ফেক ইমেজের শেষ সময়

নতুন পৃথিবীতে ক্যামেরা শুধু মিডিয়ার হাতে নেই। ক্যামেরা এখন মানুষের হাতে। আর মানুষের স্মৃতি এখন অ্যালগরিদমে সংরক্ষিত। সেখানে মুখোশ দীর্ঘ দিন টেকে না। আজ নয়, কাল নয়- কোনো এক সময় সেটি খুলে পড়বে। তখন ইতিহাস নির্মম হয়। সে কাউকে ‘বিশ্বগুরু’ বা ‘অপরিহার্য নেতা’ হিসেবে নয়, বাস্তব চরিত্র হিসেবে মনে রাখে। এ কারণে সময়ের সবচেয়ে বড় সত্য সম্ভবত এটিই- জেন জির যুগে ফেক ইমেজের আয়ু খুব কম। আর জেন আলফাদের কাছে ফেক ইমেজের কোনো অবস্থান নেই

মিডিয়া সব সময় ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত একটি শক্তি। এ শক্তি দিয়ে মানুষকে নায়ক বানানো যায়। আবার একই শক্তি দিয়ে কাউকে খলনায়কও বানানো যায়। বহু দশক ধরে দেশে দেশে মূলধারার মিডিয়া এ কাজ করেছে। কখনো রাষ্ট্রের পক্ষে। কখনো করপোরেট শক্তির পক্ষে। কখনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে। কিন্তু সাম্প্রতিক পৃথিবী বদলে গেছে। তথ্যপ্রবাহ বদলে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা, দর্শক বদলে গেছে।

এক সময় পত্রিকা, টেলিভিশন ও রেডিও ছিল খবরের প্রধান উৎস। মানুষ যা দেখত, তাই বিশ্বাস করত। রাষ্ট্র ও বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো জনমত গঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করত। বাংলাদেশের মানুষও সেই সময় পার করেছে। আমরা দেখেছি কিভাবে শিকারি সাংবাদিকতার মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে। দেখেছি ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে সংবাদকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে মূলধারার গণমাধ্যমের বড় অংশ সরকারের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল।

সাংবাদিকতার কাজ ছিল ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা ক্ষমতার তোষামোদকারী হয়ে উঠেছিলেন। শেখ মুজিবকে প্রায় দেবতুল্য করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। বাকশাল প্রতিষ্ঠার কলঙ্কিত ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। প্রচার করা হয়েছে- হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে না। এসব প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞাপন, বিশেষ অনুষ্ঠান, পাঠ্যপুস্তক, স্মারক, টেলিভিশন অনুষ্ঠান- সবখানে একই বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা গেছে। কিন্তু ইতিহাস দেখিয়েছে, প্রচার আর জনসমর্থন এক জিনিস নয়। ৫ আগস্টের পর দেখা গেল, সেই নির্মিত ইমেজ মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে। রাষ্ট্রের অর্থে তৈরি করা ব্যক্তিপূজা জনমতের আদালতে টেকেনি। শেখ মুজিবের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। হাসিনাকে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

ভারতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি অতিরঞ্জিত ব্যক্তিচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। তাকে ‘বিশ্বগুরু’ বলা হয়েছে। সমালোচনাকে প্রায় রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ কারণে ভারতীয় মূলধারার মিডিয়ার একটি অংশের নাম হয়েছে ‘গোদি মিডিয়া’। শব্দটি এখন আন্তর্জাতিক পরিসরেও পরিচিত। অর্থ স্পষ্ট- ক্ষমতার কোলের ওপর বসে থাকা সংবাদমাধ্যম।

সমস্যা হলো, এই মডেল এখন আর কাজ করছে না।

রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে ৫৪ শতাংশ মানুষ এখন সামাজিক মাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে খবর নিচ্ছেন। টেলিভিশন পিছিয়ে পড়েছে। সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটও পিছিয়ে। রেডিও আরো অনেক নিচে। একই সাথে মাত্র ৩৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা বেশির ভাগ খবরের ওপর আস্থা রাখেন। অর্থাৎ মূলধারার মিডিয়া শুধু দর্শক হারাচ্ছে না, আস্থাও হারাচ্ছে। অতিরিক্ত আনুগত্য সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস করে। সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ ভবন নয়। প্রযুক্তি নয়। পুঁজি নয়। আস্থা। আস্থা হারালে সব হারায়। এটি কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়। এটি মানসিকতার পরিবর্তন। এটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও। এখানেই মূল পরিবর্তন।

