হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে লন্ডনে ৩০ দেশের বৈঠক

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাবিদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথটি নিরাপদ করার উপায় খুঁজতে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এতে অংশ নিচ্ছে ৩০টিরও বেশি দেশ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাবিদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

গত সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি দেশ ইঙ্গিত দেয়, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তারা হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক মিশনে যোগ দিতে আগ্রহী। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৫০টি দেশ এ ধরনের একটি প্রস্তাবিত মিশনে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে, ইরান-সঙ্কটকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর মিত্রের প্রয়োজন নেই। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রকাশের পরপরই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে প্রায় ৫০টি দেশ অংশ নেয়। সেখান থেকেই লন্ডনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত আসে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত সপ্তাহের ওই ভার্চুয়াল বৈঠকের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে লন্ডনে এই সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, “এই দুই দিনের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন দিতে কূটনৈতিক ঐকমত্যকে বাস্তবসম্মত যৌথ পরিকল্পনায় রূপ দেয়া।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়ইলের যৌথ হামলা শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স