়ে ধ্বংস করতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জি এম মিন্টু, যশোর