শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি

শেখ হাসিনা সবসময় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। তিনি চান সবাই তাকে নিয়ে আলোচনা করুক; তার বীরগাথা, বিশাল দেশপ্রেম, রাষ্ট্রনায়কত্ব, সাহসিকতা ইত্যাদি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকুক। তার দেড় দশকের শাসনামলে দেখা গেছে, মিডিয়া এবং কিছু অলিগার্ক, বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবী তার স্তুতি গাইতে গাইতে তাকে দেবতাতুল্য বানিয়ে ফেলেছেন। তারা প্রকাশ্যে প্রচার করতেন আওয়ামী লীগ বা সরকারের সবাই খারাপ হলেও শেখ হাসিনা অত্যন্ত খাঁটি-পূতপবিত্র! দীর্ঘদিন সেই হাসিনাকে নিয়ে তেমন একটি আলোচনা নেই। সেই নীরবতা কাটাতে হয়তো বা তিনি দেশে ফেরার বিষয়টি রয়টার্সকে এভাবে জানিয়েছেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এখন দেশে-বিদেশে সর্বত্র শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা চলছে

ড. এ কে এম মাকসুদুল হক
ড. এ কে এম মাকসুদুল হক |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

গত ৯ জুলাই পতিত প্রধানমন্ত্রী পলাতক শেখ হাসিনা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। লিখিত প্রশ্নোত্তরে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরে দেশে অর্থাৎ- বাংলাদেশে ফিরবেন। এ সাক্ষাৎকার নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের বক্তব্য, বিশ্লেষকদের মন্তব্য, টিভি টকশো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ইত্যাদি সর্বব্যাপী। তিনি কি আসলে দেশে ফিরবেন? বাস্তব পটভূমি : ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি দৃশ্যত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। ক্ষমতায় এসে তিনি নিজের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেন। ১. জামায়াত-শিবিরকে কোণঠাসা করে শুধু বিএনপিকে একমাত্র বিরোধী শক্তি হিসেবে রেখে নিয়ন্ত্রণ করা; ২. তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা; ৩. সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনসহ সব প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দলীয়করণ এবং তাদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পদানত করে রাখা; ৪. যেকোনো ধরনের বিরোধিতাকে নৃশংসভাবে নির্মূল করা; ৫. ক্ষমতায় থাকার বিনিময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ভারতের কাছে ইজারা দেয়া; ৬. গোয়েন্দা সংস্থার পিঠে সওয়ার হয়ে আইনি বাধা অতিক্রম করা এবং ৭. মিডিয়া ও ব্যবসায়ীদের নতজানু করে রাখা। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আওয়ামী লীগ পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) প্রহসন করে জয়ী হয়। শেখ হাসিনা টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকেন। সেই সাথে গুম-খুন, জেল-মামলা-হামলার মাধ্যমে বিরোধী শিবিরকে দমন-নিপীড়ন করে অহমিকার সাথে দেশ পরিচালনা করেছেন। আর অবারিতভাবে লুটপাট, দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, মসজিদ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কমিটি ছিনতাই এবং বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচারের ব্যবস্থা করেছেন। সেই সাথে একক বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি একের পর এক গণ-আন্দোলন গড়ে তুললেও শেষে গিয়ে সরকার প্রবল ক্ষমতা ব্যবহার করে তা ভণ্ডুল করতে থাকে। এভাবে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পর হাসিনা ছাত্রদের একটি অরাজনৈতিক কোটাবিরোধী আন্দোলনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে ছাত্রদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে যোগ দিলে হাসিনা সরকার গণহত্যা চালিয়ে এক হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা হত্যা এবং ২০ হাজার আহত ও পঙ্গু করে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে ছাত্র-জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার গণভবন অভিমুখে চলে এলে শেখ হাসিনা নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগিতায় হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট।

বাস্তবতা : শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে আছেন। দেশে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৬০০ মামলা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ হত্যা মামলা। ইতোমধ্যে একটি হত্যা মামলায় তার সৃষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। আরো অনেক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনা ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছামাত্র দেশীয় আইন মোতাবেক গ্রেফতার হতে হবে। দেড় দশক একটানা ক্ষমতায় থাকা একজন ক্ষমতাপিয়াসী মানুষ কী করে জেনেবুঝে জেলে বসবাস করতে আসবেন? গণভবনে প্রতিদিন লাখ টাকা মূল্যের খাবার গ্রহণ করা মানুষটি কেন জেলের ভাত খেতে আসবেন?

