রংপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পরিবারের চারজনকে হত্যার পর ঘাতকেরা নিহতদের বাড়িতেই গোসল সেরেছে, রেফ্রিজারেটর খুলে খেজুর ও শসা খেয়েছে এবং সেখানে বসেই আবার মাদক সেবন করেছে- এমন বিবরণ শুনে গোটা জাতি স্তব্ধ। প্রশ্নটা কেবল এই নয় যে, চারটি প্রাণ ঝরে গেল; প্রশ্নটা আরো গভীর- হত্যার পরও যে নিস্পৃহতা, যে নির্লিপ্ততা, যে আচারিক স্বাভাবিকতা, তা কোথা থেকে আসে? একজন মানুষ কিভাবে আরেকজন মানুষকে হত্যা করে তার ঘরেই নিশ্চিন্তে আহার করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর কোনো একক অপরাধীর মনস্তত্ত্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না; খুঁজতে হবে সমাজের গভীরে, সেই কাঠামোতে, যেখানে নিষ্ঠুরতা ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক থেকে স্বাভাবিকে রূপান্তরিত হচ্ছে। এখানেই প্রয়োজন হয়ে পড়ে একটি ‘নিষ্ঠুরতার সমাজতত্ত্ব’। নিষ্ঠুরতা যেখানে আর ব্যতিক্রম নয়, বরং একটি সামাজিক ব্যাকরণ অর্জন করে ফেলছে।
জার্মান-মার্কিন দার্শনিক হানা আরেন্ট নাৎসি যুদ্ধাপরাধী আইখম্যানের বিচার পর্যবেক্ষণ করে এক অমোঘ ধারণা হাজির করেছিলেন- মন্দের গতানুগতিকতা। তিনি দেখিয়েছিলেন, বিরাট অমানবিকতা সবসময় দানবীয় আবেগ বা রক্তলিপ্সা থেকে জন্ম নেয় না; বরং অনেক সময় তা আসে চিন্তাহীনতা থেকে, দায়িত্ববোধের অনুপস্থিতি থেকে, এক ধরনের যান্ত্রিক নির্লিপ্ততা থেকে- যেখানে ঘাতক নিজের কর্মের নৈতিক ভার অনুভবই করে না। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নিষ্ঠুরতার ছবিগুলো বিশ্লেষণ করলে এই তত্ত্বের ভয়ঙ্কর প্রাসঙ্গিকতা টের পাওয়া যায়। নিষ্ঠুরতা এখানে ‘গতানুগতিক’ হয়ে উঠছে অর্থাৎ তা আর মানুষকে কাঁপায় না, ঘাতককে থামায় না, দর্শককে বিচলিত করে না।
সহিংসতা আর নিষ্ঠুরতা এক জিনিস নয়। সহিংসতা প্রায়ই উদ্দেশ্যমুখী- সম্পদ, প্রতিশোধ কিংবা আধিপত্য অর্জনের হাতিয়ার। কিন্তু নিষ্ঠুরতার মধ্যে থাকে এক ‘উদ্বৃত্ত’- প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক নাটকীয়তা, এক প্রদর্শনীমুখিনতা। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী র্যান্ডাল কলিন্স তার ঠরড়ষবহপব : অ গরপৎড়-ংড়পরড়ষড়মরপধষ ঞযবড়ৎু গ্রন্থে দেখিয়েছেন, সহিংসতা যখন দর্শকমণ্ডলী পায়, তখন তা এক ভিন্ন চরিত্র অর্জন করে; ভিড় নিজেই নিষ্ঠুরতাকে উসকে দেয় ও বৈধতা দেয়। পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে প্রকাশ্যে পাথর মেরে হত্যার ঘটনাটি এই প্রদর্শনীমুখী নিষ্ঠুরতার সবচেয়ে মর্মন্তুদ দৃষ্টান্ত। সেখানে ছিল ভিড়, ছিল ক্যামেরা, ছিল ভিডিও- হত্যাকাণ্ড রূপ নিয়েছিল এক প্রকাশ্য পরিবেশনায়। এটি নিছক খুন নয়; এটি নিষ্ঠুরতার এক সামাজিক অনুষ্ঠান, যেখানে মৃত্যু হয়ে ওঠে দর্শনীয় পণ্য।
