সরকারের ১৮০ দিনে অর্থনীতি

আগামী ১৮০ দিনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ইতোমধ্যে নেয়া উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন। বড় ঋণখেলাপিদের সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হলে মালিকানা, পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের সাথে কঠোর শর্ত যুক্ত করতে হবে। দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা বা বিদ্যমান কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে

আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ শাসনের শেষপর্যায়ে অর্থনীতি এমন নাজুক অবস্থায় পৌঁছে, যেখানে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, ঋণখেলাপি সংস্কৃতি, দুর্বল সুশাসন ও সম্পদের অপব্যবহার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। এর সাথে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ ও সীমিত রাজস্ব আহরণ যুক্ত হয়ে অর্থনীতির ভিত নড়বড়ে করে দেয়। অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছরে এই ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিতে জরুরি ‘রিপেয়ার ও মেইনটেন্যান্স’, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিতকরণ এবং আর্থিক খাত সংস্কারের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। তবে এত বড় সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার সময় পায়নি। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা থেকেই যায়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১৮০ দিন পেরিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি সংস্কার কতটা এগিয়ে নিতে পেরেছে, অর্থনীতির বিদ্যমান সঙ্কট কতটা কমাতে পেরেছে, বিশেষ করে ব্যাংক খাত, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ, রাজস্ব ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে সাফল্য-ব্যর্থতা কতটুকু তার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নই এই লেখার উদ্দেশ্য।

শুরুতেই ব্যাংকিং খাতের চিত্রটি দেখা জরুরি। বাংলাদেশের মতো ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতিতে ব্যাংকের দুর্বলতা সরাসরি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। মার্চ ২০২৫-এ এ হার ছিল ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে ওঠে। কিছুটা কমলেও বর্তমান মাত্রা এখনো উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের হিসাবেও বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার দক্ষিণ এশিয়ার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ গড়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। একই সময়ে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূলধন-ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ অনুপাত ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে যায়। এর প্রভাব নতুন ঋণপ্রবাহেও পড়েছে। মার্চ ২০২৬-এ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বল আর্থিক ভিত্তি নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নেও বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকের মূলধন ও সম্পদমান পুনরুদ্ধার করে টেকসই ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের সঙ্কটকে কেবল তারল্য সমস্যা হিসেবে না দেখে কাঠামোগত সঙ্কট হিসেব মোকাবেলার উদ্যোগ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। জাতীয় সংসদ ১০ এপ্রিল ২০২৬ ব্যাংক রেজুলিউশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এর মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকে সময়মতো হস্তক্ষেপ, পুনর্গঠন, অধিগ্রহণ, পুনঃমূলধনীকরণ কিংবা প্রয়োজন হলে রেজুলিউশনের আওতায় নেয়ার আইনি কাঠামো সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইন প্রণয়ন কেবল প্রাথমিক পদক্ষেপ; এর প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিরপেক্ষ, দ্রুত ও পেশাদার প্রয়োগের ওপর।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের সম্পদের প্রকৃত মান যাচাই বা এ-কিউ-আর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি, পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দেয়া ঋণ এবং জামানতের প্রকৃত মূল্য যথাযথভাবে নিরূপণ না করে কোনো ব্যাংকের প্রকৃত মূলধন ঘাটতি বা ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রতিটির জন্য বাস্তবভিত্তিক ও সময়সীমাবদ্ধ পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু হিসাবের খাতায় ব্যাংক টিকিয়ে রাখা বা বারবার সরকারি অর্থে পুনঃমূলধনীকরণ করলে সঙ্কট দূর হবে না।

একই সাথে ব্যাংক উদ্ধার ও ব্যাংক সংস্কারের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। কার্যকর ব্যাংককে সাময়িক তারল্য সঙ্কটে জরুরি সহায়তা দেয়া যেতে পারে; কিন্তু অকার্যকর ব্যাংককে কেবল তারল্য দিয়ে টিকিয়ে রাখলে ক্ষতি আরো বাড়তে পারে। এ কারণে বিশ্বব্যাংকের ২৪ জুন ২০২৬ অনুমোদিত ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে আমানতের সুরক্ষা, জরুরি তারল্য সহায়তা, ব্যাংক পুনর্গঠন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও তথ্যপ্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ রয়েছে।

