রাজপরিবারের আর্থিক হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে ব্যক্তিগত কর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। শনিবার বাকিংহাম প্যালেস যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ব্রিটিশ রাজা বা রাণী আইনগতভাবে কিছু কর পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পান। তবে কয়েক দশক ধরে তারা স্বেচ্ছায় কিছু কর দিয়ে আসছেন।
তাদের করের হিসাব প্রকাশেরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে রাজপরিবারের আর্থিক বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে জানান, ব্যক্তিগত কর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকারী প্রথম ব্রিটিশ সম্রাট হতে যাচ্ছেন রাজা চার্লস।
তিনি বলেন, ‘সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে, এর অংশ হিসেবে এবং রাজার নিজস্ব ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাজপরিবারের আর্থিক ব্যবস্থার সব দিক এমনভাবে ব্যাখ্যা করা আমাদের লক্ষ্য, যাতে বিষয়টি আরো স্পষ্ট ও সহজবোধ্য হয়। একইসাথে এর ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা যায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আমরা আধুনিকায়ন ও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি।’
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য বার্ষিক রাজকীয় আর্থিক হিসাবের অংশ হিসেবে চার্লসের কর-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, রাজা বা রাণীকে আয়কর, মূলধনী মুনাফা কর এবং উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না।
তবে ১৯৯৩ সাল থেকে পরলোকগত রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সময় থেকে স্বেচ্ছায় আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ করা হচ্ছে।
২০২২ সালে সিংহাসনে আরোহণের আগে প্রিন্স অব ওয়েলস হিসেবে চার্লসও কত কর দিয়েছেন, তা প্রকাশ করেছিলেন।
মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পর্কের তথ্য প্রকাশের পর থেকে রাজপরিবার নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি মাসে সরকারি নিরীক্ষকেরা জানান, অ্যান্ড্রু দুই দশকের বেশি সময় ধরে একটি প্রাসাদের জন্য নামমাত্র ভাড়া পরিশোধ করে সেখানে বসবাস করেছেন। একই সময়ে তিনি ওই সম্পত্তির কটেজগুলো সাবলেট দিয়ে ব্যক্তিগত আয়ও করেছেন।
রাজপরিবারের সরকারি দায়িত্ব পালনের ব্যয় নির্বাহে যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি প্রতি বছর ‘সোভেরেইন গ্রান্ট’ নামে একটি বরাদ্দ দেয়।
রাজার ব্যক্তিগত আয়ের অন্যতম উৎস হলো ঐতিহাসিক ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট। এটি ভূমি, স্থাবর সম্পত্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও বহুমুখী সম্পদভাণ্ডার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট থেকে রাজা চার্লসের আয় হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ পাউন্ড।



