দায়িত্ব গ্রহণের ২৭ দিনের মাথায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ’র প্রেস উপদেষ্টা দীপা দাহাল গুরুংয়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজেই পালন করবেন।
এর আগে, ২৭ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সুদান গুরুং।
গুরুং জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতেই তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমার কাছে নৈতিকতা পদ-পদবির চেয়ে বড় এবং জনআস্থার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই... জনজীবন হতে হবে স্বচ্ছ, নেতৃত্ব হতে হবে জবাবদিহিমূলক।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুংয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক বিনিয়োগ, সম্পদের উৎস ও অর্থপাচারের তদন্তাধীন এক ব্যবসায়ীর সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সরকারের ওপর গুরুংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চাপ বাড়তে থাকে।
বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের অভিযোগ, গুরুং দায়িত্বে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে না। দলটি সোমবার (২০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকাটা স্বাভাবিক। এ সময় তারা ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ’ তদন্ত দাবি করে।
তবে, সোমবার গুরুং এসব অভিযোগকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘অভিযোগ আর সত্য এক বিষয় নয়। সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগের ভিত্তিতে নয়।’
উল্লেখ্য, নেপালের নতুন গঠিত সরকারে দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে গুরুং পদত্যাগ করলেন। এর আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শ্রমমন্ত্রীকে অপসারণ করা হয়েছিল।
সূত্র : বাসস



