নোয়াখালীর হাতিয়ার উপকূলঘেঁষা চর আতাউর। এ চরে আছে বন বিভাগের ৩০০ একরের শ্বাসমূলীয় সংরক্ষিত বন। আছে গরু ও মহিষের চারণভূমি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাথান মালিকরা হাজার হাজার গরু, মহিষ ও ভেড়া পালন করে আসছেন এ চরে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে, মিটছে আমিষের চাহিদা। সম্প্রতি প্রভাবশালী একটি মহল চর আতাউরের বিভিন্ন অংশ দখলে নিয়ে নিয়েছে। মাটির স্তূপ তৈরি করে, গাছের ডাল পুঁতে সীমানা নির্ধারণ করে দিচ্ছে তারা।
গতকাল নয়া দিগন্তের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এ চরে প্রশাসনের উপস্থিতি সীমিত। এই সুযোগটা নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। তারা ইতোমধ্যে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষাবাদ শুরু করে দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই ভূমিদস্যুরা বহিরাগত প্রভাবশালী চক্র। বছরের পর বছর ধরে চরে বসবাসকারী বাথান মালিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তারা। এমনকি বসবাসকারীদের চর থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টাও করা হচ্ছে। হুমকি-ধামকিতে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শত শত বাথান মালিক। হুমকিতে পড়েছে তাদের জীবিকাও।
এক বাথান মালিক জানিয়েছেন, গত বছর থেকে চর দখলের চেষ্টা শুরু হয়েছে। বর্ষার সময় তাদের বসতির আশপাশের জমিতে চাষাবাদ শুরু করা হয়। এতে গরু-মহিষ চরানোর জায়গা কমে গেছে। তার অভিযোগ, পর্যাপ্ত চারণভূমি না থাকায় অনেক ভূমিদস্যুকে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে পশু চরানোর ব্যবস্থা করতে হয়।
আরেক বাথান মালিক জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে এ চরে মহিষ পালন করছেন। আগে কখনো এমন দেখেননি। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রভাবশালী লোকেরা এসে জমি দখলের চেষ্টা করছে। এতে বাড়ছে উত্তেজনা।
গত বছর চর আতাউরের উত্তরে জাগলার চরে ঘটে গেছে ভয়াবহ ঘটনা। জাগলার চরে জমি দখল ঘিরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন ছয়জন। এ নজির থাকার পরও চর আতাউরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনকে। বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্গম অবস্থান এবং জনবল সঙ্কটে দখল ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। তারা উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সহায়তা চেয়েছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে’ এমন চর্বিতচর্বণ আশ্বাসের মধ্যে আটকে আছে প্রশাসন। এ দিকে ভূমিদস্যুদের সাথে বাথানিদের সঙ্ঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপকূলীয় অঞ্চলের চরগুলো ‘মগের মুল্লুক’ নয়, যে যার মতো লাঠির জোরে দখল করে নেবে। চর আতাউরের এই অবৈধ দখলদারিত্ব অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কেবল সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দায় সারলে হবে না। ৩০০ একর শ্বাসমূলীয় বন রক্ষা করতে হবে। সেই সাথে সুরক্ষা দিতে হবে বাথানিদের। চর আতাউরকে স্থায়ীভাবে ‘গোচারণভূমি’ হিসেবেও ঘোষণা দেয়া যেতে পারে।
আমরা মনে করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যৌথ অভিযান প্রয়োজন। না হয় সঙ্ঘাত লেগে যেতে পারে। নেমে আসতে পারে মানবিক বিপর্যয়। সেই সাথে অর্থনৈতিক বিপর্যয় তো আছেই।



