জাওয়াদ জারিফ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনের পরিবর্তে তা দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের কৌশল ফের আলোচনায় এসেছে। গত পাঁচ দশকের অবমুক্ত গোয়েন্দা নথি, সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের স্মৃতিকথা, অনুসন্ধানী খবর এবং একাডেমিক গবেষণায় একটি অভিন্ন চিত্র উঠে আসে। যেখানে দেখা যায়- ইসরাইলের সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রচেষ্টা ব্যাহত করার অপচেষ্টা করেছে। এ কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী উত্তেজনা বজায় রাখা; যাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরাইলের প্রভাব অটুট থাকে। সময়ের সাথে কৌশল বদলেছে- কখনো গোয়েন্দা তৎপরতা, কখনো জনকূটনীতি, আবার কখনো মার্কিন কংগ্রেসে লবিংয়ের মাধ্যমে; কিন্তু লক্ষ্য ছিল একই- সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রচেষ্টা ব্যাহত করা।
ইরান-ইরাক যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কৌশল
১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ ছিল এ নীতির প্রথম বড় উদাহরণ। গবেষক ত্রিতা পারসি ও ডেভিড মেনাশরির মতে, সে সময় ইসরাইল চাইত না যে ইরান বা ইরাক- কোনো পক্ষ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করুক। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ উভয় দেশকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেবে, এমন ধারণাই ছিল ইসরাইলি কৌশলগত চিন্তার ভিত্তি। যুদ্ধকালীন বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠে। কখনো ইরাকের দুর্বলতা, আবার কখনো ইরানের বিপর্যয় তুলে ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে আপসের সম্ভাবনা কমিয়ে সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত করার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল বলে গবেষকদের অভিমত।
‘সদিচ্ছা থেকে সদিচ্ছার জন্ম’ উদ্যোগের ব্যর্থতা
১৯৯১ সালে লেবাননে পশ্চিমা জিম্মিদের মুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। তৎকালীন ইরানি প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানি মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করেছিলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সদিচ্ছা থেকে সদিচ্ছার জন্ম নীতির বাস্তবায়নের আশা করা হয়েছিল।
কিন্তু জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতাকারী জিয়ানদোমেনিকো পিক্কোর স্মৃতিকথা ম্যান উইদাউট ও গান, এই দাবি করা হয়- নির্ধারিত বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছিল ইসরাইল। যেমন- লেবানিজ ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি বিলম্বিত করা হয়। সেই সাথে নিখোঁজ ইসরাইলি সেনাদের বিষয়ে আলাদা সমঝোতার শর্ত যুক্ত করা হয়। ফলে পারস্পরিক আস্থার যে পরিবেশ তৈরি হতে পারত, তা ভেঙে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থী লবিং, বিশেষ করে এআইপিএসির রাজনৈতিক চাপ, বুশ প্রশাসনের কূটনৈতিক নমনীয়তাকেও সীমিত করে দেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে।
‘অ্যাক্সিস অব ইভিল’ ধারণার উত্থান
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত সহযোগিতা গড়ে উঠেছিল। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জেমস ডবিন্স এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল তাদের স্মৃতিচারণে লিখেছেন- তালেবান-পরবর্তী রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে ইরানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ২০০২ সালের শুরুতে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। ইসরাইল করিন-এ জাহাজ আটক করার ঘটনাকে ব্যাপকভাবে প্রচার করে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ভাষণে ইরান, ইরাক ও উত্তর কোরিয়াকে একসাথে অশুভ অক্ষশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, সে সময় ইসরাইলি নেতারা ওয়াশিংটনকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন, প্রকৃত দীর্ঘমেয়াদি হুমকি ইরান, ইরাক নয়। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিনিয়ামিন বেন-এলিয়েজার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বক্তব্যেও সেই অবস্থান স্পষ্ট ছিল।
পারমাণবিক ইস্যু ও জেসিপিওএ বিরোধিতা
২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইসরাইলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি, ২০০২ সালে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি প্রকাশ না করে মধ্যবর্তী গোষ্ঠীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল, যাতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীকালে তথাকথিত ‘ল্যাপটপ ডকুমেন্টসের’ মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট গবেষণার অভিযোগ সামনে আসে। তবে তৎকালীন আইএইএ মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলবারাদেই পরে তার স্মৃতিকথায় লিখেন, ওই নথির উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর কখনো পাওয়া যায়নি।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) স্বাক্ষরিত হলে ইসরাইল এর সবচেয়ে বড় বিরোধীতে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউজের আমন্ত্রণ ছাড়াই মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়ে চুক্তির বিরুদ্ধে প্রচার চালান, যা দুই মিত্র দেশের সম্পর্কেও অস্বস্তি সৃষ্টি করে। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস, লিওন প্যানেটা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্মৃতিকথায়ও উল্লেখ রয়েছে, নেতানিয়াহু বারবার ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও সামরিক পদক্ষেপ নিতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
