ফ্রান্সে মার্কিন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে চলমান তদন্তে নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। দেশটির তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এপস্টিন-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে কমপক্ষে ১০ জন নতুন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের বিষয়ে আগে কোনো তথ্য ছিল না। নতুন এই তথ্য সামনে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারো আলোচনায় এসেছে এপস্টিনকাণ্ড।
রোববার (১৭ মে) ফরাসি সংবাদ মাধ্যম আরটিএল-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসিকিউটর লর বেক্যু বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সামনে এসে কথা বলার আহ্বান জানানোর পর প্রায় ২০ জন নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিষয়ে তদন্তকারীরা আগে থেকেই অবগত ছিলেন। তবে নতুন করে আরো কমপক্ষে ১০ জন সামনে এসেছেন, যাদের বিষয়ে আগে কোনো তথ্য ছিল না।’
প্যারিসের প্রসিকিউটর জানান, নতুন ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে তারা কখন প্যারিসে এসে সাক্ষ্য দিতে পারবেন, সে অনুযায়ী তদন্তকারীরা সময় নির্ধারণ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে শিশু ও তরুণীদের যৌন শোষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন জেফরি এপস্টিন। অভিযোগ রয়েছে, ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক ব্যবহার করে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতনের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে গ্রেফতারের পর কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি থামেনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত হাজারো নথি প্রকাশের পর ফ্রান্সও মানব পাচার–সংক্রান্ত পৃথক তদন্ত শুরু করে। ফরাসি তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ফ্রান্সে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধ কিংবা এপস্টিনের কর্মকাণ্ডে কোনো ফরাসি নাগরিক বা সহযোগী জড়িত ছিলেন কি-না।
তদন্তের অংশ হিসেবে এপস্টিনের কম্পিউটার, টেলিফোন রেকর্ড ও ব্যক্তিগত ঠিকানার খাতা পুনরায় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব তথ্য থেকে তার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রসিকিউটর লর বেক্যু জানান, তদন্ত এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্যও আবেদন করা হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সাথে তথ্য আদান–প্রদানের মাধ্যমে এপস্টিনের আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, তদন্তে আরো কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জ্যঁ-লুক ব্রুনেল, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং ২০২২ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন। এছাড়া সাবেক মডেল অ্যাজেন্সি নির্বাহী জেরাল মারির বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, যদিও তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এছাড়া সম্ভাব্য নিয়োগদাতা হিসেবে অভিযুক্ত দানিয়েল সিয়াদকে নিয়েও প্যারিসে পৃথক তদন্ত চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বক্তব্য সামনে এলে এপস্টিনের আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। একইসাথে ইউরোপে তার প্রভাব, যোগাযোগ ও সহযোগী নেটওয়ার্কের বিস্তৃত চিত্রও আরো স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।