হাসিনা পালানোর আগে তার পরিবার-পরিজনকে পালানো নিশ্চিত করেছেন। তার সাথে সাথে মসজিদ কমিটিগুলোর নেতা থেকে শুরু করে ৩০০ এমপি, মন্ত্রী, নেতাকর্মী এমনকি বায়তুল মোকাররমের খতিব পর্যন্ত পালিয়েছেন। বাকিদের কেউ দেশে লুকিয়ে আছেন অথবা বিদেশে পালিয়েছেন। অন্য দিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যেও কিছু কট্টর কর্মী-সমর্থক এবং কিছু নেতাকর্মী অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করছেন। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কি আওয়ামী লীগের সমস্যার সমাধান হবে? শুধু নেত্রী এলেই কি হবে? বাকি নেতাকর্মীরা দেশে আসবেন কবে, কিভাবে তাও কিছু বলা যাচ্ছে না। যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘ সময় অবারিত ক্ষমতা, আরাম-আয়েশ, অর্থবিত্ত, জৌলুশ ভোগ করেছেন; তাদের কয়জন হাসিনার এ ডাকে সাড়া দিয়ে দেশে ফিরবেন, তা নিয়েও ঘোরতর সন্দেহ-সংশয় রয়েছে। কারণ যে নেত্রী বিপদে কর্মীদের রেখে আত্মীয়স্বজনসহ পালিয়ে যান সেই কর্মীরা কি আবারো তার ডাকে সাড়া দিয়ে বিপদ ডেকে আনতে প্রস্তুত আছেন?

রাজনীতি ও কূটনীতি : হাসিনার প্রবেশ বা আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান এনসিপি ও জামায়াতের জন্য জীবন-মরণ হুমকি হতে পারে। তা ছাড়া বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা আওয়ামী শাসনে যে বিভীষিকাময় জীবন কাটিয়েছেন তা তারা ভুলে যাননি। কাজেই তারাও মরণপণ লড়াইয়ে নামবেন হাসিনার বিরুদ্ধে। বিএনপির নেতৃত্ব কখনোই জামায়াতের পরিবর্তে আওয়ামী লীগকে বিরোধী দল হিসেবে চায় কি না তাও ভাববার বিষয়। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত বিএনপিকে স্বস্তিতে রেখেছে; কিন্তু আওয়ামী লীগ বিরোধী দল হিসেবে কখনো শান্তিতে দেশ চালাতে দেয়নি। কাজেই বিএনপি সরকার হাসিনার দেশে ফেরার ঝুঁকি নাও নিতে পারে। এমনকি তার দেশে ফেরার দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে বেশি স্বস্তির হতে পারে বিএনপির অবস্থান। অথবা কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করা হতে পারে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা দীর্ঘায়িত করতে!

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কূটনৈতিক বিষয়টিও অত্যন্ত জটিল বলে মনে হয়। প্রথমত, তার বৈধ পাসপোর্ট নেই। তদুপরি হাসিনার প্রত্যাবর্তন বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে ভারতকে দীর্ঘদিন যে সেবা দিয়েছেন, তার কৃতজ্ঞতা দিল্লিকে অবশ্যই আদায় করতে হবে। নইলে আওয়ামী লীগ ভারত সঙ্গ ছেড়ে দিয়ে একটি পরিশুদ্ধ দল হয়ে উঠতে পারে। তখন দ্বিতীয় শেখ হাসিনা আর খুঁজে পাবে না ভারত। কাজেই শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ভারত কিছুতে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে বলে মনে হয় না; বরং এ ব্যাপারে ভারত বৈধ-অবৈধ সবধরনের চাপ বা কৌশল অবলম্বন করতে পারে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক রেখাচিত্র : এতসব বাস্তবতার মধ্যেও কেন শেখ হাসিনা তার সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন। এ প্রশ্নের উত্তর শেখ হাসিনা তার নিজের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং আচার-আচরণে আগেই পরিষ্কার করেছেন। তার নিজের কোনো দূরদর্শিতা নেই। যখন যেটি বলা প্রয়োজন তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য সেটি অবলীলায় বলে ফেলেন; সেটি অত্যন্ত হালকা দৃষ্টিসম্পন্ন হলেও। ১৯৮৬ সালে বিকেলে চট্টগ্রামে জনসভায় শেখ হাসিনা বললেন, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা হবে জাতীয় বেঈমান। ওই রাতে তিনি নির্বাচনে এরশাদের সাথে আঁতাত করেন। ২০০৭ সালে মইনউদ্দীন সরকারের সময় তিনি দেশ ছাড়বেন না জানালেও পরবর্তী সময়ে চাপের মুখে বিদেশে পাড়ি দেন। কিন্তু খালেদা জিয়া দেশ না ছাড়ার আপসহীন অবস্থান নিলে পরে শেখ হাসিনাও দেশে ফিরে আসেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি ১০ টাকা সের চাল খাওয়ানোর অঙ্গীকার করেন; সরকার গঠন করলে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার ঘোষণা দেন; এমপি-মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব পাবলিক করার প্রতিজ্ঞা করেন; কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি ১০ টাকা সের চাল খাওয়ানোর কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। ডেপুটি স্পিকার, সম্পদের হিসাব ইত্যাদি সব অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন।