ট্রাম্পকে সঙ্ঘাতে জড়ানো
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আগে যেসব অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূলধারার বাইরে ছিল, সেগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। ২০১৮ সালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এমন কিছু নথি উপস্থাপন করেন, যেগুলোকে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ইরান থেকে চুরি করা পারমাণবিক নথির সংগ্রহ বলে দাবি করেন। উপস্থাপনাটি ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে। পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর তা দ্রুতই ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতিতে রূপ নেয়। এই নীতির আওতায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আরো মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করা হয়।
২০২০ সালের শুরুতে সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মার্কিন হামলায় ইরানের জেনারেল কাশেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার ঘটনা উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। আঞ্চলিক প্রতিরোধ ও প্রতিরোধমূলক ভারসাম্যের গতিশীলতা মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়, মার্কিন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করতেন, ইসরাইলের পছন্দ ও অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমশ আরো সঙ্ঘাতমুখী নীতির দিকে ঠেলে দিতে ভূমিকা রেখেছে। হামলার পর প্রকাশিত বিবরণে আরো বলা হয়, প্রশাসনের ভেতরে এমন আশঙ্কাও ছিল, ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরো বিস্তৃত আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। পরে কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, মূলত ইসরাইলের একতরফা পদক্ষেপ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।
২০২৬ সালের সমঝোতা স্মারক বানচাল করা
চলতি বছরের শুরুতে ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক ঘিরে হওয়া আলোচনা দেখায়, কিভাবে অতীতের এ প্রবণতাগুলো এখনো আঞ্চলিক কূটনীতিকে প্রভাবিত করছে। সমঝোতা স্মারক নিয়ে মতবিরোধ দ্রুত আলোচনার টেবিলের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, বাইরের কিছু পক্ষ ওই চুক্তির প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
জুলাই মাসের শুরুতে ঞযব ঔড়ব জড়মধহ ঊীঢ়বৎরবহপব-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা কোনো সন্দেহ ছাড়াই জানি (ইসরাইলি) ব্যবস্থার ভেতরে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যেতে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত ও পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।’
ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইসরাইলি সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অর্থায়ন করেছে। একইসাথে সমঝোতার আলোচনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যাতে সেটি রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। তথ্যযুদ্ধও এ কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে ওঠে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পারস্য ভাষার অনলাইন পরিসরে ইসরাইলের ডিজিটাল প্রভাব কার্যক্রমের মাধ্যমে ওই সমঝোতা স্মারককে ইরানের জন্য অপমানজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। ইরানি কর্মকর্তারা সম্প্রতি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানো। আলোচনার প্রতি জনসমর্থন দুর্বল করা।
আমি ঐতিহাসিক তথ্যের কেবল একটি অংশ পর্যালোচনা করেছি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি পুনরাবৃত্তি ধারা দেখা যায়, যার অনেকগুলোর সাথে আমি নিজেও সরাসরি যুক্ত ছিলাম।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই মৌলিক মতপার্থক্যকে সক্রিয় বৈরিতা ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়া থেকে ঠেকানোর প্রচেষ্টায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটি অনিবার্য সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বারবার একটি বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিযোগিতার ভেতরে পরিচালিত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার কারণে নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা পোষণকারী আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কর্মকাণ্ডের কারণেও।
এসব ঐতিহাসিক তথ্য ইঙ্গিত দেয়, ইসরাইলি ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈরিতাকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে অধিকতর অনুকূল হিসেবে বিবেচনা করেছে। ভবিষ্যতের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে অতীতের মতো ব্যর্থতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে গোয়েন্দা তথ্য, গণমাধ্যম এবং উভয় পক্ষের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার এই পদ্ধতিগত প্রচেষ্টাকে চিহ্নিত ও মোকাবেলা করা অপরিহার্য।
লেখক : ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আলজাজিরা থেকে ভাষান্তর মুহাম্মাদ ইবরাহিম



