মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করে তাদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেছেন, তা না হলে পশ্চিমা বিশ্বে ‘অচলাবস্থা’ তৈরি হতে পারে।
ডানপন্থী ব্রাদার্স অব ইতালি দলের নেত্রী ও ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেলোনি দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন।
এএফপি জানায়, ইতালির পার্লামেন্টে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এটা অস্বীকার করা যায় না যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধে অংশ না নেয়াকে কেন্দ্র করে—জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মেলোনি বলেন, ‘আমরা যাকে পশ্চিমা বিশ্ব বলি, তা দুইটি চাকার ওপর দাঁড়িয়ে- ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকান। এই দুইটি যদি একসাথে না চলে, তাহলে পশ্চিমা বিশ্ব অচল হয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিকতা হারাবে।’
তিনি আরো বলেন, তার সরকার ‘দৃঢ়ভাবে পশ্চিমাপন্থী’, কারণ পশ্চিমা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বৈশ্বিক মঞ্চে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, যেমন শুল্কনীতি এবং ন্যাটোর গুরুত্ব, ইতালি তা প্রকাশ করেছে।
মেলোনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো আটলান্টিকের দুই পাড়কে এক রাখা, পাশাপাশি ন্যাটোকে শক্তিশালী করা এবং ইউরোপকে আরো আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।
তিনি আরো বলেন, ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এমন একটি ‘সুষম কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে বাইরের নির্ভরতা কমে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।



