আর্জেন্টিনা ও নিওনেল মেসির কোটি কোটি দর্শককে হতাশ করে বিশ্বকাপের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফুটবলের নতুন জাদুকর ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের স্পেন। সেরা পারফরম্যান্স করে ১৬ বছর পর শিরোপা জিতেছে দলটি। এর আগে স্পেন ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
মাত্র ১-০ গোলের ব্যবধানে খেলার ফল নির্ধারিত হলেও পুরো ম্যাচে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের। পুরো খেলায় ৬৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেছেন স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা। নান্দনিক ফুটবলের যেটি অন্যতম সৌন্দর্য সেই বল পাসে স্পেন ছিল অনন্য। তাদের ৯০ শতাংশ পাস ছিল নির্ভুল। গোলে শট নিয়েছে স্পেন ২০টি, আর্জেন্টিনা মাত্র তিনটি।
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অনেকগুলো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিতে না পারলে বড় ব্যবধানে হারতে হতো গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন মেসির দলকে। আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি সবচেয়ে দুর্নামের হয়ে থাকতে পারে। কারণ স্পেনের সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মারমুখী হয়ে ওঠেন। দু’বার হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এক খেলোয়াড়। ম্যাচে মোট পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা দল, একটি লাল। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচের খতিয়ানের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয় বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট গত ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিশ্বকাপে কিছু বিতর্কের অবতারণা হয়। তবে এবারের বিশ্বকাপ শুরুই হয় বিতর্কের মধ্য দিয়ে। টিকিটের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে এর যাত্রা। মামলা পর্যন্ত হয়েছে।
ইরানের ফুটবল দলকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি থেকে বিতর্কের সূচনা। আমেরিকার মাটিতে ইরানি দলকে রাতে থাকার অনুমতি দেয়নি দেশটি। খেলোয়াড়দের রাত কাটাতে হয় মেক্সিকোতে। সেখান থেকে দীর্ঘ বিমানযাত্রা করে এসে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়ামে। আবার খেলা শেষে সাথে সাথে দৌড়াতে হয় বিমানে উঠতে। শারীরিক ও মানসিক পীড়ন নিয়েও ইরানি দল যে দুর্দান্ত পারফর্ম করে, সে জন্য তাদের অভিনন্দন।
শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, পরের দিকের ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ের মান নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছায়। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের বিরুদ্ধে লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা। এবার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও চরম ক্ষোভের জন্ম হয়। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল করা এবং সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়। মিসরের কোচ ও অধিনায়ক সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আসর হয়ে থাকবে। তার চেয়েও বড় কথা, ফিফার বিরুদ্ধে বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ। বস্তুত ফিফার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আর কখনো এতটা ধসের মুখে পড়েনি। তাই ভবিষ্যতের যেকোনো বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে খোদ ফিফার অভ্যন্তরীণ মেরামতের প্রয়োজন আছে।



