সারসঙ্কটে দেশজুড়ে হাহাকার

সতর্কতা জরুরি

কৃষিমন্ত্রী কুড়িগ্রামের ঘটনাকে গুজবের ফল বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। মন্ত্রী মুখে যা-ই বলুন, মাঠপর্যায়ে হাহাকার অলীক নয়। তাই মাঠের বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। আগের বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৫ সাল এবং ২০০৬ সালে দেশে একইভাবে সার নিয়ে তুলকালাম হয়েছিল। এর পেছনে বিশেষ মহলের কারসাজি ছিল বলে মনে করা হয়। এমনকি পুলিশের গুলিতে অন্তত চারজন কৃষক নিহতও হন। তখনকার বিরোধী দল ওই ঘটনার পর সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। এখনো সেই একই প্রবণতা একেবারে প্রচ্ছন্ন নয়। খুচরা বিক্রেতা, ডিলার এবং কৃষক সবাইকে ক্ষুব্ধ করে তোলার আয়োজন বেশ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মনে হয়। অতএব সাধু সাবধান।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে ফের সারের হাহাকার পড়েছে। উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে কৃষকরা সার কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ডিলাররা পর্যাপ্ত সার বিক্রি করছেন না। তাদের বিরুদ্ধে দোকান বন্ধ করে রাখা, সার বিক্রিতে গড়িমসিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অনেক জায়গায় বেশি দামে সার বিক্রি করছেন ডিলাররা। পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হয়ে ওঠে যে, সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে গুদাম লুট করেছেন। এই ঘটনা কৃষকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফল। হয়রানির শিকার কৃষকরা ডিলারের সাথে বিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন, কোথাও চড়াও হচ্ছেন। সরকার বলছে, সরবরাহ যথেষ্ট। ডিলার বলছেন, বরাদ্দ কম। কিন্তু সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা পেলে ডিলার সার বের করে দিচ্ছেন। ফলে এটি স্পষ্ট যে, বাস্তবে সারের ঘাটতি নেই।

সামনে বোরো মৌসুম। এই মৌসুমে সারা দেশে সারের চাহিদা মোটামুটি ১৮ লাখ টন। সরকারের হিসাবে চাহিদার চেয়ে সারের মজুদ বেশি আছে। ডিলাররা যাতে কৃষকের কাছে যথাযথভাবে সার বিতরণ করে সেটি তদারকিতে সরকার সারা দেশে অভিযানও চালাচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।

ঘটনা পর্যবেক্ষণে এমন মনে করার কারণ আছে যে, বর্তমান সঙ্কট অনেকটা কৃত্রিমভাবে তৈরি। অসাধু ডিলারদের অবৈধ মজুদ এ জন্য দায়ী। পাশাপাশি আছে পরিকল্পিত অপতৎপরতাও। কোথাও বিশেষ মহল থেকে গুজব ছড়িয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খোদ কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ-সংক্রান্ত নীতিমালা কার্যকরের পেছনেও বিশেষ অভিসন্ধি আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ৪৪ হাজার খুচরা সারবিক্রেতাকে বাদ দিয়ে শুধু ডিলারের মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিলারের ব্যয় বাড়লেও কমিশন বাড়ানো হয়নি। ফলে খুচরা বিক্রেতারা ক্ষুব্ধ, আবার ডিলারও অসন্তুষ্ট। এদিকে নতুন করে ডিলারশিপ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এতেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। অনেক ডিলার বরাদ্দ করা সার না তুলে এলাকায় বলছেন, বরাদ্দ পাননি। এভাবে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা। খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কৃষককে। তারা সার পাচ্ছেন না।

কৃষিমন্ত্রী কুড়িগ্রামের ঘটনাকে গুজবের ফল বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। মন্ত্রী মুখে যা-ই বলুন, মাঠপর্যায়ে হাহাকার অলীক নয়। তাই মাঠের বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। আগের বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৫ সাল এবং ২০০৬ সালে দেশে একইভাবে সার নিয়ে তুলকালাম হয়েছিল। এর পেছনে বিশেষ মহলের কারসাজি ছিল বলে মনে করা হয়। এমনকি পুলিশের গুলিতে অন্তত চারজন কৃষক নিহতও হন। তখনকার বিরোধী দল ওই ঘটনার পর সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। এখনো সেই একই প্রবণতা একেবারে প্রচ্ছন্ন নয়। খুচরা বিক্রেতা, ডিলার এবং কৃষক সবাইকে ক্ষুব্ধ করে তোলার আয়োজন বেশ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মনে হয়। অতএব সাধু সাবধান।