বিশেষ করে জেন জি এবং আলফা প্রজন্ম তথ্য গ্রহণে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করছে। তারা কর্তৃত্বকে সহজে মেনে নেয় না। প্রশ্ন করে। বিতর্ক করে। বিকল্প উৎস খোঁজে। আজকের এই জেন জি ও আলফারা সংবাদকে আর একমুখীভাবে গ্রহণ করে না। তুলনা করে। যাচাই করে। ভিডিওর আসল উৎস খোঁজে। সম্পাদিত ক্লিপের পাশে আনএডিটেড ফুটেজ দেখে। ফলে রাজনৈতিক প্রচারণা আগের মতো কার্যকর থাকে না। দিল্লির যন্তর মন্তর বা বিহারের পাটনার আন্দোলনের অনেক দৃশ্য ভারতের বড় টিভি চ্যানেল দেখায়নি। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে সেই দৃশ্য কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। একটি মোবাইল ফোন পুরো সংবাদব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা, তারা অপেক্ষা করে না। কোনো ঘটনা ঘটার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভিডিও চলে আসে। লাইভ সম্প্রচার শুরু হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী নিজের ফোন থেকে তথ্য প্রকাশ করে দেয়। ফলে তথ্য নিয়ন্ত্রণের পুরনো মডেল ভেঙে পড়ছে।

বিশ্বখ্যাত কানাডীয় যোগাযোগ বিশ্লেষক ও লেখক ডন ট্যাপস্কট বলেন, নতুন প্রজন্ম শুধু তথ্য গ্রহণ করে না; তথ্য তৈরি করে, যাচাই করে এবং ভাগাভাগি করে। তারা একা কাজ করার চেয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করতে পছন্দ করে। ইন্টারনেটে প্রচুর তথ্যের কারণে যেকোনো বিষয় সহজে বিশ্বাস না করে তারা সেটি গভীরভাবে যাচাই করে দেখে। ডিজিটাল প্রজন্মের এই বৈশিষ্ট্য এখন আরো স্পষ্ট।

প্রফেসর হেনরি জেনকিন্স একজন বিশ্বখ্যাত মার্কিন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং তাত্ত্বিক। ডিজিটাল যুগে দর্শক বা শ্রোতাদের ভূমিকা এবং সংস্কৃতির ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণায় তাকে সমকালীন মিডিয়া স্টাডিজের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ মনে করা হয়। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতে যোগাযোগ, সাংবাদিকতা এবং সিনেমাটিক আর্টস পড়ান। তিনিও ‘পার্টিসিপেটরি কালচার’ বা অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতির কথা বলেছেন। প্রফেসর হেনরি জেনকিন্স ‘পার্টিসিপেটরি কালচার’বা অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি বলতে এমন একটি সংস্কৃতিকে বুঝিয়েছেন যেখানে সাধারণ মানুষ বা ভোক্তারা কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে তথ্য গ্রহণ করে না, বরং নিজেরাও সক্রিয়ভাবে কনটেন্ট বা মিডিয়া তৈরি, প্রচার এবং তা রূপান্তর করতে অবদান রাখে। জেনকিন্সের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের বিকাশে সনাতন একমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা এখন একটি দ্বিমুখী উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। যেখানে ব্যবহারকারীরা সংস্কৃতির মূল অংশীদার হয়ে ওঠে। তার মতে, নতুন মিডিয়া পরিবেশে দর্শক আর শুধু দর্শক নয়; সে নিজেও নির্মাতা।

ক্লে শিরকি আরেকজন প্রখ্যাত মার্কিন অধ্যাপক, লেখক এবং মিডিয়া তাত্ত্বিক, যিনি ইন্টারনেট প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির এই অধ্যাপক মূলত দেখিয়েছেন, কিভাবে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংবাদিকতা এবং সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। ক্লে শিরকি আরো কঠোর ভাষায় লিখেছিলেন, যারা এক সময় শুধু দর্শক ছিল, তারা এখন নিজেরাই তথ্যপ্রচারক। প্রত্যেক নাগরিক সম্ভাব্য সাংবাদিক। প্রত্যেক মোবাইল সম্ভাব্য সম্প্রচারকেন্দ্র। ফলে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রিত বয়ান এখন আর একক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছে জেন জি। তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানী জিন টোয়েঞ্জ, যিনি তরুণ প্রজন্ম নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন, বলেছেন, জেন জি প্রথাগত কর্তৃত্বের প্রতি আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি সংশয়ী। তারা ব্র্যান্ড, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখায় না। স্বচ্ছতা ও সত্যতার দাবি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ‘ফেক ইমেজ’ এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