২০২৪ সালে ১৬-২১ জুন দেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতাকে গণহত্যার সময় কয়েক দিন শেখ হাসিনা পর্দার আড়ালে ছিলেন। তিনি ওই কয়টি দিন নিরাপত্তার জন্য হেলিকপ্টারে ভারতের ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। এরপর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে জনসম্মুখে এসে প্রথমে বলেছিলেন, শেখের বেটি হাসিনা পালায় না; কিন্তু কয়েক দিন পরে ৫ আগস্ট সত্যিই হেলিকপ্টারে ভারত পালিয়ে যান। এরপর পতনের মাসখানেক পর হাসিনা বলেছিলেন, তিনি সীমান্তের কাছে অবস্থান করছেন, যেকোনো সময় ‘চট’ করে দেশে ঢুকে পড়বেন। কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত থাকতে বলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেন না। কাজেই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রোফাইল বলে না যে, তিনি সত্যিই আগামী ডিসেম্বরে দেশে আসাকে মিন করেছেন!

শেখ হাসিনা সবসময় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। তিনি চান সবাই তাকে নিয়ে আলোচনা করুক; তার বীরগাথা, বিশাল দেশপ্রেম, রাষ্ট্রনায়কত্ব, সাহসিকতা ইত্যাদি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকুক। তার দেড় দশকের শাসনামলে দেখা গেছে, মিডিয়া এবং কিছু অলিগার্ক, বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবী তার স্তুতি গাইতে গাইতে তাকে দেবতাতুল্য বানিয়ে ফেলেছেন। তারা প্রকাশ্যে প্রচার করতেন আওয়ামী লীগ বা সরকারের সবাই খারাপ হলেও শেখ হাসিনা অত্যন্ত খাঁটি-পূতপবিত্র! দীর্ঘদিন সেই হাসিনাকে নিয়ে তেমন একটি আলোচনা নেই। সেই নীরবতা কাটাতে হয়তো বা তিনি দেশে ফেরার বিষয়টি রয়টার্সকে এভাবে জানিয়েছেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এখন দেশে-বিদেশে সর্বত্র শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা চলছে।

রাজনীতিতে শেষ কথা নেই : সর্বোপরি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখনো হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। কোনো কার্যক্রম নেই। বিদেশে পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীরাও দেখছেন তাদের দুর্নীতি করে কামানো অর্থবিত্ত দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। তারাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। সবমিলিয়ে এসব নেতাকর্মীকে চাঙ্গা করতে নেত্রীকে এমন আশার বাণী শোনাতে হয়। নইলে এখনো যারা মাঝে মধ্যে ঝটিকা মিছিল করে মারধর বা গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন, তারাও কয়দিন পর আওয়ামী লীগকে ভুলে যাবেন।

তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি রাজনৈতিক। আর রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই- রাজনীতিবিদরা বলে থাকেন। কাজেই কখন কূটনৈতিক অঙ্গনে কী ঘটে; ভারত একজন নেত্রীর জন্য বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ভবিষ্যতে কিভাবে দেখবে তা বলা মুশকিল। আর বিএনপি নিজের আওয়ামী লীগ নীতি নিয়ে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে, তা ঠিক করতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে। ডিসেম্বর আসতে এখনো পাঁচ মাস বাকি। এ সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনাও আবার নতুন কী কথা বলেন, বা করেন তাও দেখতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।

লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক
[email protected]