এই অবক্ষয়ের একটি সুদূরপ্রসারী ব্যাখ্যা মেলে জার্মান সমাজবিজ্ঞানী নরবার্ট এলিয়াসের ঞযব ঈরারষরুরহম চৎড়পবংং তত্ত্বে। তিনি দেখিয়েছিলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সভ্যতা মানুষের মধ্যে লজ্জা, ঘৃণা ও সহমর্মিতার এক ‘প্রান্তসীমা’ তৈরি করেছে, যা নিষ্ঠুরতাকে সংযত রাখে। কিন্তু এই প্রান্তসীমা চিরস্থায়ী নয়; সামাজিক-রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়লে সমাজ এক ‘বিসভ্যায়ন প্রক্রিয়ার’ দিকে ধাবিত হতে পারে, যেখানে অর্জিত সংবেদনশীলতা একে একে খসে পড়ে। বাংলাদেশে আমরা যেন সেই বিপরীতমুখী যাত্রারই সাক্ষী হচ্ছি- যে দৃশ্য একসময় মানুষকে শিউরে তুলত, তা আজ নিছক সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়েছে।
পোলিশ-ব্রিটিশ চিন্তক জিগমুন্ট বাউমান এই নৈতিক অসাড়তাকে ব্যাখ্যা করেছেন, কিছু আচরণকে নৈতিক বিচারের আওতার বাইরে ঠেলে দেয়ার সামাজিক কৌশল হিসেবে। আধুনিকতা, দূরত্ব ও প্রযুক্তি মিলে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করে, যেখানে নিষ্ঠুরতম কাজও নৈতিক অভিঘাত হারিয়ে ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যা-নির্যাতনের ভিডিও যখন বিনোদনের মতো ‘ভাইরাল’ হয়, লাইক-শেয়ারের স্রোতে ভেসে যায়, তখন নিষ্ঠুরতা রূপান্তরিত হয় ‘কনটেন্টে’। এই পুনরাবৃত্ত প্রদর্শন মানুষের ভেতরকার সহমর্মিতার পেশিকে অসাড় করে দেয় ।
এখানে একটি বিপজ্জনক ভ্রান্তি এড়ানো জরুরি- নিষ্ঠুরতাকে কেবল কতিপয় ‘দানব’ বা ‘বিকৃত মানুষের’ কাজ বলে ভাবলে আমরা মূল সঙ্কটটিকেই আড়াল করে ফেলব। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলগ্রামের বিখ্যাত পরীক্ষা এবং ফিলিপ জিম্বার্দোর স্ট্যানফোর্ড কারাগার-পরীক্ষা আমাদের এক অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি করে- উপযুক্ত পরিস্থিতি, কর্তৃত্বের নির্দেশ ও দায়ভার-বিলুপ্তির কাঠামো পেলে সাধারণ ‘স্বাভাবিক’ মানুষও অনায়াসে নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে। জিম্বার্দো একে বলেছেন, মন্দ কেবল ব্যক্তির স্বভাবে নয়, পরিস্থিতির গঠনেও নিহিত থাকে। এর নিহিতার্থ গভীর : যে সমাজে বিচারহীনতা, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও দলবদ্ধ উন্মত্ততা মিলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে নিষ্ঠুরতার কোনো মূল্য দিতে হয় না, সেখানে নিষ্ঠুরতা আর ব্যতিক্রমী কিছু থাকে না- তা হয়ে ওঠে পরিস্থিতির অনিবার্য ফসল। তাই নিষ্ঠুরতার সমাজতত্ত্ব ব্যক্তির অপরাধকে খাটো না করেও দৃষ্টি ফেরায় সেই কাঠামোর দিকে, যা নিষ্ঠুর হওয়াকে সহজ এবং নিষ্ঠুর না-হওয়াকে কঠিন করে তোলে।
পরিসংখ্যান এই সামাজিক অসুখের একটি বাহ্যিক মানচিত্র এঁকে দেয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হিসাবে চলতি বছরের কেবল দুই মাসেই ছয় শতাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে; পুলিশ সদর দফতরের উপাত্ত বলছে, বছরের প্রথম সাত মাসে খুনের মামলা হয়েছে দুই হাজারের বেশি- মাসে গড়ে প্রায় ৩০০। সংবাদপত্রের ভাষ্যে দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ জন মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু নিষ্ঠুরতার সমাজতত্ত্বের মূল উদ্বেগ কেবল সংখ্যায় নয়; উদ্বেগটি ‘ধরনে’। কিভাবে হত্যা করা হচ্ছে, কী নির্লিপ্ততায় করা হচ্ছে, কী প্রকাশ্যে করা হচ্ছে এবং তারপরও অপরাধী কী নিরাপত্তায় গাঢাকা দিতে পারছে- এই গুণগত বৈশিষ্ট্যই একটি সমাজের নৈতিক তাপমাত্রা নির্দেশ করে।