অনেক শাসক নিজেকে মার্জিত, জ্ঞানী ও ইতিবাচক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। কিন্তু একই সময়ে তার দলের নেতাকর্মীরা দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন। অতীতে মূলধারার মিডিয়া এই বৈপরীত্য আড়াল করতে পারত। এখন পারে না। সামাজিক মাধ্যম সরাসরি মাঠের ছবি দেখায়। জনগণ নেতার ভাষণ নয়, বাস্তব আচরণ দেখে বিচার করে। জেন জি খুব দ্রুত এই ফারাক ধরতে পারে। তারা বুঝে ফেলে কোন ইমেজ আর্টিফিশিয়াল।

আর সামনে আসছে জেন আলফা। এই প্রজন্ম জন্ম থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শর্ট ভিডিও ও ইন্টারঅ্যাকটিভ প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বড় হচ্ছে। তারা আরো দ্রুত তথ্য গ্রহণ করে। আরো দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয়। কোনো বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার অমিল থাকলে সেটি তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল আলোচনায় পরিণত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের রাজনীতিতে কেবল প্রচারণা দিয়ে টিকে থাকা আরো কঠিন হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। সামাজিক মাধ্যম কি সব সময় সত্যের পক্ষে? অবশ্যই নয়। সেখানে ভুয়া খবরও আছে। বিভ্রান্তিও আছে। কিন্তু পার্থক্য হলো, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী বয়ানের সুযোগ আছে। মূলধারার মিডিয়ায় যখন একপক্ষীয় প্রচার চলে, তখন সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা বক্তব্য দ্রুত উঠে আসে। এ প্রতিযোগিতাই ক্ষমতার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিচ্ছে।

ভারতের সাম্প্রতিক মিডিয়া জরিপগুলো দেখাচ্ছে, দর্শকের বড় অংশ স্বাধীন ইউটিউব চ্যানেল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে। মূলধারার বড় ব্র্যান্ডগুলোর প্রভাব কমছে। এটি শুধু ব্যবসায়িক সঙ্কট নয়; এটি বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট। মানুষ মনে করছে, অনেক টেলিভিশন চ্যানেল আর সংবাদ দিচ্ছে না, রাজনৈতিক অবস্থান প্রচার করছে।

বাংলাদেশের জন্যও এই শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সরকার যদি মনে করে প্রচারযন্ত্রের মাধ্যমে চিরস্থায়ী জনপ্রিয়তা তৈরি করা যাবে, তাহলে সেটি ভুল ধারণা। ইতিহাস বলছে, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রচারণা সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবতা সামনে চলে আসে। মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত টেলিভিশনের স্ক্রিপ্টকে হারিয়ে দেয়।

সাংবাদিকদের জন্যও এটি আত্মসমালোচনার সময়। সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে টিকে থাকবে কি না, সেটি নির্ভর করছে বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। দর্শক এখন শুধু খবর চায় না; সত্য চায়। ভুল হলে স্বীকার করার সংস্কৃতি চায়। ক্ষমতার সাথে দূরত্ব চায়। যারা দলীয় কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন, তারা হয়তো কিছুদিন সুবিধা পাবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পেশাগত মর্যাদা হারাবেন।

সামাজিকমাধ্যমের যুগে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে- ইমেজ আর উপরে থেকে চাপিয়ে দেয়া যায় না। ইমেজ তৈরি হয় মানুষের অভিজ্ঞতা, আচরণ ও ধারাবাহিকতায়। নেতার ভাষণ নয়, তার চারপাশের বাস্তবতা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ দেখছে। রেকর্ড করছে। সংরক্ষণ করছে। তুলনা করছে। এ বাস্তবতায় রাজনীতিবিদদের জন্য বার্তা স্পষ্ট। সত্যের বিকল্প নেই। স্বচ্ছতার বিকল্প নেই। দলীয় প্রচারণা দিয়ে সাময়িক করতালি পাওয়া যায়, কিন্তু জেন জির আদালতে টিকে থাকতে হলে বাস্তব আচরণে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে।

কারণ নতুন পৃথিবীতে ক্যামেরা শুধু মিডিয়ার হাতে নেই। ক্যামেরা এখন মানুষের হাতে। আর মানুষের স্মৃতি এখন অ্যালগরিদমে সংরক্ষিত। সেখানে মুখোশ দীর্ঘ দিন টেকে না। আজ নয়, কাল নয়- কোনো এক সময় সেটি খুলে পড়বে। তখন ইতিহাস নির্মম হয়। সে কাউকে ‘বিশ্বগুরু’ বা ‘অপরিহার্য নেতা’ হিসেবে নয়, বাস্তব চরিত্র হিসেবে মনে রাখে। এ কারণে সময়ের সবচেয়ে বড় সত্য সম্ভবত এটিই- জেন জির যুগে ফেক ইমেজের আয়ু খুব কম। আর জেন আলফাদের কাছে ফেক ইমেজের কোনো অবস্থান নেই।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন