পুতিনের সফরের আগের দিন ইউক্রেন উপকূলে চীনা জাহাজে রুশ ড্রোন হামলা

আজ সোমবার এই ড্রোন হামলায় দুটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের এবং অন্যটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ওডেসা বন্দর এলাকায় বেসরকারি জাহাজ ও কারখানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া
ওডেসা বন্দর এলাকায় বেসরকারি জাহাজ ও কারখানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া |সংগৃহীত

ভ্লাদিমির পুতিন যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করতে বেইজিং যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তার আগের দিন কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অভিমুখে যাওয়া একটি চীনা মালবাহী জাহাজসহ দুটি জাহাজে আঘাত হেনেছে রুশ ড্রোন।

ইউক্রেনের বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ সোমবার এই ড্রোন হামলায় দুটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের এবং অন্যটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজ। দুটি জাহাজই ওই অঞ্চলের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

এএফপি, রয়টার্স ও এপির বরাত দিয়ে আল জাজিরা আজ আরো জানিয়েছে, ইউক্রেনের নৌবাহিনী মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং চীনের মালিকানাধীন ‘কেএসএল ডেয়াং’ নামের একটি মালবাহী জাহাজে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। জাহাজটিতে চীনা ক্রু বা নাবিকদল ছিল।

নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজটির একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে এর নামের একপাশ আংশিকভাবে পুড়ে যাওয়ার দাগ দেখা যাচ্ছে। রাতভর ইউক্রেনে চালানো বড়সড় এক অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। রাতভর এ হামলা ৫২৪টি ড্রোন ব্যবহার করেছে রুশ বাহিনী।

কূটনৈতিক সফরের মুখে উত্তপ্ত কৃষ্ণসাগর

চার বছর আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই ওডেসা বন্দর এলাকায় বেসামরিক জাহাজে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রফতানির জন্য এই ওডেসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক কেন্দ্র। তবে সোমবারের এই হামলার টাইমিং বা সময়টা বেশ নজর কাড়ছে, কারণ পুতিনের দুই দিনের বেইজিং সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘটনা ঘটল।

পুতিনের এ সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ড্রোনগুলো ওডেসায় আঘাত হেনেছে এবং এর মধ্যে একটি ড্রোন চীনের মালিকানাধীন জাহাজে গিয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, সাগরে কোন জাহাজটি রয়েছে, সেটা রাশিয়ার না জানার কারণ নেই।

সূত্র : আল জাজিরা