খেলাপি ঋণ মোকাবেলায়ও নীতিগত ভারসাম্য প্রয়োজন। প্রকৃত ব্যবসায়িক কারণে সাময়িক সমস্যায় পড়া কিন্তু ভবিষ্যতে সক্ষম ঋণগ্রহীতাকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়া অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক; তবে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বারবার ছাড় দিলে ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি দুর্বল হবে। তাই ব্যবসায়িক ব্যর্থতা ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করে ঋণ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বড় ঋণখেলাপিদের প্রকৃত মালিকানা ও সম্পদ শনাক্তকরণ, দেশে-বিদেশে স্থানান্তরিত সম্পদ অনুসন্ধান এবং আইনানুগভাবে তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কত টাকা উদ্ধার হলো এবং তার কতটা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থায় ফিরল, তার ওপর।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য। দীর্ঘদিনের দুর্বল পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব, ঋণ অনুমোদনে শিথিলতা ও আদায়ে ব্যর্থতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি অর্থের চাপ তৈরি হয়েছে। তাই পরিচালনা পর্ষদে পেশাদারিত্ব, ব্যবস্থাপনায় যোগ্যতা, ঋণ অনুমোদনে কঠোরতা এবং কর্মদক্ষতার সাথে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারি অর্থ দিয়ে ঘাটতি পূরণের পরও একই ধরনের সঙ্কট আবার ফিরে আসার ঝুঁকি থাকবে।

এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা আরো কার্যকর করতে হবে। ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির অর্থ হলো, অনিয়ম ঘটার পর ব্যবস্থা নেয়া নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়া। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ, সংযুক্ত ঋণ, অস্বাভাবিক সম্পদ স্থানান্তর এবং পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন শনাক্তে তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা আধুনিকায়নের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আমানতকারীর আস্থা পুনর্গঠনও জরুরি। ব্যাংক পুনর্গঠন বা রেজুলিউশনের সময় সাধারণ আমানতকারী যেন অনিশ্চয়তায় না পড়েন, সে জন্য কার্যকর আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পেও আমানতকারী ও আমানত সুরক্ষা তহবিল জোরদারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, এই কাঠামো কত দ্রুত বাস্তব ও কার্যকর ব্যবস্থায় রূপ নেয়। অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো বড় চাপ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুন ২০২৬-এ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্য দিকে আইএমএফের জানুয়ারি ২০২৬-এর পূর্বাভাস ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ; তবে জুলাইয়ের পরবর্তী মূল্যায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি এখনো বড় বাধা। এই প্রেক্ষাপটে ৩০ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঋণদানের ঊর্ধ্বসীমার হারও ১১ দশমিক ৫০ থেকে ১১ শতাংশে নামানো হয়েছে, আর আমানত গ্রহণের হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে শুধু সুদহার কমালেই ঋণ ও বিনিয়োগ বাড়বে না। ব্যাংকের দুর্বল ব্যালান্সশিট, উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তা, উচ্চ ব্যবসায়িক ব্যয়, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিনিয়োগের বড় বাধা। তাই প্রয়োজন উৎপাদনশীল, মানসম্মত ঋণ।

বৈদেশিক খাতে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রথম ২৮ দিনে এসেছে ২ দশমিক ৬২১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রফতানি বহুমুখীকরণ, বিদেশী বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে।

রাজস্ব খাত এখনো দুর্বল। আইএমএফের জানুয়ারি ২০২৬-এর পূর্বাভাসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর-রাজস্ব জিডিপির ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য দেখানো হয়েছিল। এত কম রাজস্বভিত্তি নিয়ে ব্যাংক পুনর্গঠন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোয় প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন কঠিন। তাই করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কর ফাঁকি কমানো, প্রত্যক্ষ করের অঙ্ক বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

ব্যাংক পুনর্গঠনের ব্যয় শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়লে এর সাথে মালিকানা, পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের কঠোর শর্ত যুক্ত করা জরুরি। জনগণের অর্থে কোনো ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ করা হবে, অথচ অনিয়মের সুবিধাভোগীরা সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবেন- এ ধরনের ব্যবস্থা ভবিষ্যতে একই সঙ্কটের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৮০ দিনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ইতোমধ্যে নেয়া উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন। বড় ঋণখেলাপিদের সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হলে মালিকানা, পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের সাথে কঠোর শর্ত যুক্ত করতে হবে। দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা বা বিদ্যমান কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য। সঙ্কট আড়াল করে সাময়িক স্বস্তি তৈরি করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরবে না।

সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে অর্থনীতির পূর্ণ পুনরুদ্ধারের সময় হিসাবে নয়; বরং সংস্কারের ভিত্তি শক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসাবে দেখা যুক্তিসঙ্গত। প্রথম ১৮০ দিন যদি সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে থাকে, আগামী ১৮০ দিনই প্রমাণ করবে, সেই ভিত্তি বাস্তব অর্থনৈতিক পরিবর্তনে কতটা কার্যকর হয়।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]