ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শনিবার এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। পুলিশের অভিযান চলাকালে গুলিতে শেষ পর্যন্ত বন্দুকধারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকো এবং মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।
কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় দিনের আলোতে এই বর্বরোচিত হামলা শুরু হয়। ৫৮ বছর বয়সী হামলাকারী প্রথমে রাস্তায় সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালান এবং পরবর্তীতে নিকটস্থ একটি সুপারমার্কেটে চারজন পণবন্দীসহ নিজে অবস্থান নেন। প্রায় ৪০ মিনিটের বিফল আলোচনার পর বিশেষ পুলিশ বাহিনী দোকানটিতে আক্রমণ চালালে বন্দুকধারীর সাথে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ বাঁধে এবং পণবন্দীদের জীবন রক্ষায় হামলাকারীকে ঘটনাস্থলেই ‘নিষ্ক্রিয়’ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, হামলায় আহত এক শিশুসহ অন্তত ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে উদ্ধারকারীদল চার পণবন্দীকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ব্যক্তি মস্কোর অধিবাসী ছিলেন। তবে তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল তা এখনো পরিষ্কার নয়।
অদ্ভুতভাবে পুলিশের রেকর্ডে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তির কাছে একটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল, যা তিনি গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই নবায়ন করেছিলেন এবং সেই সময়ে তিনি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত সনদপত্রও জমা দিয়েছিলেন।
গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, কোন মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান তাকে এই সুস্থতার সার্টিফিকেট দিয়েছিল এবং কিভাবে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি এমন তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল।
কিয়েভ মেয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হামলাকারী পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি চালিয়েছিল এবং তাকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিলেও বন্দুকধারী তাতে কোনো সাড়া দেয়নি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে খুব দ্রুতই এই ঘটনার পেছনের সব সত্য প্রকাশ করা হবে।
সূত্র : আল জাজিরা



