ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। বৃহস্পতিবার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় প্রায় ২০০ ড্রোন মাঝআকাশেই রুখে দিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন নিজেই এই নজিরবিহীন ও ব্যাপক হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অনবরত এই হামলা ঠেকিয়ে যাচ্ছে। তবে এর মাঝেই বেশ কয়েকটি ড্রোন মস্কোর প্রধান তেল শোধনাগার ‘এমএনপিজে’ পর্যন্ত পৌঁছে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এর আগে গত মে মাসে সর্বোচ্চ ৮১টি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তবে এবারের হামলা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গত এক রাতেই গোটা দেশজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ৫৫৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর থেকে প্রথমবারের মতো যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়, যা যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ঘটলো।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর এই তেল শোধনাগারে হামলার কথা স্বীকার করে একে রাশিয়ার ওপর তাদের ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি মস্কোর তেল শোধনাগারে তাদের দ্বিতীয় আঘাত।
একইসাথে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার রস্তোভ অঞ্চল এবং রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কিছু ইউক্রেনীয় এলাকাতেও সফল হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, মস্কোর শোধনাগার বাদেও রস্তোভের গুডকোভো তেল ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দোনেৎস্ক অঞ্চলের গ্রানিতনে গ্রামের কাছে কালকা নদীর ওপর একটি সড়ক সেতু এবং ক্রিমিয়ার রাজদোল নেনস্কি এলাকায় উত্তর ক্রিমিয়ান খালের ওপর একটি রেল সেতুতেও নিখুঁত আঘাত হেনেছে তাদের বাহিনী।
সূত্র : আনাদোলু