একটি সমাজে হত্যার সংখ্যা তুলনামূলক কম হয়েও যদি প্রতিটি হত্যা ঘটে প্রকাশ্যে, নির্লিপ্ততায় ও উদ্যাপনের ভঙ্গিতে- যদি ঘাতকের হাত না কাঁপে এবং দর্শকের বিবেক না জাগে- তবে সেই সমাজ পরিসংখ্যানগত আশাবাদ দিয়ে নিজেকে প্রবোধ দিতে পারে না। সংখ্যা কমতে পারে, অথচ নিষ্ঠুরতার গভীরতা বাড়তে পারে; আর এই দ্বিতীয় প্রবণতাই একটি সভ্যতার জন্য অধিক আশঙ্কার। চতুর্দশ শতাব্দীর সমাজচিন্তক ইবনে খালদুন তার ‘আল-মুকাদ্দিমা’য় দেখিয়েছিলেন, প্রতিটি জনসমাজকে ধরে রাখে এক অভ্যন্তরীণ সংহতি ‘আসাবিয়্যা’। এই সংহতি নিছক রক্তসম্পর্ক নয়; এটি এক পারস্পরিক নৈতিক দায়বদ্ধতা, যা মানুষকে অপরের বেদনায় বিচলিত করে। যখন লোভ, অবিচার ও ক্ষমতার দম্ভে এই আসাবিয়্যা ক্ষয়ে যায়, তখন সমাজের বন্ধনসূত্রগুলো আলগা হয়ে পড়ে এবং সেই শূন্যতায় নিষ্ঠুরতা অবাধ বিচরণের ভূমি খুঁজে পায়। ইসলামী নৈতিকতার কেন্দ্রেও রয়েছে ‘রহমত’ বা করুণা- মানুষে-মানুষে সহমর্মিতাই যে সমাজের প্রাণ। সেই করুণার উৎস যখন শুকিয়ে আসে, তখন হৃদয় পাথর হয়, আর পাথর-হৃদয় মানুষই পাথর ছুড়ে মারতে পারে সহনাগরিকের মাথায়।
প্রকাশ্যে গুলি করে কিংবা কুপিয়ে হত্যার সাম্প্রতিক ধারা, যখন দিনদুপুরে জনসমক্ষে হত্যা করে নির্ভয়ে সরে পড়তে পারে, তখন বোঝা যায় সে রাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতাকে অপরাধী আর ভয় পায় না। এই নির্ভীকতাই নিষ্ঠুরতার সবচেয়ে বিপজ্জনক জ্বালানি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মাদকের বিস্তার- রংপুরের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যেও উঠে এসেছে ইয়াবার নাম- কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির সংক্রমণ, অপরাধী চক্রের রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের চাপ। শহুরে দরিদ্র তরুণদের কাছে অপরাধ হয়ে ওঠে ক্ষমতা ও পরিচয়ের দ্রুততম সিঁড়ি।
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয়-সামাজিক নিয়ন্ত্রণ-নৈতিকতার এই স্তম্ভগুলোর দুর্বলতাও নিষ্ঠুরতার উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপান্তর, মূল্যবোধচর্চার অবক্ষয় এবং কেবল জিপিএ-কেন্দ্রিক যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা তরুণ প্রজন্মের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। যে বয়সে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ শেখার কথা, সে বয়সে অনেকেই শিখছে প্রতিযোগিতা, নির্লিপ্ততা ও আত্মকেন্দ্রিকতা। ফলে গড়ে উঠছে এমন এক প্রজন্মের অংশ, যাদের কাছে অন্যের যন্ত্রণা নিছক একটি স্ক্রিনের দৃশ্যমাত্র। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের কোনো একরৈখিক সমাধান নেই; প্রয়োজন বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পুনর্গঠন।
