ইসরাইলি বাহিনীতে ইরানি গুপ্তচরবৃত্তির জাল, ২ সেনা সদস্য গ্রেফতার

ইসরাইলি সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান লি আয়্যাশ এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুপক্ষকে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ এনে কয়েক দিনের মধ্যে মামলা করা হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

ইরানের হয়ে গোয়েন্দাগিরি করার অভিযোগে ইহুদিবাদী ইসরাইল নিজেদের বিমান বাহিনীর দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মহলে তোলপাড় চলছে।

মিডল ইস্ট মনিটর ও আনাদুলু অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, এই দুই সেনা সদস্যকে প্রায় এক মাস ধরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই-টোয়েন্টিফোর নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানি গোয়েন্দারা অত্যন্ত কৌশলে এই সেনা সদস্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল এবং তাদের পদমর্যাদাকে ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম, স্পর্শকাতর ঘাঁটি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে।

ইসরাইলি সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান লি আয়্যাশ এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুপক্ষকে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ এনে কয়েক দিনের মধ্যে মামলা করা হবে।

একে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছে না, বরং একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। কারণ এর আগে গত ২০ মার্চ আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কর্মরত এক রিজার্ভ সেনা সদস্যকেও একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা কয়েক গুণ বেড়েছে। এই গোয়েন্দা তৎপরতা সেই চরম উত্তেজনারই একটি অংশ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসলামাবাদে গত ১২ এপ্রিলের আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ওয়াশিংটন এবং তেহরান আবারো আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গ্রেফতার হওয়া এই দুই সদস্যের মাধ্যমে আর কোনো তথ্য পাচার হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল ইউনিটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি এক সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো যখন ইরানি স্পিকার কালিবাফ ও অন্য শীর্ষ নেতারা আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে সক্রিয় রয়েছেন। ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র হওয়ার জোর দাবি করে তেল আবিব। এ সত্ত্বেও খোদ বিমান বাহিনীর অন্দরমহলে ইরানি গোয়েন্দাদের এই অনুপ্রবেশ তেল আবিবের প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। তথ্যের এই গোপন লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।