নিয়ম মেনে চললেই দূর হবে শারীরিক ব্যথা ও বিষণ্ণতা

ঘুমের সমস্যা থাকলেও স্বস্তি ফেরাবে প্রতিদিনের ছক বাঁধা জীবনযাত্রা

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চললে শারীরিক ব্যথা ও বিষণ্নতার লক্ষণ অনেকটাই কমে আসে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভারসিটি অব মিসৌরির এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলেও প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, কাজ করা ও সামাজিক মেলামেশা বজায় রাখলে শরীর ও মনের সুস্থতা বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি সায়েন্স ডেইলি ডট কম এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ করেছে।

দেহ-ঘড়ি ও সোশ্যাল জেটল্যাগ

আমাদের শরীরের ভেতর একটি নিজস্ব ঘড়ি বা 'সারকাডিয়ান রিদম' রয়েছে, যাকে সহজ কথায় দেহ-ঘড়ি বা বডি ক্লক বলা হয়। এই অদৃশ্য ঘড়ির কাজ হলো সারাদিনের ঘুমানো, মেজাজ ঠিক রাখা এবং শরীরের নানা ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে শরীরের এই অভ্যন্তরীণ ঘড়িটি সঠিকভাবে কাজ করে। তবে ছুটির দিনে বা কাজের দিনে ঘুম ও খাওয়ার সময় ঘন ঘন বদলে গেলে শরীরের এই ছন্দ নষ্ট হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় 'সোশ্যাল জেটল্যাগ'—অর্থাৎ সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ঘুম ও জেগে ওঠার সময় বদলে গিয়ে শরীরের নিজস্ব সময়সূচি গুলিয়ে ফেলা।

গবেষণায় ইউনিভারসিটি অব মিসৌরির সহকারী অধ্যাপক ইউনজিন ট্রেসি বলেন, 'ঘুমের মান যেমনই হোক না কেন, যারা প্রতিদিনের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলেন, তাদের শারীরিক ব্যথা ও বিষণ্নতা কম দেখা যায়।'

বয়স্কদের জন্য কেন এটি জরুরি?

ন্যাশনাল কাউন্সিল অন এজিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষদের প্রায় অর্ধেকই অনিদ্রায় ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের শারীরিক ব্যথা ও বিষণ্নতার তীব্রতা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি হয়। তবে মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭ জন প্রবীণের (যার মধ্যে ৩৭ জন অনিদ্রার রোগী) ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা যায়, যাদের রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়, তারাও যদি দিনের বেলায় একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম ধরে রাখেন, তবে কষ্ট অনেক কম অনুভব করেন।

গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেবল রাতের ঘুমের দিকে নজর না দিয়ে পুরো ২৪ ঘণ্টার অনিয়ম দূর করার দিকে নজর দেয়া উচিত। পুরো সপ্তাহজুড়ে একই নিয়ম ধরে রাখলে শরীরের অভ্যন্তরীণ দেহ-ঘড়ি ঠিক থাকে। দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মেজাজ দুটোই ভালো থাকে।