প্রথমত, বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। অপরাধের দ্রুত, দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া নিষ্ঠুরতার লাগাম টানা অসম্ভব। রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে- কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ও নয়।
দ্বিতীয়ত, পুলিশিং ব্যবস্থাকে প্রতিক্রিয়াশীল না রেখে প্রতিরোধমূলক করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, অপরাধ-মানচিত্র বিশ্লেষণ ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অপরাধ ঘটার আগেই তা রুখে দেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে; মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে গোড়া থেকে।
তৃতীয়ত, শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল সনদ- উৎপাদনের কারখানা থেকে বের করে সহানুভূতি, নৈতিক কল্পনা ও সমালোচনামূলক চিন্তার পাঠশালায় পরিণত করতে হবে। অন্যের বেদনা অনুভব করার সক্ষমতা- যাকে বলা যায় নৈতিক পেশি- তা চর্চার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে।
চতুর্থত, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নিষ্ঠুরতাকে চাঞ্চল্যকর ‘কনটেন্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে, কারণ প্রতিটি অসংবেদনশীল প্রদর্শন সমাজের সংবেদনশীলতাকে আরো একধাপ ভোঁতা করে দেয়।
পঞ্চমত, ভেঙে পড়া সামাজিক সংহতি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। অপরাধী চক্রের সাথে রাজনৈতিক আঁতাত ছিন্ন করা, সততা ও সহমর্মিতাকে সামাজিকভাবে সম্মানিত করা এবং নৈতিক-আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ছাড়া কোনো টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের ভাষায়, বলপ্রয়োগের বৈধ একচ্ছত্র অধিকার কেবল রাষ্ট্রের হাতেই থাকতে পারে; সেই একচ্ছত্রতা যখন বিভক্ত হয়ে অপরাধীগোষ্ঠীর হাতে চলে যায়, তখনই নিষ্ঠুরতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।
সবশেষে বলা যায়, নিষ্ঠুরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি সেই সমাজেরই দর্পণ, যে সমাজ একে জন্ম দেয় ও লালন করে। একটি জাতির প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায় সে তার দুর্বলতম সদস্যের সাথে কেমন আচরণ করে তাতে, আর সে এখনো নিষ্ঠুরতায় শিউরে উঠতে পারে কি না তাতে। যেদিন কোনো সমাজ পাশের মানুষের রক্ত দেখে আর কাঁপে না, সেদিন বুঝতে হবে সঙ্কট আইনশৃঙ্খলার নয়, সঙ্কট আত্মার। তাই এর নিরাময়ও হতে হবে আত্মিক-নৈতিক পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সামাজিক সংহতির পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে। মানুষকে আবার শেখাতে হবে অন্যের যন্ত্রণায় ব্যথিত হতে- কারণ সেই ব্যথাবোধই সভ্যতার শেষ প্রহরী।
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



